• মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

দৌলতখানে দাখিল পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৪০ বার পঠিত

কামরুজ্জামান শাহীন,ভোলা প্রতিনিধি
অবশেষে ভোলার দৌলতখানে দাখিল পরীক্ষার্থী মেয়েকে অপহরণের পর গনধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে রোববার রাতে দৌলতখান থানায় এই মামলা দায়ের করেছেন।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে ভিকটিম দাখিল পরীক্ষার্থী (১৬) কে অপহরণের ৮ ঘন্টা পর ভোলা সদর চরনোয়াবাদ এলাকা থেকে পুলিশ উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন ভিকটিম ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ সংবাদ কর্মীদের ক্যামারার সামনে জানায়, সে দৌলতখান উপজেলার মধ্যজয়নগর গ্রামের ৪নং ওয়ার্ডের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে।

বর্তমানে ভিকটিম মধ্য জয়নগার আজিম রাড়ী হাওলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকরে। তার পরীক্ষা কেন্দ্র দৌলতখান আবিআবদুল্লাহ কলেজে। সে ভোলার পিটিআই এলাকায় তার মায়ের ভাড়া বাসা থেকে গত ১৩ ফেব্রুয়ারী পরীক্ষা দিতে যায় দৌলতখানে। সেদিন সে পরীক্ষা দিয়ে তার সহপার্টিদের সাথে অটোযোগে বাংলাবাজার এসে নামে। বাংলাবাজার বাসষ্ট্যান্ড পৌছলে অজ্ঞাত এক অটোচালক এসে তাকে ভোলা যাবে বলে তার অটোতে উঠায়। তখন ওই অটোতে সামনে ২জন ও পেছনে আরো ২জন অজ্ঞাত যাত্রী বসা ছিল। অটোটি জয়নগর স্কুল সামনে দিয়ে বালিয়া রাস্তার দিকে মোড় দিলে ভিক্টিম আপত্তি জানায়। এসময় অজ্ঞাতরা ভিকটিমের ২পাশে ও সামনে বসে তাকে দেশীয় অস্ত্র দ্বারা হত্যার হুমকী দিয়ে জিম্মি করে বসিয়ে রাখে। সন্ত্রাসীদের এমন তান্ডবে ভিকটিম ভিত হয়ে তার স্বাবাভিক জ্ঞান হাড়িয়ে অচেতন হয়ে পরে। অটোটি তাকে নিয়ে কোন দিকে যাচ্ছে তাও সে সে বলতে পারে না। বিকেল ৩টার দিকে অজ্ঞতরা তাকে অটো থেকে নামিয়ে নির্জন এলাকায় একটি পরিতাক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে সে ওই ঘরে দৌলতখান উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ ইয়াছিন লিটনসহ আরো ৫/৬জনকে দেখতে পায়। এসময় সন্ত্রাসীরা ভিকটিমকে জোড় পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এতে ভিকটিম দৌড় ঝাপ শুরু করলে সন্ত্রাসীরা তার উপর নির্মম ভাবে শারীরীক নির্যাতন চালায়। এতে ভিকটিম অচেতন হয়ে পরলে সন্ত্রাসীরা তাকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। সর্বশেষ সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যার চেষ্টা করলে সেখান থেকে সে পালিয়ে উত্তর পশ্চিম চরনোয়বাদ জৈনিক হারুন কমান্ডারের বাড়ীতে গিয়ে পৌছলে তার স্ত্রী সুরমা বেগম তাকে উদ্ধার করে পুলিশ ও ভিকটিমের পরিবারকে খবর দেয়। সে থেকে ১১ দিন যাবৎ ভিকটিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ খবরটি শুনে ঢাকা থেকে ভোলায় ফুটে আসে জাতীয় গণতান্ত্রিক ঐক্যের সভাপতি লামিনাল ফিহারসহ ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তারা এসে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নিলে ঘটনার ১১ দিন পর পুলিশ মামলাটি থানায় এফআইআর করেন।
এ ব্যাপারে দৌলতখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বজলার রহমান জানায়, ভিকটিমের মা বাদী হয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের চেষ্টায় অভিযোগ তুলে থানায় মামলা দায়ের করেছে। তবে ভিকটিম ধর্ষণ হয়েছে কিনা তা মেডিকেল পরীক্ষার পর দেখা যাবে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইয়াছিন লিটন জানান, আমি এ ঘটনার সাথে জড়িত না। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ভিকটিমের মার সাথে আমার দীর্ঘদিনের শক্রতা রয়েছে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..