• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৫:১১ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :

দুখিঃনী ফুলসুরাতের শাপলা ফুলে সংগ্রামী জীবন 

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০
সোহেল রানা,যশোর প্রতিনিধিঃ
শাপলা ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন যশোরের শার্শা উপজেলার এক স্বামী পরিত্যক্তা ফুলসুরাত বিবি। তার দেখাদেখি কাজ না থাকায় মৌসুমের এ সময় বর্তমানে এই পেশায় অনেকেই জড়িয়ে পড়েছেন বলে জানা যায়। কোনো পুঁজির প্রয়োজন না হওয়ায় বিভিন্ন বয়সের লোক ফুলসুরাতের মতো এ পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছেন। বিগত কুড়ি বছর আগে স্বামী তাকে ও তার এক বছরের শিশু সন্তানকে রেখে অন্য জায়গায় সংসার সাজায়। বছর তিন পরে আবারো জীবন সাজাতে দ্বিতীয় বিবাহ করে ফুলসুরাত। সেখানেও আরো একটি সন্তান আসে তার কোল জুড়ে। কিন্তুুর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বামীর সংসারও করা হলোনা তার। প্রথম স্বামীর মতো দ্বিতীয় স্বামীও তাকে ছেড়ে চলে যায়।
অসহায় ফুলসুরাত ছোট ছোট সন্তানদেরকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। বাচ্চাদের মানুষ করতে ফুলসুরাত বিবি অন্যের বাসা বাড়িতে কাজ করে কখনও শাপলা তুলে আবার কখনও কলমি শাক তুলে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করতে থাকে সে। ভাগ্য যখন মন্দ তখন সে কপালে সুখ কি করে থাকবে। সারাটা জীবন রক্ত পানি করে দুবেলা দুমুঠো ভাত খেয়ে না খেয়ে যে সন্তানদেরকে বড় করে তুলেছে সে কলিজার টুকরো বড় ছেলেটিও আজ জনম দুখিনী মাকে ছেড়ে বিবাহ করে অন্য জায়গায় সংসার করছে।ছোট্ট সন্তানটিও আজ বড় হয়েছে। মায়ের মুখে একটু হাসি ফুটাতে পরের দোকানে কাজ নিয়ছে সবে মাত্র। এদিকে ফুলসুরাত বিবির সংগ্রামী জীবনের শেষ সময়েও শারীরিক ভাবে তিনি ভাল নেই। শরীরে বাসা বেঁধেছে নানান রকম ভয়ানক সব অসুখ।
তবুও তাকে দুমুঠো খাবার যোগাড় করতে গিয়ে সেসব রোগের কোন ঔষধ খাওয়াই পড়েনা। দিনে দিনে ফুলসুরাত নড়বড়ে শরীর নিয়ে একটু বেঁচে থাকার আশায় লড়াই করে চলেছেন তিনি। ফুলসুরাত বিবি শার্শা উপজেলার শ্রীরামকাঠি গ্রামের আব্দুল ওহাবের স্ত্রী। বর্তমানে কাজির বেড় গ্রামে অন্যের  আশ্রয় থাকেন তিনি। শাপলা সাধারণত তরকারি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বর্ষায় ডুবে যাওয়া বিভিন্ন ইরি, আমন ধান ও পাটক্ষেতে শাপলা আপনা আপনিই জন্ম গ্রহণ করে।এ ছাড়াও এলাকার খালে ও বিলের পানিতেও শাপলা ফুল ফোটে। এতে সৌন্দর্য আর নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়।
শাপলা ফুল সাধারণত আষাঢ় মাস থেকে শুরু করে কার্তিক মাস পর্যন্ত পাওয়া যায়। তবে মৌসুমের শেষ অর্থাৎ কার্তিক মাসে তেমন বেশি পাওয়া যায় না। পানিতে ডুবে যাওয়া জমিতে ও বিলে ঘুরে ঘুরে শাপলা সংগ্রহ করেন ফুলসুরাতের মতো অনেক মানুষ। শাপলা সংগ্রহকারী ফুলসুরাত জানান, কমপক্ষে ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ মুঠি শাপলা দৈনিক সংগ্রহ করতে পারেন। এরপর কাকে করে গ্রামে গ্রামে সে গুলো বিক্রি করে সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীরে ঘরে ফেরেন তিনি।কখনও সকালে খাওয়া হলে দুপুরে হয়না,আবার কখনও কখনও সকাল দুপুর না খেয়ে কেটে যায় ফুলসুরাতের। বৃহস্পতিবার সকালে  নাভারণে বাদল নার্সারীতে ফ্রি খাবার হোটেলে খেতে আসলে সেখানেই জানান ফুলসুরাত বিবি তার সংগ্রামী জীবনের কথা। পরিশেষে ফ্রি খাবার বাড়িতে তার তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করেন শার্শার কৃতি সন্তান দেশসেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমান।
Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..