• শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ‘জ্ঞানের আলো পাঠাগার’

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ১০৫ বার পঠিত

সলিল বিশ্বাস মিঠু ,গোপালগঞ্জঃ

গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের গচাপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র দিনমজুর জাকির হোসেনের মেয়ে জুঁই খানম। এখন তার বয়স ৯ বছর। জন্ম থেকেই হার্টে ছিদ্র নিয়ে বেড়ে উঠছিল সে। মেয়েটি স্থানীয় গচাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী। অর্থাভাবে মেয়েটির চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হয় পরিবার।

তার বড় ভাই চলতি বছরে ৭ম শ্রেণীতে ভর্তি হলেও অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যায় লেখাপড়া। সেখানে মেয়েটির হার্টের অপারেশন করাটা ওদের কাছে ছিল রুপকথার গল্পের মত।

৬ মাস আগে থেকে মেয়েটির শারিরীক অবস্থার চরম অবনতি দেখা দেয়। অসহায় মা সালমা বেগম মেয়েটির চিকিৎসার জন্য আবেদন করেন কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসে কোটালীপাড়ার স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন জ্ঞানের আলো পাঠাগারের। মেয়েটির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা করে ফেসবুকে পোষ্ট করে পাঠাগারটির সদস্যরা। এগিয়ে আসে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

গত ২২ আগষ্ট পাঠাগারটির সদস্যেরা জুঁইকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে ভর্তি করে। ২৫ আগষ্ট ওপেন হার্ট সার্জারীর মাধ্যমে অপারেশন সফল হয়। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে জুঁই আজ রবিবার সকালে নিজ বাড়িতে ফিরে আসে।

জুঁই জানায়, আমার স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শিখে আমি ডাক্তার হব। কিন্তু, অসুস্থতার জন্য ঠিকমত লেখাপড়া করতে পারছিলাম না। জ্ঞানের আলো পাঠাগারের ভাইয়েরা আমার চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে যায়। অপারেশনের পর এখন আমি পুরোপুরি সুস্থ। এখন নিয়মিত লেখাপড়া করে আমার স্বপ্ন আমি পূরণ করব।

জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সভাপতি সুশান্ত মন্ডল জানান, কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমানের কাছে আমরা জুঁইয়ের ব্যাপারে জানতে পেরে জুঁইয়ের বিষয়ে সরজমিনে খোঁজখবর নিয়ে দেখতে পাই জুঁই হত দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান। পরবর্তীতে ফেসবুকে চিকিৎসার আর্থিক সহায়তা চেয়ে পোষ্ট দিলে অনেকেই এগিয়ে আসেন। সেই অর্থ দিয়ে মেয়েটিকে ঢাকায় নিয়ে অপারেশনের ব্যবস্থা করি। সুস্থ হয়ে আজ জুঁই বাড়ীতে ফিরে আসে।

জুঁইয়ের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মততা বাড়ৈ জানান, মেয়েটি খুবই ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির। লেখাপড়ায়ও খুব মেধাবী। মাস ছয়েক যাবত শ্রেণীকক্ষেও প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়তো। অর্থাভাবে তার চিকিৎসা হচ্ছিল না।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফুজুর রহমান জানান, জ্ঞানের আলো পাঠাগার উপজেলার একটি আলোকিত সংগঠন এবং মানব কল্যাণের এক অনন্য উদাহরণ। তারা ফেসবুকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে অসহায় মানুষের পাশে দাড়ায়। জুঁইয়ের চিকিৎসার জন্য একটি আবেদন আমার কাছে আসে। আমি বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকদের সাথে আলাপ করলে তারা জানায় মেয়েটির দ্রুত ওপেন হার্ট সার্জারী অপারেশন করতে হবে। তখন জ্ঞানের আলো পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মনিরুজ্জামান জুয়েলের সাথে বিষয়টি আলোচনা করি। জ্ঞানের আলো পাঠাগার ফেসবুকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে মেয়েটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..