• বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :

যুগান্তকারী অধ্যায়ে পৌঁছেছে বন্ধুত্ব, অর্থনীতি আরো সংহত করার প্রত্যয়

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০

বাংলারজমিন২৪.কম ডেস্কঃ 

ভারতের সাথে বন্ধুত্ব এখন যুগান্তকারী অধ্যায়ে। সময় এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নে দ্বিপক্ষীয় সুযোগ কাজে লাগানোর। এছাড়া, প্রাপ্ত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উভয় দেশ বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ভ্যালু-চেইন আরো সমৃদ্ধ করতে পারে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, উভয় দেশ বিদ্যমান সহযোগিতামূলক ঐক্যমতের সুযোগ নিয়ে আমাদের অর্থনীতিকে আরো সংহত করে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ভ্যালু-চেইন আরো সমৃদ্ধ করতে পারে। এর অন্যতম উদাহরণ হল ‘চিলাহাটি-হলদিবাড়ি’ রেল সংযোগ পুনরায় চালু করা।’

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় দু দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল এ বৈঠক শুরু হয়। সকালে গণভবন থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও নয়াদিল্লি থেকে যুক্ত হন নরেন্দ্র মোদি। ওই বৈঠকে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময়, নরেন্দ্র মোদি করোনা ভ্যাকসিন সহায়তার ক্ষেত্রেও দু দেশের সম্পর্ককে আরো দৃঢ় বলে আখ্যা দেন। বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বরাবরই প্রাধান্য দেয় ভারত। এসময় মহামারিকালে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ ভারতকে পাশে চায় বলে জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান ও পারস্পরিক নির্ভরতা আমরা আনন্দের সঙ্গে স্বীকৃতি দিই। বেশ কিছু সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবাখাতে নিযুক্ত রয়েছেন এবং তারা ভারতে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী ভারতে যাচ্ছে।

মোদির উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। মাত্র কয়েক মাস আগে আপনাদের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী আমরা উদযাপন শেষ করেছি। বাংলাদেশে আমরা মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে একটি বিশেষ ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছি। আমরা আজ বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ভারতের ডাক বিভাগের একটি স্ট্যাম্পের উদ্বোধন করব।’

এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলো যৌথভাবে উদযাপনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হওয়ায় নরেন্দ্র মোদির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার এবং জনগণের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।

বলেন, ‘ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মানুষ আনন্দ, মুক্তি এবং উদযাপনের চেতনায় উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ভারত সরকার ও জনগণকে জানাই কৃতজ্ঞতা।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর দিনটিকে নিয়ে তার ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করেন।

পরে বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ভারতের ডাকবিভাগের স্ট্যাম্প উদ্বোধন করা হয়। এদিকে, দু নেতার ভাষণের পরপরই দুপুর ১২টার দিকে ‘চিলাহাটি-হলদিবাড়ি’ রেলসংযোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এসময়, আজকের বৈঠকে দু দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যেভাবে এগোচ্ছে, তা প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তাদের এ বৈঠকের আগে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দু দেশের মধ্যে জ্বালানি, সামাজিক উন্নয়ন, কৃষিসহ সাতটি বিষয়ে সহযোগিতার লক্ষ্যে সাতটি কাঠামো চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

 

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..