চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগ বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি ও একটি সিএনজি উদ্ধারসহ অবৈধ অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় সিন্ডিকেটের এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক রমিজ আহমদের নেতৃত্বে টিম-০২ এ অভিযানটি পরিচালিত হয়।
সিএমপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বিশেষ অভিযান ডিউটির সময় চান্দগাঁও থানাধীন বহদ্দারহাট মোড়ে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কুয়াইশ কলেজ গেট এলাকা থেকে এক অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী সিএনজি যোগে পাঁচলাইশ থানাধীন বাদুরতলার দিকে আসছে।
সংবাদটি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে অনুমতি নিয়ে বিকেল ৪টা ০৫ মিনিটে চান্দগাঁও থানাধীন সিএন্ডবি বালুর টাল সংলগ্ন সিটি লাইটস পেট্রোল পাম্পের সামনে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়।
এ সময় চট্ট মেট্রো-খ-১৩-১৪৯০ নম্বরের একটি সিএনজিকে থামার সংকেত দিলে সেটি অমান্য করে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করে। পরে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় সিএনজিটি আটক করা হয়।
সিএনজি চালককে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের নাম মো. আলমগীর (৪২) বলে জানান। এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, তার হেফাজতে একটি অবৈধ অস্ত্র রয়েছে।
পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার ভাড়ায় চালিত সিএনজির চালকের সিটের নিচ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং তিন রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত পিস্তলের গায়ে ইংরেজিতে 7.65, 7 RND, MADE IN U.S.A NO.111 KGF লেখা রয়েছে। এর গ্রিপ সোনালি রঙের এবং বাকি অংশ সিলভার রঙের। পিস্তলের দৈর্ঘ্য ২০.৫ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ১২ সেন্টিমিটার, ব্যারেলের দৈর্ঘ্য ১৫.২ সেন্টিমিটার এবং গ্রিপের দৈর্ঘ্য ৯.৭ সেন্টিমিটার।
উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মো. আলমগীরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।