• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

আমাদের জীবন-জীবিকা অবশ্যই করতে হবে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১
  • ১৮৮

পোশাক কারখানা খুলে দেওয়াতে সংক্রমণ বাড়বে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। রবিবার (১ আগস্ট) মহাখালীর বিসিপিএস মিলনায়তনে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ক্লাস উদ্বোধন করে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাহিদ মালেক বলেন, তারা গাদাগাদি করে এসেছে। তিল ধারণের জায়গা ছিল না। এর মাধ্যমে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে।

‘আমরা সেটা স্বীকার করি আর না করি। স্বাস্থ্যবিধি ওখানে কোথাও মানা হয়নি। আমরা আশা করবো এ ধরনের অবস্থা ভবিষ্যতে যেন না হয়’।

সংক্রমণের হার বাড়ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গে কিছুটা হার কমেছে, আর মধ্যাঞ্চলে এখনও স্থিতিশীল অবস্থা রয়েছে, অর্থাৎ হার কমেনি। আর দক্ষিণাঞ্চলে বাড়ছে। যেমন কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেটে বাড়ছে। সেখানে এখনও বাড়ছে।

 শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ দিতে সীমিত সময়ের জন্য লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে ছিল ঢাকামুখী যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়।

আমরা সেবা দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি- জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যতটুকু বেড বাড়ানো সম্ভব, আমরা বাড়িয়েছি। হাসপাতালের ভেতরে আর একটা বেড ঢোকানোর জায়গা নেই। সে কারণে আমরা নতুন ভবনও খুঁজছি, তবে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া ভবন পাওয়া গেলেই হবে না। ডাক্তার, নার্স, যন্ত্রপাতিও থাকতে হবে।

আমরা সেটারও চেষ্টা করছি। প্রতিদিন দুই শ’র মত মানুষ মৃত্যুবরণ করে। প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। করোনাতে দৈনিক শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মৃত্যু-শনাক্ত কমিয়ে আনতে চাই। কিন্তু যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানা হয় তাহলে এটা কমবে না।

তবে একইসঙ্গে আমাদের জীবন-জীবিকা অবশ্যই করতে হবে, মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, জীবনের জন্য জীবিকা দরকার আবার জীবিকার জন্য জীবনও তো থাকতে হবে। এই দুইটা ব্যালেন্স আমাদের করতে হয়। সরকারের সবদিকেই সে ব্যালেন্স করে চলতে হয়। কিন্তু ব্যালেন্স সবসময় রাখা যায় না।

জাহিদ মালেক বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ খুলে দিয়েছিল আবার বন্ধ করে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়াতে কারফিউ দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছিল কিন্তু আবার পরতে বলেছে। অনেক জায়গায় রেস্টুরেন্ট খুলে দিয়েছিল আবার বন্ধ করে দিয়েছে। সবজায়গায় একই অবস্থা। সেজন্য আমাদেরকেও সাবধানে এগুতে হবে। সবকিছু ভেবেই এগুতে হবে যাতে সংক্রমণ বৃদ্ধি না পায়। কারণ সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে মৃত্যুর হার বাড়বে।

 শিল্পকারখানা খোলায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে কর্মস্থলে ফেরা দক্ষিণবঙ্গের শ্রমজীবীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

বিধিনিষেধ থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিধিনিষেধ থাকতে হবে। আমরা তো এখনও করোনা ফ্রি হইনি। আমাদের দেশে এখনও করোনা ঊর্ধ্বমুখী। বিধিনিষেধ অবশ্যই থাকতে হবে। বিধিনিষেধের মধ্যেই তা মেনে কাজ করতে হবে। টিকা কর্মসূচি শুরু করেছি আমরা, এটাও একটা বড় হাতিয়ার করোনার বিরুদ্ধে। টিকা আমরা আগে সেভাবে পাইনি যার ফলে দিতে পারিনি। এখন প্রত্যেক সপ্তাহে টিকা আসছে। আমরা টিকা দেওয়ার একটা বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..