• শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন

পুলিশের উদ্যোগে প্রথমবার দৌলতদিয়া যৌনকর্মীর জানাজা-দাফন

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৪৫ বার পঠিত

অনলাইন ডেস্কঃ পল্লী রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া। যেখানে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার বাসিন্দার বসবাস। কিন্তু যৌনকর্মী হওয়ায় মৃত্যুর পর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাদের জানাজা বা দাফন ছাড়াই মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হতো অথবা মাটিচাপা দেয়া হতো।

দীর্ঘদিনের প্রাচীন সেই প্রথা ভেঙে চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারি (রোববার) রাতে দৌলতদিয়া পতিতাপল্লীর প্রবীণ যৌনকর্মী হামিদা বেগমের (৬৫) নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হয়। প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নেয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি বেশ প্রশংসা পায়। এর পেছনে বিশাল অবদান রাখেন গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি আশিকুর রহমান।

এবিষয়ে ওসি আশিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সবারই ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করা উচিত। আমরা যতই পাপী হই না কেন, বিচার করার মালিক একজন (আল্লাহ)। সে দৃষ্টিকোণ থেকে এবং মুসলমান হিসেবে নিজ দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে ওই যৌনকর্মীর নামাজে জানাজার ব্যবস্থা করি। আগামীতে এ রেওয়াজ অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, আগে কোনো যৌনকর্মীর মৃত্যু হলে অমানবিকভাবে নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হতো বা মাটিচাপা দেয়া হতো। এটা তো কোনো ধর্মে নেই। তবে কেন ওটা করা হতো? এছাড়া যৌনকর্মীদের মৃত্যু হলে কোনো মৌলভী জানাজা পড়াতে রাজি হতেন না। কিন্তু ধর্মে তো এটাও নেই যে, পাপী ব্যক্তিদের জানাজা পড়ানো যাবে না। এ বিষয়ে মৌলভীদের কাছে সুনির্দিষ্ট মাসালা জানতে চাইলে তিনি অনেকটা বাধ্য হয়েই জানাজা পড়াতে রাজি হন। ওই দিন রাতেই জানাজা নামাজ পড়ানো হয়। কাজটি সফলভাবে করতে পেরে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করছি।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..