• শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ হোস্টেলের খাবার বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৯
  • ২৯৩
 চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের হোস্টেলে ১’শ ৬২ জন শিক্ষার্থীর খাবার

স্টাফ রিপোর্টারঃ চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের হোস্টেলে শিক্ষার্থীদের খাবার বিতরনে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
২৫ আগষ্ট রবিবার ওই কলেজে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা এসব অভিযোগ জানান।
অনুসন্ধান করে জানা যায়, প্রতিদিন কলেজের হোস্টেলের ১’শ ৬২ জনের খাবার দেওয়ার কথা রয়েছে।যাদেরকে এই খাবারের মূল্য বাবদ দিনপ্রতি ৬০ টাকা করে দিতে হয়।এই হিসেবে দিনে ৯ হাজার ৭’শ ২০ টাকা এবং মাসে গিয়ে দাড়ায় ২ লক্ষ ৯১ হাজার ৬’শ টাকার খাবার দেওয়ার কথা রয়েছে।কিন্তু হোস্টেলে গিয়ে জানা যায়,১’শ ৬২ জনের খাবার রান্না করার জায়গায় রান্না করা হয় ৩০/৪০ জনের খাবার।
এ তথ্য নিশ্চিত করে হোস্টেলের কুকার লাল মিয়া জানান,আজ ৪০ জনের খাবার রান্না করেছি।এদিকে কুকার লাল মিয়ার এ তথ্য আড়াল করতে মূহুর্তেই কৌশলীভাবে লালা মিয়াকে উত্তর ঠিক করে বলার জন্য বললেন কলেজ হোস্টেলের হল সুপার মোঃ ইকবাল হোসেন খান।তিনি(লাল মিয়াকে)বললেন,কি বললে এটা? ৪০ জন নয় বলো ১’শ ৪০ জন।
এদিকে লক্ষ লক্ষ টাকার খাবার খাওয়ানের কথা থাকলেও তা না করে এ টাকা যাচ্ছে কোথায় আর কেনই বা খাবার খাওয়ানো হচ্ছে না।এবং যা খাওয়ানো হয় তা এতো নিম্নমানের খাবার কেন এ প্রসঙ্গে হল সুপার ইকবাল জানান,আমরা ৩ বেলা শিক্ষার্থীদের খাবার দেই।এর মধ্যে সপ্তাহে ২ দিন অত্যান্ত ভালো খাবার দেই।আজ খাবারে ভাত,আলুর তরকারি ও আলু ভাজি এতো কম কেন?আর এটা তো ২০/৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী খেতে পারবে না!সেইখানে এগুলো কি ভাবে ১৪০ জন খাবে? এমন প্রশ্ন করলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।
কিছুক্ষন পরে তিনি জানান,আজ খাবারের শেষ পর্যায় আপনারা এসেছেন।তাই খাবার কম দেখা যাচ্ছে।এদিকে প্রতিদিন হোস্টলে কতজন শিক্ষার্থী খাবার খাচ্ছে সেই তালিকা চাইলে সেটিও তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,কুকার লাল মিয়ার ছেলে ইউসুফ রোজকার খাবারের হাজিরা লেখার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারনে তা সে ঠিকমতো লিখে না।যেজন্য রোজ কতজন শিক্ষার্থী খাবার গ্রহন করলো সে তথ্যের জায়গা ফাঁক রাখা হয়।যাতে কোন সাংবাদিক এসে জানতে চাইলে তা দ্রুত পূরন করতে ব্যস্ত হয়ে উঠে কুকারের ছেলে ইউসুফ।আর এই অনিয়মটিও এড়াতে হল সুপার ইকবাল সাংবাদিকদের শিক্ষার্থীরা ছুটিতে বা অনুপস্থিত থাকে জানিয়ে সব অনিয়মকে নিয়ম বানিয়ে ধামাচাপা দেন।
এ ব্যপারে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমানের সাথে আলাপ হলে তিনি জানান,শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনকার খাবারের তালিকা আপডেট রাখার কথা রয়েছে।হয়তো কাগজপত্র দিতে দেরি হচ্ছে।এ সময় তিনি খাবার বিতরনের অনিয়ম প্রসঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও মন্তব্য করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..