• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৩১ অপরাহ্ন

সিনহা হত্যায় গণশুনানি চলছে

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৮

বাংলারজমিন২৪কম ডেক্স-

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের হত্যা ঘটনায় টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির গণশুনানি শুরু হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির গণশুনানি চলছে।

সকাল সাড়ে ১১টায় টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে ‘ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের’ নিয়ে এ গণশুনানি শুরু হয় বলে জানান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিজ উদ্দিন।

এ ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, গণশুনানি শুরু হওয়ার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ১১ জন ব্যক্তির নাম নিবন্ধন করা হয়। পরে কমিটির সদস্যরা নিবন্ধিত লোকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করে। গণশুনানি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে গণশুনানিকে কেন্দ্র করে শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ের আশপাশে শত শত উৎসুক জনতা ভিড় করেছেন।

জানা গেছে, সকাল ১০টা থেকে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেরিতে শুরু হয়। শুনানিতে ১১ জন সাক্ষ্য দিতে এসেছেন এছাড়া সাক্ষ্য দেয়ার জন্য মাদ্রাসার একটি শিশুকেও আনা হয়েছে।

শুনানি স্থলের খুব কাছে মেরিন ড্রাইভ লাগোয়া সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ ও সেনাসদস্যরা সকাল থেকে এখানে অবস্থান নেন।

এর আগে ১২ আগস্ট তদন্ত কমিটির সদস্য কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজাহান আলী একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এতে তিনি বলেন, ৩১ জুলাই আনুমানিক রাত ৯টায় পুলিশের গুলিবর্ষণে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে কমিটি গণশুনানির আয়োজন করেছে।

গত শুক্রবার সিনহা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম তদন্তের দায়িত্বভার পেয়েছেন। এর আগে মামলাটি তদন্ত করেন সহকারী পুলিশ সুপার জামিলুল হক।

সিনহা হত্যা মামলার আসামি চার পুলিশসহ সাত জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে র‌্যাব। গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে র‌্যাবের একটি গাড়ি কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে সাত আসামিকে নিয়ে যায়।

আসামিরা হলেন: কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া এবং পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী টেকনাফের মারিশবুনিয়া গ্রামের মো. আইয়াস, নুরুল আমিন ও নাজিম উদ্দিন।

গত বুধবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই সাত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ৩ জুলাই সিনহা মো. রাশেদ খানের সঙ্গে শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও তাহসিন রিফাত নুর কক্সবাজার আসেন ভ্রমণবিষয়ক ভিডিওচিত্র ধারণ করতে। ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তারা জামিনে আছেন।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..