• মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন

সাভারে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি করে “ক্যাফে মেট্রো”র মালিককে হয়রানি!

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০
  • ১১১

বাংলারজমিন২৪ নিজস্ব প্রতিনিধি,

সাভারের স্বনামধ্য রেস্টুরেন্ট ‘ক্যাফে মেট্রো’ এর প্রতিষ্ঠাতা আশরাফুল জামানের কাছে একদল ভূয়া সাংবাদিক ভয় দেখিয়ে চাদা আদায়ের চেষ্টা করছে এমন অভিযোগ করেছেন ঐ রেস্টুরেন্ট এর মালিক আশরাফুল জামান। তিনি বিগত ১০ বছর ধরে সাভারে সুনামের সাথে তার ব্যবসা করে যাচ্ছিলেন। গত কিছুদিন যাবত কিছু অসাধু লোক সাংবাদিক পরিচয়ে তাকে ভয়-ভীতি ও হেনস্থা করে আসছেন। এ বিষয়ে আজ আশরাফুল জামান তার ফেসবুক ওয়ালে সমস্ত ঘটনার বিবরণ প্রকাশ করেন। তার স্ট্যাটাসটি হুবুহু নিচে দেয়া হলো—

——————————————————————————————–

আমার উপর অবিচার
বিচার করবেন আপনারা

প্রিয় সাভার বাসি।আসসালামুয়ালাইকুম। অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে একটা বিরূপ অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাচ্ছি।

আপনারা জানেন, এই করোনা ভাইরাস আমাদের স্বাভাবিক জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে। আমাদের মত যারা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাদের অবস্থা আরো খারাপ। কারণ আমাদের উপর নির্ভরশীল সহকর্মীদের মাস শেষে বেতন দেওয়াটাও অনেক চ্যালেঞ্জের। সামনে আবার ঈদ।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে গত ২০ এবং ২১শে এপ্রিল পরপর দুইদিন সাভার প্রেসক্লাবের দোহাই দিয়ে কোষাধ্যক্ষ সাংবাদিক জনাব তৌকির আহমদ আমার থেকে টাকা দাবি করে। ফোনে আমি তাকে অনুরোধ করলাম যে, সাভার ক্লাবের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সবসময় আছে। সেই সুবাদে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু পারি ২৮ তারিখে পাঠাবো।

মানলেন না। উনি আবারও ফোন করলেন। বলেন যে, তাদের টাকাটা জরুরী দরকার। আমি অপারগতা প্রকাশ করে বললাম, ২৮ এপ্রিল তারিখে আমি পাঠাবো। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত ২৮ তারিখে আমি আমার সহযোগী সোহেলের মাধ্যমে কিছু টাকা পাঠাই।

উনি উক্ত টাকাটা ফেরত দিয়ে আমাকে ফোনে বলেন যে আমি টাকাটা ফেরত দিলাম টাকাটা রাখিনি। আপনার কাছেই রাখেন। এরপর গত ৫ই মে আবারো তিনি ফোন দিলেন। বর্তমান পরিস্থিতির রেফারেন্স দিয়ে আমি অপারগতা জানাই। ৬ই মে সে আবার ফোন করলে আমি ফোন না ধরাতে উনি ৭ থেকে ১০ মিনিটের মাথায় উত্তেজিত হয়ে আামার রেস্টুরেন্টে চলে আসেন।

ইফতারের একটু আগে তিনি চলে আসায় আমি যথারীতি তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে ইফতার করার অনুরোধ করি। ব্যস্ততার মাঝেও বর্তমান পরিস্থিতি এবং দোকান বন্ধ থাকাতে বেতন, ভাড়া, ইলেকট্রিক বিল, আনুষঙ্গিক খরচ স্টাফের রেশন ইত্যাদির পরিপ্রেক্ষিতে উনাকে বোঝাতে চেষ্টা করি আপাতত এই পরিস্থিতিতে আমি তাদের চাহিদামত চাঁদা দিতে পারছিনা।

