• শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন

৯৯৯ নম্বরে কল করলে তো জরুরী সেবা মিলে

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৫৮ বার পঠিত

বাংলারজমিন২৪ডেক্স-
অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাবার পথে সেন্টমার্টিনের কাছে ট্রলারডুবির সময় রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন আব্দুল (২৮) নামে এক যাত্রী। পরে তার দেয়া তথ্যমতে কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে ৭৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে সেন্টমার্টিন সাগরে মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, কোন কিছুর সাথে ধাক্কা খেয়ে ট্রলারটিতে পানি ঢুকে ধীরে ধীরে ডুবে যায়। পরে কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনীর সদস্যরা অনুসন্ধান চালিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭১ জন এবং রাতে ও বুধবার সকালে আরো তিনজনসহ মোট ৭৪ জনকে জীবিত এবং ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। ট্রলারটিতে ১৩৮ জন যাত্রী ছিল বলে কোস্টগার্ডকে জানিয়েছে উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা।

মঙ্গলবার কোস্টগার্ডদের তৎপরতায় জীবিত উদ্ধার ৭১ যাত্রীর একজন আব্দুল (২৮)। তিনি উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা এবং কাজের সন্ধানে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন বলে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন।

ট্রলারটি ডুবে যাচ্ছে দেখে তিনিই রাষ্ট্রীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ কল করেন জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ১৩৮ জন মালয়েশিয়াগামী যাত্রীকে টেকনাফের নোয়াখালী পাড়া সৈকত এলাকা থেকে ছোট ছোট ট্রলারে করে বড় একটি ট্রলারে নিয়ে যায় দালালেরা। ভোররাতের দিকে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণের দিকে গিয়ে প্রবল বাতাসে পড়েন তারা। সামনে এগুনো সম্ভব না হওয়ায় ছেঁড়া দ্বীপের দিকে আসতে গিয়ে ট্রলারটি নিচে কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে তলা ফেটে ট্রলারটিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। এসময় দালাল ও মাঝি-মাল্লারা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পালিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, হঠাৎ মাথায় আসে ৯৯৯ নম্বরে কল করলে তো জরুরী সেবা মিলে। পরে ফোন দিয়ে বাঁচার আকুতি জানালে, সেখান থেকে টেকনাফের কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার সোহেল রানার নম্বর দেয়া হয়। পরে তার সঙ্গে (লে. কমান্ডার সোহেল রানা) ফোনে কথা বলে বিস্তারিত জানান আব্দুল। তবে কোস্টগার্ডের অনুসন্ধানী দল খুঁজে পাওয়ার আগেই ট্রলারটি ডুবে যায়।

উদ্ধার তৎপরতা বিষয়ে টেকনাফের কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার সোহেল রানা বলেন, ভোর ৫টায় মালয়েশিয়াগামী এক যাত্রী কান্নাকাটি করে ফোন দেন ও বাঁচার আকুতি জানান। আব্দুল নামে ওই যাত্রী জানান ১৩৮ জন ট্রলারে করে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। পথে ট্রলারটি পাথরে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যাচ্ছে। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে দুটি অনুসন্ধানী দল কাজে নামে। সকাল ৭টায় ডুবন্ত ট্রলারটিকে খুঁজে পান কোস্টগার্ড সদস্যরা। পরে মঙ্গলবার ৭১ জনকে জীবিত ও ১৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করেন তারা। মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে আরো তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আর বেশকিছু নিখোঁজ রয়েছে বলে দাবি করায়, তাদের উদ্ধারে কাজ করছেন কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, সরকারের ডিজিটাল সেবায় মানুষ উপকৃত হচ্ছে এটা তারই নমুনা। ৯৯৯ সেবাটি না থাকলে আর আব্দুল সেখানে কল না দিলে হয়তো লাশের মিছিল আরো দীর্ঘ হতে পারতো। আল্লাহ তাকে উচিলা হিসেবে ব্যবহার করে হয়তো এতগুলো প্রাণ বাঁচিয়ে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন এলাকায় মালেয়শিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৯ দালালের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। টেকনাফ থানায় দায়ের হওয়া এ মামলায় মঙ্গলবার আটক চার দালালসহ তাদের সহযোগী আরো ১৫জনকে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মঙ্গলবার আটক চার দালালরা হলেন, টেকনাফের নোয়াখালী পাড়ার ফয়েজ আহম্মদ (৪৮), সৈয়দ আলম (২৭), উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আজিম (৩০) এবং বালুখালীর ওসমান (১৭)। তারাও সেই ট্রলারে ছিল।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..