• রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৪:০৪ অপরাহ্ন

বাজারে আসছে খুলনা ওয়াসার ‘সুন্দরবন’ পানি

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৪৯ বার পঠিত

মো: মাসুদ রানা, খুলনা:
খুব শীগ্রই বাজারে আসছে খুলনা ওয়াসার পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার সুন্দরবন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীতে হাতের নাগালেই পাওয়া যাবে এই পানি। দুর হয়েছে বিএসটিআই’র বাঁধা। বাজারজাত করার জন্য তারা অনুমোদন দিয়েছে। অন্যান্য পানির তুলনায় এই সুন্দরবন আরো উৎকৃষ্ট এবং উন্নত মানের।

খুলনা ওয়াসার একটি সূত্র জানায়, খুলনা ওয়াসা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প’ এর আওতায় সুন্দরবন পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্টের কাজ শেষ হয়েছে গত বছর জুন মাসে। এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ১১ডিসেম্বর। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরী লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই প্লান্টের কাজ করে। যার বরাদ্ধ ছিল ১৯ কোটি ৭৫লাখ ৬৩হাজার ৩৬২টাকা। নগরীর জলীল সরণীর রায়েরমহল এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে সুন্দরবন পিওর ড্রিংকং ওয়াটার প্লান্ট। ১৫.৩৭ কাঠা জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ২য় তলা ভবন। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে এই প্লান্ট। প্রতিদিন যার উৎপাদন ক্ষমতা ৬৪হাজার লিটার এবং ৪৮হাজার বোতল।

সূত্র জানায়,৭টি স্তরে পরিশোধিত ও জীবাণুমুক্ত এবং মনবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় মিনারেল সহযোগি উৎপাদিত হবে সুন্দরবন পিওর ডিংকিং ওয়াটার। খুলনা ওয়াসার অনুমোদিত পরিবেশদের মাধ্যমে বিপণী বিতান, সুপার সপে এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সর্বত্র পাওয়া যাবে এই পানি। বিএসটিআই’র নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করে নিজস্ব সর্বাধুনিক ল্যাবরেটরীতে পানির মান নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং পরীক্ষা মূলক ভাবে বোতল জাত করা হচ্ছে। বিএসটিআই, ডিপিএইচই, আইসিডিডিআরবি, বুয়েট এবং কুয়েট’র ল্যাবরেটরীতেও নিয়মিত পানির গুনাগতমান পরীক্ষা করা হচ্ছে।

সুন্দরবন নামে ৩শ’ মি.লি, ৫শ’ মি.লি, ১লিটার, ২লিটার, ৩লিটার ও ৫লিটার সাইজের পেট বোতল পানি এবং ২০ লিটার জার উৎপাদন ও বাজারজাত করা হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় উৎপাদিত ‘সুন্দরবন’ পানি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, বাস ভবন, হোটেল রেস্তরা, অভিজাত আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে। এই পানির যাবতীয় ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক শতভাগ সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে। সকল সাইজের সুন্দরবন পানি ওয়াসার নিয়োজিত পরিবেশকদের মাধ্যমে কারখানা হতে সরাসরি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। কোন রকম হাতের স্পর্শ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় মেশিনে উৎপাদন হচ্ছে এই পানি।

এক বছর ঠিকাদারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে এই ‘সুন্দরবন’ নামের পিওর ডিংকিং ওয়াটার প্লান্ট। এ সময় ওয়াসার কর্মচারীরা এখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দক্ষ মানব সম্পদে পরিনত হবে। এখন পরিবেশক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ২য়তলা বিশিষ্ট ভবনের নীচ তলায় কারখানা এবং ওপরের তলায় রয়েছে অফিস ও পরীক্ষাগার। এখানে বোতল তৈরী হচ্ছে। প্রতিটি বোতলের গায়ে ও সিপিতে খোদাই করে লেখা রয়েছে খুলনা ওয়াসা। বাজারজাত করণে বিএসটিআই’র অনুমোদন মিলছে।

খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৗশলী এমডি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, একেবারে সুলভ মূল্যে হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে সুন্দরবন নামের এই পানি। বিশুদ্ধ খাবার পানির বিস্বস্ত নাম খুলনা ওয়াসার একটি মান সম্পন্ন পন্য এটি। এই পানি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের চাহিদা পূরণ করবে।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ পিইঞ্জ বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় খুলনা ওয়াসার বেতালজাত পানি উৎপাদন প্লান্ট উৎপাদিত বিশ্বমানের বোতলজাত মিনারেলযুক্ত বিশুদ্ধ খাবার পানি ‘সুন্দরবন’ এই অঞ্চলের মানুষের চাহিদা পূরণ করবে। সরকারি -বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, বাসা বাড়ি, আবাসিক হোটেল ও রেস্তরায় সুন্দরবন নামের এই পানি পান করার জন্য তিনি সকলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..