• রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন

শেষ জামানায় যে সব শাস্তি আজাব

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৬৬ বার পঠিত

বাংলারজমিন২৪/অনলাইন ডেস্কঃ

কুরান-হাদিসে শেষ জামানায় যে সব শাস্তি আজাব প্রকৃতি পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে,
যা হওয়ার তা হয়ে গেছে মানে পাপাচার শেষ সিমানা অতিক্রম করেছে এখন আজাব আর গজব আসার পালা যা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাচ্ছে । হাদিস কুরানের আলোকে, যে সব শাস্তি হবে,

নবীজি (সা:) বলেন, “তারপর আল্লাহর খলীফা মাহদির আবির্ভাব ঘটবে। তোমরা যখনই তাঁকে দেখবে, তাঁর হাতে বাইয়াত নেবে। যদি এজন্য তোমাদেরকে বরফের উপর দিয়ে হামাগুড়ি খেয়ে যেতে হয়, তবুও যাবে। সে হবে আল্লাহর খলীফা মাহদি”। (সুনানে ইবনে মাজা; খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৬৭; মুসতাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫১০)

ইমাম মাহাদির আত্মপ্রকাশ হবে মক্কায়, এই হাদিসে, কেন বরফের উপর দিয়ে হামাগুড়ি খেয়ে যেতে বলা হয়েছে, এতে স্পষ্ট বুঝা যায় আরবে ইমাম মেহেদির আগমনি বছরগুলায় প্রচুর বৃষ্টি হবে এতে পানি জমে পুকুর নদী সৃষ্টি হবে সেইগুলো শীতকালে ঠাণ্ডায় বরফের মত হয়ে যাবে এই কারনে এই কথা বলা হয়েছে। আরবে পানি জমে বরফ হবে তার মানে কি ব্যাপক আবহাওয়া পরিবর্তন হবে বুঝা যায় , ইতি মধ্যে  ২০১৬/১৭ সাল থেকে তুষার পরতে দেখা গেছে ।

শিলা বৃষ্টি ভয়াবহতাঃ সাহল ইবনে সাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুল (সাঃ) বলেছেন, এই উম্মতের জন্য ভুমিধস চেহারা বিকৃতি এবং #শিলা_বৃষ্টি বর্ষণের আজাব হবে ইবনে মাজাহ হাদিস নং – [৪০৬০],
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুল (সাঃ) বলেছেন, এই উম্মতের জন্য ভুমিধস চেহারা বিকৃতি এবং #শিলা_বৃষ্টি প্রকাশ পাবে- ইবনে মাজাহ হাদিস নং – [৪০৬২]
শিলা বৃষ্টি ভয়াবহ ভাবে শুরু হয়েছে, গত দুই বসর এই বসর ও শিলা বৃষ্টিতে গাছের পাতা, টিনের চাল সহ নাই হয়ে যাচ্ছে
শিলা বৃষ্টি হওয়ার কারন- জাকাত না দেয়া, সুদ বৃদ্ধি , ওজন কম দিয়ে মানুশ ঠকান বেবসা

অধিক বজ্রপাত / বজ্রধনি হবে
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন সময় নিকটবর্তী হবে, তখন অধিক বজ্রধনি হবে।নুয়াইম বিন হাম্মাদ: আল ফিতান – ১৭২৬
তার প্রশংসা পাঠ করে, বজ্র এবং ফেরেশতা সভয়ে , তিনি বজ্রপাত করেন, অতঃপর যাকে ইচছা, তাকে তা দ্বারা আঘাত করেন #সুরা রাদ আয়াত ১৩

আবু হুরাইরা রাঃ বলেন আমার বান্দারা যদি আমার বিধান মেনে চলত তবে আমি তাদের রাতের বেলায় বৃষ্টি দিতাম , সকাল বেলায় সূর্য দিতাম এবং কখনো বজ্রপাতের আওয়াজ শুনাতাম না। মুসনদে আহমদ হাদিস নং- ৮৭০৮ , এই হাদিস থেকে বঝা যায়

