• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন

অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম এবং আমাদের বাস্তবতা

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ২৯


বাংলারজমিন২৪কম ডেক্স-

করোনাকালে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে সব চেয়ে বেশি আলোচনা যে বিষয়বস্তুটি নিয়ে তা হচ্ছে ‘অনলাইন ক্লাস’।

অনলাইন শিক্ষা ধারণাটি অতি প্রাচীন না হলেও অতি সাম্প্রতিকও নয়। পাশ্চাত্যের অনেক দেশের অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় এ কার্যক্রম করোনার উদ্ভুত ও অগ্রযাত্রার আগেই শুরু করেছে। ২০০০ সালের প্রথম দশক থেকেই যুক্তরাজ্যের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় গতানুগতিক শিক্ষার পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। তারা দেখলেন ভৌগলিকভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বা যারা ট্রাফিক সমস্যায় জর্জরিত এ অনলাইন কার্যক্রম ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়েছে। যাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ ভৌতিক অবকাঠামো নেই বা যাদের সুশিক্ষিত ও নিবেদিত শিক্ষকমণ্ডলী নেই, তারাও এ পদ্ধতির উপকারভোগী হতে পারেন।

চাকরি কিংবা সন্তান প্রতিপালন করে শিক্ষার্থীরা ইচ্ছে করলে নিজের মন মতো করে সুযোগ ও সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারে। সুতরাং শুধু করোনাকালে শিক্ষা-কার্যক্রমের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনলাইন শিক্ষা জরুরি বিষয়টি কিন্তু শুধু তা নয়।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অভূতপূর্ব সম্প্রসারণে পৃথিবী আজ আক্ষরিক অর্থেই আমাদের হাতের মুঠোয়। তাই বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার আলোয় বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে নিজেকে তৈরী করতে হলেও অনলাইন শিক্ষা-কার্যক্রম নিশ্চিত করতে যথাযথ প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই আমাদের নেয়া উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। যাহোক যা আমরা করতে পারিনি তা নিয়ে আলোচনা না করে এখন কি করা যেতে পারে সে বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনা করা যেতে পারে।

করোনা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সারা পৃথিবীটাই করোনায় ভুক্তভোগী। চিকিৎসা ব্যবস্থায় আমাদের থেকে অনেক উন্নত দেশগুলোও করোনার সামনে অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছে। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের মতো মধ্যম আয়ের দেশের কী অবস্থা হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

 

একদিকে করোনা একটি আকষ্মিক ঘটনা, যার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা আপনার আমার কারোই ছিল না। অন্যদিকে আমাদের অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ আমরা এখনো কার্যকর অর্থে সৃষ্টি করতে পারিনি।
যেহেতু উন্নত বিশ্ব স্বাভাবিক শিক্ষা প্রক্রিয়ার পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম নিয়মিত কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অনেক আগে থেকেই চর্চা করে আসছে, সেহেতু করোনা সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজার পাশাপাশি অনলাইন শিক্ষা-কার্যক্রম নিশ্চিত করা একটি টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা গড়তে আগামীতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সৃষ্টি হবে গতানুগতিক শিক্ষা প্রক্রিয়ার বাইরে নতুন একটি শিক্ষা প্রক্রিয়ার। অর্থ্যাৎ করোনা সমস্যা সমাধানের পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে এ চিন্তায় আর কালক্ষেপণ না করে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা উচিত বলে আমি মনে করি। হয়তো অনলাইন শিক্ষা-কার্যক্রম একদিন আমাদের নিয়মিত শিক্ষা-কার্যক্রমের সঙ্গে দারুণভাবে একীভূত হয়ে যাবে। পাঠদানে গতানুগতিক ক্লাসরুমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে সৃষ্টি হবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বান্ধব শিক্ষার নতুন আরেকটি মাধ্যম।

অনলাইন ক্লাস ব্যবস্থা সব শিক্ষার্থীদের জন্য নিশ্চিত করতে যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে-
* যতদ্রুত সম্ভব মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা শক্তিশালী মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যেতে পারে।

* প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শক্তিশালী মোবাইল ইন্টারনেট নিশ্চিন্ত করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ফ্রি স্টুডেন্ট ডাটা প্যাক নিশ্চিত করা যেতে পারে।
* যাদের অনলাইন ক্লাস উপযোগী ডিভাইস নেই তাদের জন্য শিক্ষার্থী বান্ধব শর্তে ডিভাইস ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

* যে সব অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা টিউশনি বা পার্টটাইম কাজ করে নিজের সঙ্গে পরিবারকে সাপোর্ট করে তাদের জন্য শিক্ষার্থী বান্ধব শর্তে শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অভাবের আঘাতে যেন কোনো মেধা হারিয়ে না যায় সেজন্য শিক্ষার মতো একটি বড় খাতে সব থেকে লাভজনক বিনিয়োগ এখন সময়ের দাবি। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো এগিয়ে আসতে পারে।

অবশ্যই সামনাসামনি ক্লাসের গুরুত্ব বেশি। সামনাসামনি ক্লাস সম্ভব না হওয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে অনলাইন ক্লাস নিশ্চিত করা যায় লেখাটা সেই বিষয়ে। শুধু ভালো লাগছে না কারণে যারা চাইছেন বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হোক তাদের জন্য এ লেখাটি কোনো কাজে আসবে না। মাদ্রাসা খুলেছে, কলকারখানা খুলেছে, শ্রমিকরা কাজ করছে। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কেন খোলা যাচ্ছে না এসব বিষয়গুলো এ লেখার সাথে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়। তাই প্রাসঙ্গিক মতামত আশা করছি।

লেখক: আসিফ তালুকদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ডাকসু এবং সাহিত্য সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..