তৎক্ষণাৎ তিনি উত্তেজিত হয়ে বের হলেন এবং আমার রেস্টুরেন্টের দরজায় পার্ক করা গাড়ি থেকে তিন জন অপেক্ষমান এর মধ্য থেকে একজন (তিনি কোন পত্রিকার আমি জানিনা- আমার জানামতে ফেসবুকে লেখালেখি করেন) সাভার প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব রওশন আলম সিনেমা স্টাইলে আমার রেস্টুরেন্টে ঢুকে আমার অনুমতি ব্যতিরেকে আকস্মিকভাবে উনার স্মার্টফোনে আমাদের ভিডিও রেকর্ড করতে থাকেন।

তা সত্ত্বেও ইফতারের সময় হয়ে আসায় আমার মানবিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে যথারীতি আমি ওনাদেরকে ইফতারের জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু না উনারা ইফতার না করেই রাগান্বিত এবং অগ্নিমূর্তি হয়ে চলে যান।

পরের দিন ওনারা আমাকে নিয়ে করা উক্ত ভিডিও এডিটিং ও কারসাজি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “ঋণ ও কিস্তির চাপ মানুষকে হয় দাসে পরিণত করে, নয়তো সে হয়ে ওঠে দুর্বৃত্ত” এ বিষয়টি লিখে আমাকে হেয় প্রতিপন্নের চেষ্টা করেন।

বোঝেন অবস্থা! তারা চাইলো চাঁদা। আংশিকভাবে চাঁদা অর্থ না পেয়ে লিখল দুর্বৃত্ত। এটাও এক ধরনের ব্লাকমেইলিং।

বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিকভাবে সাভারের রাজনৈতিক অভিভাবক, প্রশাসন, পুলিশ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে অবহিত করি। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।

সম্মানিত প্রিয় সাভারবাসী। দীর্ঘদিন আমি আমেরিকায় বসবাস করেছি। সাংবাদিকদেরকে দেখেছি সব সময় নিপীড়িত জনগণের বন্ধু হিসেবে। কিন্তু এটা কি ধরনের সাংবাদিকতা? এটাতো সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি।

আমি দশ বছর যাবত শান্তিপ্রিয় ভাবে আপনাদেরকে সমীহ করে, সম্মান দিয়ে এবং আপনাদের সম্মান ও ভালোবাসা অর্জন করে সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছি।

আমার আশংকা, এরা যে কোন সময় আমার ও তিলে তিলে গড়ে ওঠা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধন করতে পারে। মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লালন করে আসা আমাদের ইমেজকে ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টাও চালাতে পারে। এমন কিছু হলে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন,সাংবাদিক তথা আপনারাই তার বিচার করবেন।

আশার কথা, সাভার প্রেসক্লাবের নামে এই অনাচার ও চাঁদাবাজির ঘটনা জানতে পেরে প্রেশক্লারের সভাপতি ও সধারণ সম্পাদকসহ অনেকেই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।

আমার মতো আপনাদের কেউ যাতে এমন দুঃসহ সময়ে এতটা তিক্ত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি না হন সেজন্য সচেতন করতে অনেকটা বাধ্য হয়ে,বিবেকের তাড়নায় এ ধরনের বিরূপ অভিজ্ঞতা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করলাম।

আমি বিশ্বাস করি,সকল ক্ষমতার উৎস একমাত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। অতীতে যারা ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়েছেন আল্লাহ তাদের কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করেছেন। ইনশাল্লাহ আমিও হয়তো একদিন এর বিচার পাবো।

সেই শুভ দিনের প্রত্যাশায় আপনাদের সকলের মঙ্গল কামনা করছি। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন
(আমিন)

ফেসবুক লিংক- https://www.facebook.com/ashraf.hossain.16547/posts/588119368496191

 

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..