• শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন

বিশ্বকাপ জিতে ফেরার প্রত্যয় ছিল বালাগঞ্জের সাকিবের

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৭৫ বার পঠিত

যুব বিশ্বকাপ ফাইনালে বিজয় ছিনিয়ে এনছে বাংলার যুবরা। আর সেই বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন সিলেটের তরুণ ক্রিকেটার তানজিম হাসান সাকিব। এই সাকিবও মাঠের বাহিরে থাকা বিশ্বসেরা সাকিবের মতোই অনেকটা ‘প্রতিবাদী’। সাকিবের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ।

বিশ্বকাপ জিতে নিজ বাড়িতে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন তানজিম হাসান সাকিব; এমনটাই জানিয়েছেন সাকিবের মা-বাবা। সাকিবে সে স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় সাকিবের মা-বাবা মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে সাকিবের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। সাকিবের বাবা গৌছ আলী স্বপ্ন দেখেন বিশ্ব ক্রিকেটে সাকিব যেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। আর সাকিব যেন অনেক দূর এগিয়ে যাক এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন তার মা সেলিনা পারভীন।

সাকিব ফাইনাল ম্যাচে ২ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। তার আগ্রাসী বোলিংয়ে ম্যাচের প্রথমেই ভারতকে চেপে ধরে বাংলাদেশ। প্রথম ৩ ওভারে একটি ওয়াইড ছাড়া কোনো রান দেননি এই যুবা। ফলে ৩ উইকেটে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব সেরার মুকুট পরল সাকিবের দল।

বালাগঞ্জ ইউনিয়নের তিলকচাঁনপুর গ্রামের গৌছ আলী ও সেলিনা পারভীন দম্পতির ঘরে ২০০২ সালের ২০ অক্টোবর সাকিবের জন্ম। ৩ বোন ১ ভাইয়ের মধ্যে সাকিব ৩য়। পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসেবে সাকিবের প্রতি ভালোবাসার অন্ত নেই। সাকিব উপজেলার আদিত্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি নিয়ে বালাগঞ্জ সরকারি ডিএন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় সাকিব জানতে পারেন অনুর্ধ্ব-১৩ জাতীয় দল গঠনের লক্ষ্যে মৌলভীবাজার জেলা ষ্টেডিয়ামে বাছাই চলছে। মাত্র এক দিন সময় হাতে রেখে বাছাই পর্বে অংশ নিতে সাকিব ছুটে যান মৌলভীবাজার জেলা ষ্টেডিয়ামে। সেখানে সাকিবের বোলিং নৈপুণ্যতা দেখে নির্বাচকরা তাকে বেছে নেন। মৌলভীবাজার থেকে ছুটে চলা চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী ষ্টেডিয়ামে। ৩মাসের বোলিং কোর্স সম্পন্ন করে তিনি বিকেএসপিতে ভর্তি হন। বিকেএসপিতে অনুশীলনে থাকা অবস্থায় সাকিব বাংলাদেশ জাতীয় অনুর্ধ্ব-১৭ ক্রিকেট দলের হয়ে ২০১৬ সালে ভারত এবং অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড ও শ্রীলংকায় ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে যান। এছাড়া সাকিব একাধিক ঘরোয়া ম্যাচেও ক্রীকেটাঙ্গন মাতিয়েছেন।

এদিকে তানজিম হাসান সাকিবের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় আনন্দের বন্যা বইছে। গত সোমবার দিনব্যাপি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আনন্দ উল্লাস করে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। উল্লসিত সমর্থকেরা সাকিবের বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবাকে মিষ্টিমুখ করান। এসময় সমর্থকেরা সাকিব সাকিব বলে জয়ধ্বনী দিয়ে তারা বলেন সাকিবের কৃতিত্বের জন্য বালাগঞ্জসহ আজ সারা দেশের মানুষ বিজয়ানন্দে ভাসছে।

সাকিবের বন্ধুরা বলেন, ক্রিকেটের প্রতি তার এতোটাই আশক্তি ছিল ৬ষ্ঠ-৭ম শ্রেণিতে পড়ার সময় কোথাও কোনো ম্যাচের খবর পেলে সে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে খেলায় চলে যেতো।

সাকিবের চাচাতো ভাই বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মুনিম বলেন, তাকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন রয়েছে আশা করি তার মাধ্যমে সে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..