ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪ , ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঘুষ চাওয়া(ওসি) মাহবুবুল আলমকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত

বাংলার জমিন ডেস্ক :
আপলোড সময় : ১৭-০৯-২০২৩ ০৮:৪৯:২০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৭-০৯-২০২৩ ০৮:৪৯:২০ অপরাহ্ন
ঘুষ চাওয়া(ওসি) মাহবুবুল আলমকে  প্রত্যাহার করে রাজশাহী পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত ফাইল ছবি :
রাজশাহী: মাদক ব্যবসা করতে দেওয়ার জন্য সাত লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া রাজশাহী চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে এক আদেশে চারঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এক গৃহবধূর কাছ থেকে সাত লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার একটি অডিও শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ফাঁস হয়। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া অভিযোগসহ পেনড্রাইভে করে সেই অডিও রেকর্ড পুলিশ সুপারে কাছে দাখিল করা হয়। পরে ওসি মাহবুবুল আলমকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।

রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রফিকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।  

তিনি জানান, এই ঘটনায় তদন্ত জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটিকে দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছয় মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের কথোপকথনের ওই অডিও রেকর্ড সরাসরি ও ডাকযোগে পুলিশের আইজিপি, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির কাছেও পাঠানো হয়েছে। ওই নারীর নাম সাহারা খাতুন (২৮)। তিনি চারঘাটের শলুয়া ইউনিয়নের চামটা গ্রামের আবদুল আলিম ওরফে কালুর স্ত্রী। কালু ডিবি পুলিশের একটি মামলায় ছয় মাস ধরে কারাগারে আটক আছেন।

সাহারা খাতুনের অভিযোগ, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ও র‍্যাবের সোর্স হিসেবে কাজ করেন। চারঘাট উপজেলায় তার স্বামীর দেওয়া তথ্যে অনেক মাদক কারবারিকে র‍্যাব ও পুলিশ আটক করেছে। এতে তার স্বামী ও পরিবারের ওপরে চারঘাটের মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হন। তার স্বামীকে মাদক ও অস্ত্র দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বামীকে গ্রেপ্তারের পর মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর অত্যাচার শুরু করেন।  

১২ সেপ্টেম্বর ওসিকে ফোন দিয়ে তিনি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। ওসি তাকে পরদিন থানায় আসতে বলেন। থানায় গেলে ওসি পাশেই তার কোয়ার্টারে ডেকে নেন তাকে। এ সময় ওসি তার সঙ্গে ওইসব কথা বলেন। তিনি তা কৌশলে রেকর্ড করে রাখেন।

ছয় মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের ওই কথোপকথনে ওই নারীর উদ্দেশে ওসি মাহবুবুল আলমকে বলতে শোনা যায়, 'নির্বাচন করতে মন্ত্রী আমাকে গাইবান্ধা থেকে এখানে নিয়ে এসেছেন। আমি তার কথা ছাড়া কারও কথা শুনি না। ' চারঘাট এলাকায় গিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে মামলা দেওয়ার কারণে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসির সমালোচনা করেন তিনি। এরপর বলেন, 'দুই লাখ টাকা দেন, কালকেই ডিবির ওসিকে বদলি করে দেবো। ' এরপর গৃহবধূ সাহারাকে ওসি বলেন, 'আপনার স্বামী আমার অনেক ক্ষতি করে গেছেন (ওসির বিরুদ্ধে এসপি অফিসে অভিযোগ করেছিলেন)। এবার আপনার পরিবারের কাউকে ধরলে ১০ লাখ টাকার কমে ছাড়াতে পারব না। '
এরপর ওসি বলেন, 'এখনও তোমার গায়ে আঁচড় দেইনি। বহুত ফাঁকি দিয়েছো। সাত লাখ টাকা লাগবে, কালকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে আসবা। এখন সে রকম সময় নয় যে কেউ পয়সা খায় না। সবাই পয়সা খাচ্ছে। এমন কেউ বাদ নেই যে পয়সা খাচ্ছে না। পুরো জেলা পয়সা খাচ্ছে। এখানে আমার থানা চালাতে মাসিক অনেক টাকা লাগছে। আমি স্যারকে কথা দিয়ে এসেছি। স্যারকে বলেছি, এখানে মাদক ছাড়া কিছু নেই। '

ওসি আরও বলেন, 'মুক্তা (চারঘাটের মাদক সম্রাট নামে পরিচিত) অ্যাকশন নিতে পারবে না, শুভ (ছাত্রলীগ নেতা ও মাদক কারবারি) অ্যাকশন নিতে পারবেন না। তোমরা পাঁচ লাখ টাকা দিতে পারবা? ধরে ওদের চালান দিয়ে দেবো। থাকি না থাকি ওদের সাইজ করবো। তোমরা বাইরে থেকে ব্যবসা (মাদক ব্যবসা) করবে। '

রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আতিকুর রেজা সরকার আতিকের আবারও সমালোচনা করে ওসিকে বলতে শোনা যায়, 'নির্বাচনের আগে শুভকে ধরতে পারব না। কথা সব ভেঙে বলব না। কথা সব হয়ে গেল; যদি আতিকের বদলি চাও দুই লাখ টাকা দাও। কালকেই আতিকের বদলি হয়ে যাবে। '

ওসি মাহবুবুল আরও বলেন, ' পাঁচ লাখ আর দুই লাখ ৭ লাখ টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করো। আতিক বাদ, ওই দুইজনকে (মুক্তা ও শুভ) ট্যাকেল দেওয়ার দায়িত্ব আমার। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে মন্ত্রীকে বলে ওই দুইজনকে ধরে অ্যারেস্ট করে চালান করে দেবো। আমার সব ওপরের লাইন। যে টাকা দিবা এই টাকাই ওপরে কাজ করবে। '

অডিওতে গৃহবধূ সাহারার 'সুন্দর চেহারা' নিয়েও মন্তব্য করতে শোনা যায় চারঘাট থানার সদ্য সাবেক ওসিকে।

bangla/news24


 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Jamin

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