ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলার জমিন ডেস্ক :
আপলোড সময় : ১৬-০৩-২০২৬ ০২:৩৩:০৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৩-২০২৬ ০২:৩৩:০৪ অপরাহ্ন
দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দেশের পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায় ‘সাহাপাড়া খাল’ খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের সূচনা ঘোষণা করেন।

সরকারি সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে নদী, খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে একদিকে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সরকার দেশব্যাপী নদী-নালা ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে আরও সহনশীল ও প্রস্তুত করতে হবে। নদী, খাল ও জলাধারগুলোকে পুনরুদ্ধার করা গেলে দেশের কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদী ও খালগুলো শুধু পানি প্রবাহের মাধ্যম নয়, এগুলো দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে ধাপে ধাপে নদী-নালা-খাল পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন। তারা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধার করা গেলে দেশের পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, মৎস্য সম্পদ সমৃদ্ধ হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সরকার জানিয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ক্রমে নদী, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। এতে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে উঠবে।

এই উদ্যোগকে সরকারের পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Jamin

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