• শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২০, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মতবিনিময়ঃ কুলাউড়াকে জেলা ঘোষণার দাবি

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১০৫ বার পঠিত

আব্দুল কুদ্দুস, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) থেকে:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলাকে দেশের ৬৫তম পর্যটন জেলা ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধমসহ সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত এ জেলায় ৪ উপজেলা, ৩ পৌরসভা, ৩৮টি ইউনিয়ন, ১০টি ছোট বড় নদ-নদী, অর্ধশতাধিক চা বাগানসহ উচু উচু পাহাড়-পর্বত রয়েছে। কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নকে দুটি উপজেলা করা যেতে পারে। এতে ৪টির স্থলে ৫টি উপজেলা নিয়ে হতে পারে প্রস্তাবিত জেলা। আবার কমলগঞ্জকে বাদ দিয়েও ৪টি উপজেলা নিয়ে পর্যটন জেলা হওয়া সম্ভব।

প্রস্তাবিত এই জেলার জনসংখ্যা হবে প্রায় ১১ লাখ। আর জেলার আয়তন হবে ১৬৪৩ দশমিক ৯৭ বর্গকিলোমিটার। তিনটি সংসদীয় আসন (বড়লেখা-জুড়ী, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ) হবে নতুন এই জেলায়। প্রস্তাবিত জেলার নাম হতে পারে কুলাউড়া, হাকালুকি বা মনু অথবা সর্বজন গ্রহণযোগ্য যেকোন একটি। আর নতুন এই জেলা হলে পর্যটকদের যেমন আকর্ষণ বাড়বে ঠিক তেমনি এ খাত থেকে ব্যাপক আয়ও হবে। পাশাপশি অবহেলিত পূর্বাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন আর পরিবর্তন হবে ।

পর্যটন খাতের সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব, পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং জেলার বিশিষ্ট নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন। কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু সর্বপ্রথম বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মতামত তুলে ধরলে মানুষের ব্যাপক সমর্থন পান। তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লিখিত আকারেও পাঠাবেন।
চেয়ারম্যান আরও জানান, পর্যটকদের জন্য যেমন আকর্ষণীয় স্পষ্ট দরকার হয়, ঠিক তেমনি প্রয়োজন হয় সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, মানসম্মত খাবার ও আবাসিক ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা আর গাইডলাইন। কুলাউড়াকে যদি পর্যটন জেলা করা হয়, তাহলে পর্যটকরা এই জেলায় এসে যেসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করবে সেই তালিকায় রয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি, মাধবকুন্ড ও হাম হাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শমসেরনগর বিমান ঘাটি, অর্ধশতাধিক চা বাগান, খাসিয়া পল্লী, দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা, চাতলাপুর স্থলবন্দর, মুড়াইছড়া ইকোপার্ক, ছোট-বড় ১০টি নদী, কালাপাহাড়সহ উচু উচু পাহাড়-পর্বত। এগুলো কুলাউড়া, জুড়ি, বড়লেখা ও কমলগঞ্জে অবস্থিত। তাছাড়া খাসিয়া, গারো, মণিপুরি, শাওতাল, চা শ্রমিক হিন্দু মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের বসবাস রয়েছে। তাই কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, জুড়ি ও বড়লেখা উপজেলা নিয়ে আরো একটি পৃথক জেলা তথা দেশের ৬৫তম জেলা করা হলে পর্যটন খাতের অভাবনীয় সাফল্য আসবে।

এখানকার মানুষের মতে, যোগাযোগ ও মধ্যবর্তী অবস্থান বিবেচনা করে প্রস্তাবিত জেলার হেডকোয়ার্টার হতে পারে কুলাউড়ায়। এতে পর্যটকদের যাতায়াত ব্যয় কমে যাবে অর্ধেক। দেশের যেকোন এলাকা থেকে হেলিকপ্টার, বিমান, ট্রেনে অথবা সড়ক পথে এখানে আসতে পারবেন পর্যটকেরা। এখান থেকে ১ ঘন্টায় জেলার চারিদিকে যাতায়াত সম্ভব। জেলা সদর হলে এই এলাকার নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে উঠবে। ফলে পর্যটকদের আবাসিক সমস্যারও সমাধান হবে।
প্রস্তাবিত জেলার আয়তন আর জনসংখ্যা দেশের অনেক জেলার চেয়ে বেশি হবে। যেমন দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের আয়তন ১৪০৪ দশমিক ৩৩ বর্গকিলোমিটার, রাজবাড়ীর আয়তন ১০৯২ দশমিক ৩০ বর্গকিলোমিটার, দক্ষিণ পশ্চিমের মাগুরার আয়তন ১০৪৯ বর্গকিলোমিটার, চুয়াডাঙ্গার ১১৭০ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটার আর মধ্যাঞ্চলের নারায়ণগঞ্জ জেলার আয়তন মাত্র ৬৮৩ দশমিক ১৭ বর্গকিলোমিটার। এই সবকটির আয়তন প্রস্তাবিত পর্যটন জেলার চেয়ে অনেক কম। এমনি অনেক জেলায় সংসদীয় আসন মাত্র ২টি করে। আর পার্বত্য অঞ্চলে তো একেক জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..