আল্লাহ বিধান অমান্য করে রাষ্ট্রে প্রতি স্তরে আল্লাহ আইন বিরোধী হুকুম কাজ বাস্তবায়ন / মদ পান / জিনা / আমানতের খেয়ানত সহ যত কুকর্মময় কাজ রয়েছে তার জন্যই এত ঝর বজ্রপাত শাস্তি।

ভুমিকম্প / ভুমি ধস আসার কারন
আবূ মালেক আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সা; ) বলেন আমার উম্মাতের কতক লোক মদের ভিন্নতর নামকরণ করে তা পান করবে। (তাদের পাপসক্ত অবস্থায়) তাদের সামনে বাদ্যবাজনা চলবে এবং গায়িকা নারীরা গীত পরিবেশন করবে। আল্লাহ তা‘আলা এদেরকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দিবেন এবং তাদের কতককে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করবেন। ইবনে মাজাহ -৪০২০

কেয়ামতের আগে বৃষ্টি হবে কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ফসল হবে না। ( মুসনদে আহমাদ)

অর্থাৎ বন্যা বৃষ্টি এত বেশি হবে যে ফসল ত হবেই না উলটা সব ভাসিয়ে নিয়ে যাবে । এশিয়া আফ্রিকা সহ বিভিন্ন দেশে বন্যা ভয়াবহ গত কিছু বসর আগামিতে আর বাড়বে

ভুমিকম্প অগ্নিবায়ু চেহারা পরিবর্তন আজাব যে সব কারনে আসবে ,

আলী ইবন হুজর (রহঃ) ……… আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

গনীমত সম্পদ যখন ব্যক্তিগত সম্পদ বলে গণ্য করা হবে,
যাকাত হবে জরিমানা বলে,
দ্বীনি উদ্দেশ্য ছাড়া ইলম অর্জন করা হবে,
পুরুষরা স্ত্রীদের আনুগত্য করবে, এবং মা‘দের অবাধ্য হবে,
বন্ধূদের নিকট করবে আর পিতাকে করবে দূর,
মসজিদে শোরগোল করবে,
পাপাচারীরা গোত্রের নেতা হয়ে বসবে,
নিকৃষ্ট লোকেরা সমাজ নেতা হবে,
অনিষ্টের আশংকায় একজনকে সম্মান করা হবে,
গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রে বিস্তার ঘটবে,
মদ্যপান দেখা দিবে,
উম্মতের শেষ যুগের লোকেরা প্রথম যুগের লোকদেরকে অভিসম্পাত করবে।

তখন তোমরা অপেক্ষা করবে অগ্নিবায়ু, ভূমিকম্প, চেহারা বিকৃতি, পাথর বর্ষণের আযাবের এবং আরো আলামতের যা পরপর নিপতিত হতে থাকবে, যেমন একটি পুরান হারের সূতা ছিড়ে গেলে একটার পর একটা দানা পড়তে থাকে।
জামে তিরমিজী (ইফাঃ) ২২১৫|

এই হাদিসে যে সব কর্ম কারনে আজাব আসার কথা বলা হয়েছে সব গুলা আলামত ব্যাপক হারে চলছে , আর যে সব শাস্তি কথা বলা হয়েছে – অগ্নিবায়ু, ভূমিকম্প, চেহারা বিকৃতি, পাথর বর্ষণের আযাবের অতি গরম অঞ্চলে লাল বায়ু মিশ্রিত ধুলা ঝর , অত্র অঞ্চলে অনেক ভুমিকম্প হতে দেখা জাচ্চে যেমন- ভারত, অস্ট্রেলিয়া , দুবাই, আফ্রিকা কিছু দেশ , ফিলিপাইন, জাপান ইত্যাদি।

জলে-স্থলে যত বিপর্যয় ঘটছে, তা মানুষের কৃতকর্ম। আল্লাহ তাদের কর্মের কিছু পরিণাম আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সূরা রুম : ৪১)

জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসুল (সা; ) বলেছেনঃ কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে পাপাচার হতে থাকে এবং তাদের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ক্ষমতা থাকা সত্বেও তাদের পাপাচারীদের বাধা দেয় না, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর ব্যাপকভাবে শাস্তি পাঠান।
ইবনে মাজাহ -হাদিস নং ৪০০৯ আবূ দাউদ ৪৩৩৯, আহমাদ ১৮৭৩১

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..