• রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন

কমে যাচ্ছে সরিষা আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে ভুট্টা

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১০৯ বার পঠিত

মিরাজুল ইসলাম,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: এখন আর মাঠ কে মাঠ জুড়ে সবুজের বুকে খুব একটা দেখা মেলে না সরিষার হলুদ ফুলের। একসময় আবহমান গ্রাম বাংলার মাঠ জুড়ে এ মরসুমে সরিষার হলুদ ফুলে ভরে উঠতো মাঠ কে মাঠ। সরিষার আইল দিয়ে ছুটে চলতো ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা। চুয়াডাঙ্গা জেলার মাঠ থেকে দিন দিন কমে আসছে সরিষার আবাদ। বেড়েই চলেছে ভুট্টার আবাদ।জানাগেছে, এক সময় এ উপজেলায় মাঠের পর মাঠ জুড়ে আবাদ হতো সরিষা,ছোলা মসুর,কলাই এর। মাটির উর্বর শক্তি ও আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে এসব আবাদ করে চাষিরা ভালো ফলন পাচ্ছে না। এখন মাঠ জুড়ে আবাদ হচ্ছে ভুট্টার। কয়েক বছর আগেও চাষিরা তাদের উৎপাদিত সরিষা দিয়ে তেল তৈরি করে পরিবারের রান্না বান্না সহ অন্যান্য কাজে লাগাতো। যা মানব দেহের জন্য খুবই উপকারি। আর এখন সরিষার তেলের পরিবর্তে রান্না সহ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার হচ্ছে সয়াবিন তেল। কৃষি বিজ্ঞানীরা উন্নত সরিষার জাত উদ্ভাবন করে চাষিদের মাঝে উন্নত জাতের সরিষার বিজ সরবারহ করছে। এর পরও চাষিরা আল্প পরিমান জমিতে সরিষার আবাদ করছে। গত বছর দামুড়হুদা উপজেলায় সরিষার আবাদ হয়েছিলো ১৬৪ হেক্টর জমিতে। ভুট্টার আবাদ হয়েছিলো ১৪হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে। চলতি মরসুমে কিছুটা বেড়ে সরিষার আবাদ হয়েছে ৩৮৫ হেক্টর জমিতে ও ভুট্টার আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। ভুট্টা চাষে অধিক ফলন ও লাভবান হওয়ায় ভুট্টা আবাদ অব্যাহত রেখেছে চাষিরা। এ চাষে প্রচুর পরিমানে রাসায়নিক সার লাগে। আর পরিমান মতো সার না দিলে ফলন ভালো হয় না।

কৃষিবিদদের মতে,মাটিতে উচ্চ মাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে দিন দিন মাটি তার উর্বর শক্তি হারাচ্ছে। মাটির উর্বর শক্তি ফিরে পেতে হলে তেল ও ডাল জাতের ফসল বেশি বেশি করে চাষ করতে হবে। সেই সাথে মাটিতে জৈব সার প্রয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা বড়দুধপাতিলা গ্রামের বাবুর আলির ছেলে সরিষা চাষি আলমগীর হোসেন বলেন,চলতি মরসুমে ১বিঘা জমিতে দেশি সরিষার চাষ করেছি। এচাষে খরচ খুবই কম কিন্তু অধিক ফলন ও ভালো বাজার দর না থাকায় এ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অনেক চাষি।

দামুড়হুদার হেমায়েতপুর গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ মালের ছেলে চাষি হাতেম আলি মাল বলেন,কয়এক বছর আগেও আমি ২ থেকে ৪ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করতাম। যা দিয়ে আমাদের পরিবারের খাবার ও ব্যবহারের তেলের চাহিদা পূরণ হতো। বর্তমানে সরিষার ফলন কমে যাওয়ায় আর এ আবাদ করি না। তবে ভালো কোন উন্নত জাতের ফলনশীল বীজ পেলে আবারও এ আবাদ করবো। সরিষার আবাদের পরিবর্তে এখন ভুট্টার আবাদ করি যা থেকে ভালো ফলন ও লাভবান হচ্ছি।

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভো বলেন, সরিষার তেল মানব দেহের জন্য খুবই উপকারি। সরিষার তেল মানব দেহের হজম প্রক্রিয়া দুর্ত করে ক্ষুদা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সরিষার তেল ৭০শতাংশ হিতপিন্ড সংক্রান্ত ঝুকি কমায়। এছাড়াও ব্যাথা ও কাশি উপশমে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। সরিষার তেল চুল ও ত্বকের যন্ত্রে কার্যকরি ভুমিকা রাখে। সরিষার তেল ফ্যাট রোধ করে। সরিষার তেলে -ওমেগা আলফা ৩ ও ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ই ,অ্যমন্ট অক্সিজেন সমৃদ্ধ হওয়ায় স্বাস্থ্য সম্মত তেল বলা হয়। সয়াবিন তেল অ্যান্টি নিউট্রিয়েন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে। যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত পরিমানে সয়াবিন তেল সেবনে ক্যানসার,হাটের সমস্যা সহ ডাইবেটিসের ঝুকি বাড়ায়।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন,গত মরসুমের থেকে এ মরসুমে সরিষার আবাদ বৃদ্ধি হয়েছে। সরিষার আবাদ বৃদ্ধি করতে আমারা চাষিদের সর্বপ্রকার সহযোগিতা করছি। তারই লক্ষ হিসেবে এ মরসুমে উপজেলার পীরপুরকুল্লা ও নাটুদাহ গ্রামের মাঠে সরিষার ক্ষেত্রে মধু আবাদ হচ্ছে। যার কারণে নতুন একটা চাষ সংযোজন হয়েছে। তিনি আরো বলেন ,ভুট্টার আবাদে অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটি তার বুনোদ (উর্বর শক্তি) যা ফলন বৃদ্ধি করে তা নষ্ট হয়ে যায়। মাটিতে তেল ও ডাল জাতীয় ফসল উৎপন্ন হলে নাইটোফিকেশন বৃদ্ধি পাবে। জৈব সার ফসলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জৈব সার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বর শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং ফসলের উৎপাদন বাড়ে। আমাদের দেশে মাটিতে পাঁচ শতাংশ জৈব সার থাকার কথা থাকলেও আমরা মাটি পরিক্ষা নিরিক্ষা করে এক শতাংশ পেয়ে থাকি। তাই মাটিতে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে। দামুড়হুদা উপজেলায় আমরা সরিষা উৎপাদন বৃদ্ধিতে ২১’শ জন কৃষককে নিয়ে একটি সংগঠন করেছি। যারা নিজেরা সরিষা আবাদ করে উৎপাদিত সরিষার তেল প্যাকেট জাত করে বাজারে বিক্রি করবে। যার ফলে এ উপজেলায় সরিষার আবাদ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। সে লক্ষে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..