• বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

উত্তাল মিরপুর

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ জুন, ২০২২
  • ৫৪

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকার মিরপুরে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করে গার্মেন্ট শ্রমিকরা। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে মিরপুর ১০, ১১, ১৩ ও ১৪ নম্বর সড়ক দখল করে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। মিরপুর এলাকার বিভিন্ন গার্মেন্টের কয়েক হাজার শ্রমিক এ বিক্ষোভে অংশ নেন। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে মিরপুরজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। রাস্তা অবরোধের সাত ঘণ্টা পর যান চলাচল শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই মিরপুর-১০ ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন শ্রমিকরা। এর মধ্যে বেশকিছু গাড়ি ও আশপাশের ভবনে ভাঙচুর চালায় তারা। দুপুরের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অ্যাকশনে যায় পুলিশ। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় শ্রমিকরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে চারপাশে ছড়িয়ে গেলে সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

এদিকে, সকালে উত্তরার বাসা থেকে মিরপুর হয়ে আগারগাঁও যাওয়ার পথে মিরপুর-১০ নম্বরে বেলা ১১টার দিকে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীরের গাড়ি আটকে দেয় আন্দোলনরত শ্রমিকরা। তার গাড়ি প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এ বিষয়ে ইসির যুগ্মসচিব জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীরসহ অনেকের গাড়ি আটকে রাখায় শতাধিক মানুষ সেখানে দুর্ভোগে পড়েন। এর আগে, বৃহস্পতিবার ও শনিবার মিরপুরে একই দাবিতে বিক্ষোভ করে গার্মেন্ট শ্রমিকরা।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বলছেন, তেল, চিনি, ডালসহ বিভিন্ন জিনিসের দাম বাড়লেও তাদের বেতন বাড়েনি। তারা মালিকদের বেতন বাড়ানোর জন্য বারবার তাগাদা দিয়েছেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি বলে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের দাবি, বেতন বাড়াতে হবে, না হয় নিত্যপণের দাম কমাতে হবে। শনিবার বিকালে শ্রমিকরা বিজিবির একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশের দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামেরও ক্ষতি করে। পরে পুলিশের ধাওয়ায় তারা সড়ক ছেড়ে দেয়। এ বিষয়ে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের এডিসি মো. মাহবুবুর রহমান জানান, সকাল থেকেই পুলিশ আন্দোলনরত শ্রমিকদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু শ্রমিকরা দুপুরের দিকে বিভিন্ন স্থাপনা ও গাড়ি ভাঙচুর করলে তাদের থামানোর চেষ্টা করা হয়। পরে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়। শ্রমিকরা সরে গেলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

 

সূত্র-বিডি নিউজ

ডেস্ক রিপোর্ট/ জান্নাত

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..