ঢাকা, ৩০ মার্চ ২০২৬: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক প্রোফাইলের মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি ও ভয় দেখানো একটি উদ্বেগজনক ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, প্রতারকরা প্রথমে ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক প্ল্যাটফর্মে ভুয়া আইডি তৈরি করে, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও কটু মন্তব্য করে। এরপর, ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অর্থ দাবি করা হয়।
উত্তরা থানায় এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। থানার অভিযোগ নাম্বার ২৪৩০ অনুযায়ী, “আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফেক প্রোফাইলের মাধ্যমে প্রথমে হুমকির বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। ভুক্তভোগী অনেক সময় বুঝতে পারেন না যে পোস্টগুলি কারা করেছে। প্রতারকরা সাধারণত পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে ভুয়া আইডি তৈরি করে। এই আইডি দিয়ে তারা সামাজিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার মতো বা ভয় প্রদর্শনের মতো পোস্ট তৈরি করে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, প্রথমে তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু কিছুদিন পর ফেক প্রোফাইলের মালিকরা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে টাকা দাবি শুরু করেন। ফোনে বা চ্যাটে তারা হুমকি দেন যে, যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রদান না করা হয়, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও ক্ষতিকর পোস্ট করা হবে। কিছু ক্ষেত্রে, তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করার ভয়ও দেখানো হয়।
ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফেক প্রোফাইল ব্যবহার করে এই ধরনের প্রতারণা ক্রমবর্ধমান। তারা বলছেন, “প্রতারণাকারীরা খুব সূক্ষ্মভাবে মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগ করে। প্রথমে সামাজিকভাবে ভয় দেখানো হয়, তারপর সরাসরি অর্থ দাবি করা হয়। এটা এক ধরনের সাইবার চাঁদাবাজি।”
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন যে, ফেক প্রোফাইল চিহ্নিত করা এখন তুলনামূলকভাবে সহজ। ব্যবহারকারীরা সাধারণত লক্ষ্য রাখতে পারেন, প্রোফাইলটি নতুন বা খুব সীমিত বন্ধু তালিকা রয়েছে কিনা। পোষ্টের ভাষা বা অনুরোধের স্বরূপও সন্দেহজনক হতে পারে।
এ ছাড়া, হোয়াটসঅ্যাপে টাকা দাবির ক্ষেত্রে সাধারণত তিনটি প্যাটার্ন লক্ষ্য করা গেছে:
- হঠাৎ করে পরিচিত বা অপরিচিতের পরিচয় দিয়ে ভয় দেখানো।
- ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের হুমকি দেওয়া।
- দ্রুত অর্থ প্রেরণ করতে চাপ দেওয়া।
ভুক্তভোগীদের মতে, সচেতনতার অভাবে অনেকেই প্রথমে প্রতারণাকারীদের কাছে অর্থ প্রেরণ করে বসেন। পরে বিষয়টি পুলিশ বা সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রতারকের আসল পরিচয় পাওয়া যায়।
এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, “আপনি যদি এমন কোনো হুমকি বা ফেক প্রোফাইল দেখেন, তাৎক্ষণিকভাবে স্ক্রিনশট নিন এবং পুলিশকে জানিয়ে দিন। অপরিচিত ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত তথ্য বা টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকুন।”
সমাজের সব স্তরের মানুষকে সাইবার প্রতারণা থেকে রক্ষা করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ অপরিহার্য। ফেক প্রোফাইল ব্যবহার করে হুমকি ও অর্থ দাবি প্রতিরোধে সবাইকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।
ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের আলোকে বলা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ থাকাই এখন প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা। সতর্ক না হলে ফেক প্রোফাইল ও হুমকির শিকার হওয়া অনিশ্চিত নয়।