• মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন

কোভিড পরবর্তী শারীরিক-মানসিক সমস্যায় বাড়ছে উদ্বেগ

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৫ জুন, ২০২১
  • ২৮৭

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ

করোনা থেকে সেরে ওঠাদের বেশির ভাগই ভুগছেন কোনো না কোনো জটিলতায়। কোভিড-পরবর্তী শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দীর্ঘমেয়াদেও হয়ে উঠছে উদ্বেগের কারণ। তাই ফলোআপের ওপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। দ্রুত দেশের সব সরকারি হাসপাতালে পোস্ট কোভিড ক্লিনিক খোলার পরামর্শ তাদের।

২০২১ সালের ৩১ মে পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৮ লাখ মানুষ। সিংহভাগই সাধারণ উপসর্গ নিয়ে সুস্থ হলেও এদের একটি অংশ মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে এসেছেন। তবে আক্রান্তের ধরন যেমনই হোক অনেকেই ভুগছেন কোভিড পরবর্তী নানা জটিলতায়। বেশির ভাগই এক থেকে তিন মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হলেও অনেকেই বছরব্যাপী শারীরিক ও মানসিক সমস্যা নিয়ে দিন পার করছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, কোভিড-পরবর্তী সমস্যা স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। উল্লেখযোগ্য একটি অংশের ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং ক্লান্তিতে দীর্ঘমেয়াদেও প্রকাশ পায়। এ ছাড়া কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার বিরূপ প্রভাব পড়ে হার্ট, কিডনি ও লিভারেও।

রেসপিরেটরি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন বলেন, কারোনা হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে যারা অক্সিজেন গ্রহণ করেছেন অথবা যারা আইসিইউতে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং আইসিইউতে যাদের আর্টিফিশিয়াল ভেন্টিলেশনে মানে কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র দেওয়া হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় হার্ট, কিডনি ও লিভারের সমস্যা হয়েছে।      

যাদের হাসপাতালে ভর্তি বা অক্সিজেন নেয়ার ইতিহাস আছে তাদের জন্য চিকিৎসকের ফলোআপে থাকাটা বেশ জরুরি। সুস্থ হওয়ার পরও একটু অসতর্কতায় মৃত্যুও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। তবে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার আগেও যারা নানা রোগে ভুগছিলেন তাদের বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

এদিকে সুস্থ হয়েও তীব্র মানসিক চাপ শারীরিক জটিলতাকে বাড়িয়ে তুলছে বলে মতো মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞদের। তবে কোভিড ব্যাপকভাবে যৌন ক্ষমতা হ্রাস করে তেমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। কিছুটা কমলেও তা মানসিক চাপের কারণেই বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

মনরোগ ও যৌন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শামসুল আহসান মাকসুদ বলেন, করোনা হওয়ার পর অনেকের যৌন ক্ষমতা কমে যায়, তাদের মধ্যে একধরনের অনীহা আসে, একধরনের আতঙ্ক বা দুশ্চিন্তা আসে তাতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে তাবে এটা সাময়িক।   

এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেলে কোভিড-পরবর্তী চিকিৎসার ক্লিনিক স্থাপিত হলেও মাত্র ২ দিন করে খোলা থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। দ্রুত সব কটি সরকারি হাসপাতালে ক্লিনিক খোলার আশ্বাস স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার খুরশীদ আলম বলেন, কোভিড-পরবর্তী চিকিৎসার ক্লিনিক এটাকে এখনো আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে পারিনি। আশা করছি সামনের দিকে করতে পারব।

কোভিড মহামারি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত আক্রান্ত ও লক্ষণ উপসর্গ থাকা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান চিকিৎসকদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..