• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৬ অপরাহ্ন

সুন্দরগঞ্জে মেয়েকে পেতে পিতার আকুতি

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০
  • ৯৮

আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ মরুয়াদহ গ্রামের উর্মি আক্তার রেশমা (১০) কে ফিরে পেতে পিতা আঃ রাজ্জাকের আকুতি।

জানা যায়, গত রবিবার (২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২ টায় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে উক্ত গ্রামের মৃত আজাহার আলীর মেয়ে রাজেনা বেগম ও আছমা বেগম এসে আঃ রাজ্জাককে নানান ভয়-ভীতি দেখিয়ে উর্মিকে নিয়ে যান। এ ব্যাপারে বাধা দেয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হন আঃ রাজ্জাক।

উক্ত দক্ষিণ মরুয়াদহ গ্রামের মৃত এন্তাজ আলীর পুত্র আঃ রাজ্জাক জানান, ২০০৮ সালে সামাজিকভাবে বিয়ের ৩ বছর পর বিচ্ছেদ হয়। আঃ রাজ্জাক-আছমার একমাত্র মেয়ে উর্মি আক্তার রেশমা। সে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২য় শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছে। সংসার বিচ্ছেদের আগে আছমা স্বামী ও মেয়েকে রেখে বাবার বাড়িতে গিয়ে আত্নগোপনে থাকে। এরপর সে অন্যত্রে ২য় বিয়ে করে ঢাকাস্থ সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করার কারণে সেখানেই সারা বছর অবস্থান করে। একপর্যায়ে ২য় বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঐ স্বামীকে নিয়ে সংসার করছে। মেয়ে উর্মি আছমার বড় বোন রাজেনা বেগমের বাসায় থাকে। উর্মি সেখানে অযত্নে-অবহেলায় অতি কষ্টে রয়েছে। আঃ রাজ্জাকের কাছ থেকে মেয়ে উর্মির ভরন-পোষণ ও খোরপোশ বাবদ মাসিক ২ হাজার টাকা করে গ্রহণ করেন উর্মির নানী মকিজান বেওয়া। সংসার বিচ্ছেদের পর ঢাকায় অবস্থান অতঃপর ২য় স্বামীকে নিয়ে সংসার করার পরও দাবি করে মেয়ে উর্মিকে নিয়ে গিয়ে অন্যের আওতায় রাখায় আঃ রাজ্জাক নিজ দায়িত্বে মেয়েকে লালন-পালন করতে চান। মেয়ে উর্মিও তার বাবার আওতায় থাকতে ইচ্ছুক।

আঃ রাজ্জাক আরও জানান, উক্ত দিনক্ষণে থানার এসআই রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আকস্মিকভাবে তার বাড়িতে এসে কোনরূপ কাগজপত্র প্রদর্শন না করেই উর্মিকে নিয়ে আছমার বড় বোন রাজেনা বেগমের কোলে দেন। এসময় আছমা, রাজেনা, ছাপড়হাটি ইউনিয়ন জাতীয় কৃষক পার্টির সভাপতি এনামুল হকসহ গ্রামের অনেকেই ছিলেন। এনিয়ে কথা হলে আছমা বেগম প্রথমে ২য় বিয়ের কথা অস্বীকার করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তিনি বলেন, ঢাকার সাভারে গার্মেন্টসে চাকরি করায় সারা বছর সেখানেই থাকতে হয় তাকে। বাবার বাড়িতে তার নিজস্ব ঘর-দরজা নেই। এবারের ঈদে ৭ দিনের ছুটিতে এসেছেন। যে কোন সময় বাবার বাড়ি আসলে মায়ের ঘরে থাকেন।

আছমা, তার বড় বোন রাজেনা বেগম, দুলাভাই মতিয়ার রহমান ও উর্মির সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে কথা বলে জানা গেছে, উর্মি উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর রাজীবপুর (তালের ভিটা) খালা রাজেনা বেগমের বাড়িতে থাকেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে আছমা বেগম জানান, তিনি দেড় বছর আগে থানায় জিডি করেছেন। তাই তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে থানা পুলিশকে ডেকে নিয়ে মেয়ে উর্মিকে তার বাবা আঃ রাজ্জাকের বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছেন। এ ব্যাপারে ছাপড়হাটি ইউনিয়ন জাতীয় কৃষক পার্টির সভাপতি এনামুল হক জানান, এসআই রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একজন কনস্টেবল ছিলেন। সেখানে তিনিসহ পাড়ার অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে এসআই রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কয়েকদফা মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর তার সঙ্গে কথা বলতে চেয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন সারা পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..