• রবিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন

ছয় দেশ ঘুরে আসামি নোমান এখন ফ্রান্সে

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৭৫

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

সিলেট নগরীর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত যুবক রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছয় পুলিশ সদস্যের সবাই কারান্তরিন। মামলায় পুলিশের বাইরে একমাত্র আসামি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আবদুল্লাহ আল নোমান নামের এক যুবক। হত্যাকাণ্ডের পর ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক পরিবর্তনে সহায়তার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। মামলার প্রধান আসামি বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুইয়ার বন্ধু ছিলেন তিনি। ঘটনার পর পুলিশ, পিবিআই ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা হন্যে হয়ে খুঁজলেও নোমানের সন্ধান পাননি তারা। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ছয় দেশ ঘুরে নোমান এখন অবস্থান করছেন ফ্রান্সে। সেখানে বেশ ভালোই আছেন তিনি। কাজ করছেন একটি ওয়্যারহাউসে।

‘অ্যাসাইলাম’ পেলে পুরো পরিবারকে সেখানে নিয়ে যেতে চান তিনি। ফ্রান্স থেকে নিজের অবস্থান ও বর্তমান অবস্থার কথা জানিয়েছেন নোমান। গত রবিবার হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হয় আবদুল্লাহ আল নোমানের সঙ্গে। অবস্থানের কথা জানতে চাইলে নোমান জানান, ছয় দেশ ঘুরে তিনি এখন ফ্রান্সে অবস্থান করছেন। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে অন্তত ২০০ কিলোমিটার দূরে একটি গ্রামাঞ্চলে তিনি একটি ওয়্যারহাউসে কাজ করছেন। আগে তিনি একটি ফুড ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। প্যারিসে অবস্থানরত বাঙালিদের চোখ এড়াতে তিনি গ্রাম এলাকায় কাজ নিয়েছেন বলে জানান। নোমান আরও জানান, যখন আকবরকে ভারত থেকে ধরে আনা হয়, তখনো তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। রায়হান হত্যাকাণ্ডের পর তিনি সিলেট ছাড়লেও বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। ব্যবহার করেছেন স্মার্ট ফোন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে তার অবস্থান শনাক্তের কোনো সুযোগ ছিল না। প্রযুক্তির কারসাজিতে তিনি ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করলেও শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

দেশে থাকাবস্থায় তিনি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে টাকাও তুলেছেন। রায়হান গ্রেফতারের পর দিনাজপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাড়ি জমান। এরপর ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনা নেন। এ জন্য তিনি ৭৫ হাজার রুপি দিয়ে ভারতীয় পাসপোর্ট করেন। সেই পাসপোর্ট দিয়ে চারটি দেশ ঘুরে সার্বিয়ায় যান তিনি। এরপর আরও দুই দেশ ঘুরে যান রোমানিয়া। সেখান থেকে পৌঁছান ফ্রান্সে। নোমান জানান, ফ্রান্স পর্যন্ত পৌঁছাতে তার প্রায় ২৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইভ্যালিতে মোটরসাইকেলের জন্য বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত পাওয়ায় ওই সময় তার হাতে বেশ কিছু নগদ টাকা ছিল। অর্ধেক টাকা তিনি নিজে সংস্থান করেছেন, বাকি টাকা বন্ধু-বান্ধবরা ধার দিয়েছেন। এখন কাজ করে ঋণ পরিশোধ করছেন। নোমান জানান, তার আর দেশে ফেরার ইচ্ছে নেই। ‘অ্যাসাইলাম’র জন্য সেখানকার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আইনজীবী তাকে আশ্বস্ত করেছেন। ‘অ্যাসাইলাম’ পেলেই পুরো পরিবার ফ্রান্সে নিয়ে যেতে চান নোমান। তবে আপাতত তিনি বেশি মনোযোগী ঋণ পরিশোধে। নোমান সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বুরিডহর গ্রামের স্কুলশিক্ষক মো. ইছরাইল আলীর ছেলে। তার মা বিলকিছ আক্তার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের অধীনস্থ স্বাস্থ্যকর্মী। বাড়িতে নোমানের স্ত্রী ও এক শিশু সন্তান রয়েছে।

রায়হান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ঘটনার দিন সকালে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুইয়া কম্পিউটারের একটি হার্ডডিস্ক পরিবর্তনের কথা বলেন। নোমান কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক দিয়ে মিজান নামের এক টেকনিশিয়ানকে পাঠান। কিন্তু মিজান সেখানে গিয়ে দেখতে পান কম্পিউটার নয়, পরিবর্তন করা হবে সিসি ক্যামেরার ডিভিআরের হার্ডডিস্ক। এরপর মিজান ডিভিআরের হার্ডডিস্ক এনে পরিবর্তন করে। ওই সময় নোমান ফাঁড়ির পার্শ্ববর্তী কুদরত উল্লাহ মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে চা পান করছিলেন। নির্যাতনের চিত্র ধারণকৃত হার্ডডিস্কটি আকবর নিজের জিম্মায় নেন। এরপর আকবর তাকে জানান, হার্ডডিস্কটি তিনি নদীতে ফেলে দিয়েছেন।

নোমানের দাবি বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে আকবর তার সঙ্গে ব্ল্যাকমেইল করেছে। হার্ডডিস্ক পরিবর্তনের সময় তিনি ফাঁড়িতে রায়হানকে নির্যাতনের বিষয়টি জানতেন না। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পুলিশ সুপার খালেদ-উজ-জামান জানান, রায়হান হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। চার্জশিটে আবদুল্লাহ আল নোমানকে পলাতক দেখানো হয়েছে। বর্তমানে সে কোথায় আছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা তথ্য জানা নেই। তিনি বলেন, আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পাশাপাশি, তার সম্পত্তি ক্রোক করার নির্দেশ দিয়েছে। নোমান কোন দেশে আছেন- এর সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আমরা তাকে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১০ অক্টোবর দিবাগত গভীর রাতে সিলেট শহরের আখালিয়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি সেখানে মারা যান। পরদিন তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..