• রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০২:৫৪ অপরাহ্ন

খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে নতুন ভোগান্তি

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১৪৯

মো: মাসুদ রানা, খুলনা:
খুলনায় পাসপোর্ট করতে নতুন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বিশেষ করে ১৮ বছরের উর্ধ্বে যে সকল গ্রাহক জন্মনিবন্ধনের কপি নিয়ে পাসপোর্ট আবেদন করতে যাচ্ছেন তাদের আবেদনপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে না। এ ঘটনায় আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে । পাশাপাশি ১৫ বছরের কম বয়সী পাসপোর্ট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, উর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনা মোতাবেক এই নিয়ম চালু করা হয়েছে।
আর ক্ষুব্ধ আবেদনকারীরা অভিযোগ করেন, বিষয়টি যদি সঠিকভাবে প্রচার করা হত তাহলে ভোগান্তি হত না। পাসপোর্ট অফিসে আসার পর বিষয়টি সবাই জানতে পারছে। এছাড়া জন্মনিবন্ধন অনলাইন হওয়া স্বত্ত্বেও এটা দিয়ে কেন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা যাবে না বিষয়টি পরিষ্কার নয়।

জানা যায়, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালক (পাসপোর্ট) মোঃ শাহাজাহান কবির গতকাল (৮ ডিসেম্বর) এক অফিস আদেশ জারি করেন। যার স্মারক নং ৫৮.০১.০০০০.২০২.০৫.০০৪.১৯/২৪১৬।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি দেশের অভ্যন্তরের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস/বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস সমূহে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থাকা স্বত্বেও তা গোপন করে জন্ম নিবন্ধন প্রদর্শন পূর্বক পাসপোর্টের আবেদন করছেন। এতে নানাবিধ জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। এমতাবস্থায় আবেদনপত্র গ্রহণের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের উর্ধ্বে আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) গ্রহণ সাপেক্ষে আবেদন জমা করতে হবে। এছাড়া ১৫ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে পিতা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জমা সাপেক্ষে আবেদন জমা করতে হবে। পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভেরিফাইড কপি জমা নিতে হবে।

গতকাল নগরীর নূরনগরস্থ খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ১৮ বছরের উর্ধ্বে এমন অনেক আবেদনকারী পাসপোর্টের আবেদন ফরমের সাথে জন্মনিবন্ধনের কপি নিয়ে গেলে তাদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। অথচ এর আগে জন্মনিবন্ধন দিয়েই গ্রাহকরা পাসপোর্ট করতেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, বর্তমান সময়ে জন্মনিবন্ধন অনলাইন হয়ে গেছে। এছাড়া অনেকেই বিভিন্ন কারণে ভোটার হতে পারেনি। তাদের জন্য পাসপোর্ট করা এখন অসাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে ভোটার হওয়ার পরও জাতীয় পরিচয়পত্রের ভেরিফাইড কপি পেতেও দুই থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে। এতে করে মূমুর্ষ রোগী, বিদেশে যেতে আগ্রহী, শিক্ষার্থীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহকদের নতুন করে ভোগান্তি শুরু হয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হওয়া দরকার।

খুলনা জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মাজহারুল ইসলাম বলেন, ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে যারা ভোটার হয়েছেন তারা এখনও সবাই স্মার্ট কার্ড পায়নি। তবে অনলাইন কপি পাচ্ছে। স্মার্ট কার্ড পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হয়। তবে ভোটার হওয়ার জন্য সবসময়ই আবেদন পত্র জমা নেওয়া হয়। জরুরি কাজের জন্য ভোটার হওয়ার পর যথাযথ ভাবে যাচাই বাছাই শেষে অনলাইন কপি পাওয়া যায়। যা দিয়ে নতুন ভোটাররা জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ করতে পারে। তবে অনলাইন কপি পেতে হলেও পনের দিন থেকে ১ মাস সময় লাগে। কারণ নতুন ভোটারের সকল তথ্য যাচাই বাছাই শেষে সার্ভারে আপলোড করার পর অনলাইন কপি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়ে থাকে।

এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, মহাপরিচালকের নির্দেশেই এই নিয়মে এখন থেকে পাসপোর্টের আবেদনপত্র জমা নেওয়া হবে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..