• বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৯:১৬ অপরাহ্ন

ভয় পেয়েছিলাম, আল্লাহ আমার চোখ রক্ষা করেছেন: ডা. মুরাদ

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ মে, ২০২২
  • ৪৫

নিজ বাড়ির বৈঠকখানায় সিলিং ফ্যান ছিঁড়ে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা উল্লেখ করে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি বলেছেন, ‘অন্য কোনো কারণ নেই। এটা একটা দুর্ঘটনা।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘আগে কখনো এই রকম ঘটনা ঘটে নাই। অন্যান্য সব ফ্যান ঠিক আছে। ওইখানে প্রায় ৬টা ফ্যান আছে। ৬টা ফ্যানের মধ্যে আমি যেখানে বসেছিলাম শুধু আমার মাথার ওপরে যে ফ্যানটা ছিল ওটাই শুধু খুলে পড়ছে। আরগুলো কিন্তু চলতেছিল, ওগুলো খুলে পড়ে নাই।’

শুক্রবার (১৩ মে) নিজেই ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা সময় নিউজকে এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার গ্রামের বাড়ি দৌলতপুর গ্রামের নিজ বাড়ির বৈঠকখানায় এলাকার অসহায় দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবা শেষে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তার মাথার ওপর থাকা সিলিং ফ্যান ছিঁড়ে পড়ে। ফ্যানে পাখায় চোখের ভ্রুর ওপরে কেটে যাওয়ায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়।

পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, হল রুমের বাইরে আমার উঠানের ওপরে টিনশেড করা ওখানে লাইট ফ্যান আছে। ওখানে বসেই আমি কথা বলতেছিলাম, আমি রোগী দেখতেছিলাম। ওই সময়টাতে আমার বেশ গরম লাগতেছিল। আমার চেয়ারটা একটু সরিয়ে ঠিক ফ্যানের নিচে গিয়ে বসছি, বসার দুই-তিন মিনিটের মধ্যেই ফ্যান অদ্ভুতভাবে, মানে আমি চিন্তাও করতে পারি নাই, এসে খুলে আমার ডান চোখের ভ্রুর ওপরে এমন জোরে একটা আঘাত লাগে আমি ছিটকে পড়ে যাচ্ছিলাম। আমার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা ফ্যানটা ধরেছে, ফ্যানটা না ধরলে আমার আরও ক্ষতি হতে পারত। তো আল্লাহর রহমতে, আল্লাহ নিজে বাঁচাইছে। আল্লাহ নিজে আমার চোখটা রক্ষা করেছেন। আল্লাহ রব্বুল আলামিন এবং আমাদের এই নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে ফ্যান সরিয়ে আমাকে ধরে তুলে আনে। আমার তো এত রক্ত পড়তেছিল যে আমি ভয় পেয়ে যাচ্ছিলাম বড় কোনো ক্ষতির।’

ডা. মুরাদ বলেন, ‘এ অবস্থায় জাস্ট ফ্যানই, অন্য কোনো কারণ নেই। এটা একটা দুর্ঘটনা। একটা জিআই তারের মধ্যে অ্যাঙ্গেল দিয়ে লাগানো ছিল। ওইভাবে এইটা মনে হয় কেউ খেয়াল করে নাই। আগে কখনো এই রকম ঘটনা ঘটে নাই। অন্যান্য সব ফ্যান ঠিক আছে। ওইখানে প্রায় ৬টা ফ্যান আছে। ৬টা ফ্যানের মধ্যে আমি যেখানে বসেছিলাম শুধু আমার মাথার ওপরে যে ফ্যানটা ছিল ওটাই শুধু খুলে পড়েছে। আরগুলো কিন্তু চলতেছিল ওগুলো খুলে পড়ে নাই।’

নিজেকে একজন সেবক দাবি করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মানুষের সেবা করার জন্যই এলাকায় আসি। এলাকায় থাকি। আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। আমাকে জনগণ ভোট দেয়, নির্বাচিত করেছে। এই নির্বাচনী এলাকার মানুষজনই আমাকে বারবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তারা আমাকে ভালোবাসে। আমিও তাদেরকে আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।’

এদিকে এই ঘটনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন ডা. মুরাদের মা। আর এলাকাবাসী জানিয়েছেন, আল্লাহ তাকে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছেন।

সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, তিনি শঙ্কামুক্ত।

গত রোববার ঢাকা থেকে তার নির্বাচনী এলাকার নিজ বাড়িতে আসেন ডা. মুরাদ হাসান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার গ্রামের বাড়ি দৌলতপুর গ্রামের নিজ বাড়ির বৈঠকখানায় এলাকার অসহায় দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবা শেষে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ দুর্ঘটনার শিকার হন।

সূত্র- সময় টিভি

ডেস্ক রিপোর্ট/ জান্নাত

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..