• শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

চলতি মাসেই খুলনা আ’লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৫১ বার পঠিত

মো: মাসুদ রানা, খুলনা
সম্মেলনের প্রায় দুই মাস পরে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। সাবেক নেতারা নিজেদের পদ ধরে রাখতে ও নতুন করে কমিটিতে আসতে দৌঁড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। এছাড়াও প্রবীণ নেতাদের নিয়ে মহানগর ও জেলায় শক্তিশালী উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, মহানগর ও জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য যাচাই-বাছাই চলছে। বিগত সময়ে যারা দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে, যাদের কর্মকান্ড দলে প্রশংসিত হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে এমন ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের পদায়ন করা হবে। এছাড়াও যারা নানা অপকর্মের মাধ্যমে দলকে বিতর্কিত করেছেন তাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হবে। মহানগর ও জেলার সহযোগী সংগঠনের একাধিক সাবেক নেতা, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সাথে জড়িত থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অনেক ত্যাগী নেতারাই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পাবেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির আদলে প্রথমবারের মতো মহানগর ও জেলায় পৃথক উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হবে। দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন বর্তমানে বার্ধক্য, চলার সক্ষমতা নেই স্বচ্ছ ইমেজের এমন প্রবীণ নেতারাই উপদেষ্টা কমিটিতে স্থান পাবেন। ২৭ সদস্য বিশিষ্ট এই উপদেষ্টা কমিটি বিভিন্ন সময়ে উপদেশ ও পরামর্শ দিয়ে দলকে সহযোগিতা করবেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা জানান, চলতি মাসেই মহানগরের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রে পাঠানো হবে। এজন্য আমরা কাজ শুরু করছি। ইতোমধ্যে মহানগরের আওতাধীন ৩৬টি ওয়ার্ড কমিটির অধিকাংশ ওয়ার্ডে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০-১২টি ওয়ার্ডে সম্মেলনের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। যা চলতি মাসেই সম্পন্ন করা হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে। বিতর্কিত কাউকে দলে পদায়ন করা হবে না। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করছি। যেখানেই মূল পদে একাধিক প্রার্থী রয়েছে সেখানেই আমরা ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করছি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সুজিত অধিকারী বলেন, জেলায় যারা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে এমন তরুণ ও যুব নেতাদের কমিটিতে রাখা হবে। ভূমি দখল, মাদক ব্যবসা, দুর্নীতির সাথে জড়িত ও কোনো রাজকারকে কোনোভাবে দলীয় পদে আনা হবে না। চলতি মাসেই জেলা কমিটির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হোসেনের কাছে দেওয়া হবে। কেন্দ্র থেকে যাচাই-বাছাই শেষে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্র চাইলে আমাদের দেওয়া তালিকা থেকে কাউকে বাদ বা নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। চূড়ান্ত একটি তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হবে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে আমি কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করে চলতি মাসেই কমিটি অনুমোদনের জন্য এক সাথে ঢাকায় যাব। গতবারের মতো এবারও একইভাবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করে আনা হবে।

মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, অনেকগুলো ওয়ার্ডে আমাদের সম্মেলন করতে হচ্ছে। ওয়ার্ডগুলোর সম্মেলন শেষে মহানগর কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে। এছাড়াও ২৭ সদস্য বিশিষ্ট শক্তিশালী উপদেষ্টা কমিটি করা হবে। বয়সে প্রবীণ দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করেছেন এমন নেতারাই উপদেষ্টা কমিটিতে থাকবেন। তিনি আরও বলেন, খুব শিগগিরই যাচাই-বাছাই ও কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে একই দিন মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেককে সভাপতি ও এমডিএ বাবুল রানাকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং শেখ হারুনুর রশীদকে সভাপতি ও অ্যাড. সুজিত অধিকারীকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাম ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..