• বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০, ০১:৪৯ অপরাহ্ন

কুলাউড়া জালালিয়া মাদরাসায় ফের উত্তেজনা, সংঘর্ষে সুপারসহ আহত-৩

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২০
  • ২৭৭ বার পঠিত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
কুলাউড়ার প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান জালালীয়া দাখিল মাদরাসায় ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১১টায় মাদরাসা সংলগ্ন কুলাউড়া-রবিরবাজার সড়কে স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক এবং মাদরাসার প্রাক্তণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধনে মাদরাসার বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির প্রতিবাদ ও যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে জেলহাজত থেকে জামিনে মুক্ত বিতর্কিত সুপার মাওলানা আব্দুস শহীদকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে এলাকার মুরব্বী আব্দুল বাছিত লেবু, পাখি মিয়াসহ মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

মানববন্ধন চলাকালে মাদরাসা সীমানা প্রাচীরের ভেতর দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে ৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। এ ঘটনায় মাদরাসার স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে না আসা পর্যন্ত বিতর্কিত সুপার মাওলানা আব্দুস শহীদ, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সামাদ ও করণিক আলাউদ্দিন আহমদকে মাদরাসায় না আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে বর্তমানে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইবতেদায়ী শিক্ষক মাওলানা শামছুল ইসলাম খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সরেজমিন মাদরাসায় গেলে প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, মাদরাসা স্থগিত কমিটির শিক্ষানুরাগী সদস্য সুয়েব আহমদ, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুস সামাদের শ্যালক এলাইছ মিয়া, সিএনজি চালক শাহীন আহমদসহ প্রায় ১০-১২ জন লাঠিসোঁটাসহ ভারপ্রাপ্ত সুপার মুজিবুর রহমান চৌধুরীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তখন তিনি আত্মরক্ষার্থে তার কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। এসময় কিছু বহিরাগত লোক ও মাদরাসার সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারের কক্ষে ভাংচুর চালায় এবং একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই বলেন, মাদরাসার করণিক আলাউদ্দিন আহমদ তার লোকজন দিয়েই সাইকেল ভাংচুর করেন। খবর পেয়ে কুলাউড়া থানা পুলিশের এস আই মাসুদ আলম ও আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী ও কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়ারদৌস হাসান মাদরাসায় উপস্থিত হন। তখন তারা মাদরাসার শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্যদের নিয়ে আলোচনায় বসেন এবং মাদরাসার স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে না আসা পর্যন্ত সুপার মাওলানা আব্দুস শহীদ, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সামাদ ও করণিক আলাউদ্দিন আহমদকে মাদরাসায় না আসতে নির্দেশ দেন। এদিকে মাদরাসার স্থগিত কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রউফের ইন্ধনে মাদরাসায় আবারো উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সুপার মাওলানা আব্দুস শহীদ দুই মাস কারাবরণ শেষে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জামিনে ফিরলে মাদরাসা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তাকে ফের দায়িত্বে বসানোর পায়তারায় লিপ্ত হন মাদরাসার স্থগিত কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রউফ, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুস সামাদ, করণিক আলাউদ্দিন আহমদসহ একাধিক ব্যক্তি। শনিবার (১৪ মার্চ) সেই বিতর্কিত সুপার আব্দুস শহীদকে দায়িত্ব বহাল রাখার চেষ্টার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপূর্বে মাদরাসা নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ প্রশাসনের নজরে পড়লে মাদরাসার এক শিক্ষকের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ভয়েজ রেকর্ড জব্দ করেন এসআই আব্দুর রহিম।
এদিকে মাদরাসা নিয়ে ষড়যন্ত্রের কথা জেনে গত ১১ মার্চ ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মুজিবুর রহমান চৌধুরী কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (নং- ৫৬৫) করেন। অন্যদিকে বিতর্কিত সুপার মাওলানা আব্দুস শহীদ শনিবার (১৪ মার্চ) কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন বলেও জানা গেছে।

মাদরাসা স্থগিত কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রউফ বলেন, দুই মাস ধরে আমি প্রতিষ্ঠানের ধারে কাছে নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে বলা হয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে। আর ভয়েস রেকর্ডের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতেই পারে তাই বলে কি সবকিছু কি সঠিক। আমি চাই প্রশাসনের সহযোগিতায় এলাকার সবাইকে নিয়ে মাদরাসার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসুক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। শিক্ষকদের মধ্যে আন্তরিকতা অনেক ত্রুটি রয়েছে। মাদরাসার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে ঘটনার সাথে জড়িত চারজনেক মাদরাসায় না আসতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..