• রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন

আমতলীতে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদওয়ারী শিক্ষক নিয়োগ ও সমন্ময় করার দাবীতে মানববন্ধন

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৩২ বার পঠিত

মো.মিজানুর রহমান নাদিম,বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদওয়ারী শিক্ষক নিয়োগ ও সমন্ময় করার দাবীতেমানববন্ধন করেছে অভিভাবক বৃন্দ। বুধবার সকালে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন কর্র্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন মোঃ হাসান মৃধা, ইফতেখার রসুল সোহাগ প্যাদাসহ অভিভাবকবৃন্দ। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আমতলী উপজেলায় ১৫২টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল থাকায় অত্র উপজেলায় প্রায় সকল শিশুরাই বিদ্যালয়গামী ও প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সন্তোষজনক। কিন্তু সরকারী দলের কতিপয় প্রভাবশালী নেতাদের কারনে উপজেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কোঠাওয়ারী বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বৈষম্য চোঁখে পড়ার মত। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৪০জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ জন শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু সরকারী এ নিয়মকে অমান্য করে পৌরসভার বন্দর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে ২১ জন, একে হাই সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫০২ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে ১৮ জন ও ছুড়িকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৭৬ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে ৯ জন। এ তিনটি বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১৩৬ জন। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী এখানে শিক্ষক থাকার কথা ২৯ জন। বর্তমানে সেখানে শিক্ষক আছে ৪৮ জন। এ সকল বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করে উপজেলার শিক্ষা কমিটির সদস্য ও সরকারী দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের পছন্দের শিক্ষকদের নিয়োজিত রেখেছেন। শিক্ষক সংকটের কারনে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের ঠিকমত পাঠদান করানোই সম্ভব হচ্ছে না।

শহরের বিদ্যালয়গুলোতে স্থাণীয় সরকারী দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে ২০১৭ সালের পূর্বে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয় সমুহের শিক্ষকদের কোঠা কেঁটে শহরের বিদ্যালয় গুলোতে অতিরিক্ত কোঠা তৈরী করে সেখানে শিক্ষক নিয়োজিত রেখেছেন। অপরদিকে পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।

এ বিষয় উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান মুঠোফোনে উল্লেখিত অনিয়মের বিষয়ের সত্যতা আছে বলে স্বীকার করে বলেন, ২০১৭ সালের পূর্বে উপজেলা শিক্ষা কমিটি গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোঠা কেঁটে শহরে নিয়ে আসার কারনে পৌর শহর ও উহার কাছাকাছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কোঠা বেশী রয়েছে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, এ রকম অনিয়ম হলে তা তদন্ত করে সমন্বয় করা হবে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..