• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন

সুন্দরগঞ্জে ইউপি সচিবের রহস্যজনক ভূমিকায় নানান প্রশ্ন

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০
  • ৬৮

আবু বক্কর সিদ্দিক, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর তদারক কর্মকর্তা ও ভাটিকাপাসিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলামের জবাবে অপর তদারক কর্মকর্তা ও ইউপি সচিব সুলতান আহমেদের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে নানান প্রশ্ন।

বিভিন্ন তথ্য নির্ভর সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই তদারক কর্মকর্তা ও উক্ত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে কারণ দর্শনোর লিখিত জবাব দাখিল করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৬,৭,৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের ৫’শ জন হত- দরিদ্র জনসাধারণকে স্বল্পমূল্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান কর্মসূচীর তদারক অফিসার ছিলেন।

তিনি ২০১৬ সালের ২১ অক্টোবর থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত (১ম বার) ও ২০১৮ সালের ১০ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত (২য় বার) ২ দফা অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাতে ডিলার জাহিদুল ইসলামের কোন অনিয়ম পাননি। এরফাকে ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত উক্ত ইউপি সচিব সুলতান আহমেদ তদারক কর্মকর্তা ছিলেন। তাছাড়া, তিনি সে সময়ের ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরগণের সমন্বয়ে প্রণীত তালিকা প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে যাচাই-বাচাই করাসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এরপর তিনি নিজেও তদারক কর্মকর্তা ছিলেন।

তিনি ইউপি সচিব হিসেবে নব-নির্বাচিত (বর্তমান) চেয়ারম্যান ও মেম্বরগণের প্রণীত আরও ১’শ ২৫ জন ও বিভিন্ন অজুহাতে পূর্বের তালিকা প্রণয়ন কমিটির প্রণীত তালিকা থেকে কিছু নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম অন্তর্ভুক্তিতে ইউপি সচিব কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে ছিলেন।

এছাড়া, পূর্বের তালিকা প্রণয়ন কমিটিরও একই পদে ছিলেন। ইউনিয়নের জনসাধারণকে সকল প্রকার সহায়তা (যেমন- ভিজিডি, ভিজিএফ ইত্যাদি) প্রদানের ক্ষেত্রে যেমন- ইউপি সচিবের ভূমিকার বিকল্প নেই। তেমনি ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক সুবিধাভোগী জনসাধরণের তালিকা তারই সংরক্ষণ তিনিই করেন। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ডিলার জাহিদুল ইসলামের কোন কর্তৃত্ব নেই। তিনি প্রণীত তালিকা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট কার্ডধারীদের মাঝে স্বল্পমূল্যে এ চাল প্রদানে বাধ্য।

ইউপি চেয়ারম্যান, সচিবের সঙ্গে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হওয়ায় কিছু ব্যক্তির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বেনামী অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবারে সচিবের মারফত চাল প্রদানের দায়িত্ব অর্পিত হয়। তদারক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও ডিলার জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠে আসায় ডিলারশীপ বাতিল ও ২ দফা তদারক কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এরসঙ্গে সম্পৃক্ত রেখে ডিলারশীপ প্রদানের পূর্বে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব, কর্মসূচী চালুর পর তদারক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন, পরবর্তী তালিকায় উপকারভোগীর সংখ্যা বর্ধিতকরণের তালিকা, পূর্বের তালিকা থেকে নাম পরিবর্তন, ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক সুবিধা প্রদত্ত জনসাধারণের নাম ও পরিবারসহ বর্তমান অবস্থাগত দিক ছাড়াও সার্বিক বিবেচনায় ইউপি সচিব সুলতান আহমেদ যে রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছেন। এ নিয়ে সচেতন মহলের মাঝে উঠেছে নানা প্রশ্ন। এতে ইউপি সচিব সুলতান আহমেদের ভূমিকা ও স্বচ্ছতার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

ডিলার জাহিদুল ইসলাম দাবি করেন তার দায়িত্ব তিনি সঠিকভাবে পালন করেছেন। ছক্কু মিয়া নামসহ যেসব নাম ব্যবহার করে অভিযোগ করা হয়েছে, তা জালিয়াতিমূলক। যেহেতু, উক্ত নামের ব্যক্তিরা অভিযোগ করেননি মর্মে তাদের নামীয় অভিযোগ প্রত্যাহার যেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তর থেকে।

এব্যাপারে কাপাসিয়া ইউপি সচিব সুলতান আহমেদের সঙ্গে কয়েকদফা মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি, ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন জবাব আসেনি। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলা উদ্দিন বসুনিয়া জানান, ইউপি সচিব কর্তৃক স্বল্পমূল্যে চাল প্রদানের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

ইউপি সচিব সুলতাল আহমেদ তালিকা প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব, তদারক কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপকারভোগীদের রেকর্ডপত্র সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার পরও বর্তমানে ডিলার জাহিদুল ইসলামের বিষয়ে যে ভূমিকায় রয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী লুতফুল হাসান জানান, ইউপি সচিব সুলতান আহমেদের ভূমিকা বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা বা তদন্ত কমিটি নিয়োগ করা হবে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..