• শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২০, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

এক মাসে ৩০০ কৃষকের আত্মহত্যা

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৬১ বার পঠিত

বাংলারজমিন২৪/অনলাইন ডেস্কঃ ফের কৃষক আত্মহত্যার খবর এল ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে। কিন্তু কারও কোনও হেলদোল নেই। দিনের পর দিন ধরে এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে।

সরকার আসে, সরকার যায়, দিন বদলায় না। বদলায় না সাধারণ মানুষের যন্ত্রণার কাহিনি। আরও একবার সেই রূঢ় বাস্তবের সামনে দাঁড়াল ভারত। তথ্য বলছে, গত এক মাসে মহারাষ্ট্রে আত্মহত্যা করেছেন ৩০০ জনেরও বেশি কৃষক।

ভারতে কৃষক আত্মহত্যা নতুন কিছু নয়। ঋণের জালে জর্জরিত কৃষক আত্মহত্যা করছেন অনেক দিন ধরেই। যা নিয়ে ছবি হয়েছে, গল্প লেখা হয়েছে, রাজনীতিতে উত্থালপাথাল হয়েছে৷ লং মার্চ করেছেন কৃষকেরা। দিল্লিতে এসে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার জন্য ধর্না দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তব বদলায়নি। কৃষকের সমস্যার যে কোনও সুরাহা হয়নি, আরও একবার তা প্রমাণ হয়ে গেল।

মহারাষ্ট্র বরাবরই কৃষক আত্মহত্যাপ্রবণ জায়গা। গত কয়েক বছরে রাজ্যে খরা হয়েছে ভয়ঙ্কর৷ হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। অথচ ফসল ফলানোর জন্য কৃষকেরা যে ঋণ নিয়েছিলেন, সব সময় তা মাফ হয়নি। ফলে দেনায় বিধ্বস্ত কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। এ বছরের বিষয়টি ঠিক উল্টো। পুজোর পর ফসল ঘরে তোলার কিছুদিন আগে অকাল বর্ষণ হয় মহারাষ্ট্রে। আর তাতেই ফের নষ্ট হয় ফসল। মাথায় হাত পড়ে কৃষকদের।

সময়টা ছিল নির্বাচনের। ফলে বিধ্বস্ত কৃষকদের বহু আশ্বাস দিয়েছিলেন রাজনৈতিক নেতারা। ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সামান্য ক্ষতিপূরণই যে যথেষ্ট নয়, রাজনীতিকরা তা আগেও কোনও দিন বোঝেননি, এখনও বোঝেন না। খানিক ক্ষতিপূরণ, সামান্য ঋণ মওকুফ যে সমস্যার সমাধান নয়, ৩০০ কৃষকের আত্মহত্যা তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল।

কৃষক আত্মহত্যার বিরুদ্ধে বহু দিন ধরে লড়াই করছেন বিদর্ভের বিজয় জওয়ানদ্ধিয়া। এই ঘটনার পরে ফের সোচ্চার হয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ”সরকার যদি সত্যিই কৃষকের আত্মহত্যা বন্ধ করতে চায়, তা হলে চাষের পুরো প্রক্রিয়াতেই বদল আনতে হবে। চাষিদের সঙ্গে বাজারের সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে হবে। কারণ, বাজারে খাদ্য দ্রব্য চড়া দামে বিক্রি হলেও চাষিরা তার সুবিধা পান না। সমস্ত মুনাফাই চলে যায় মহাজনের ঘরে। যে দামে এখন চাষিকে ফসল বিক্রি করতে হয়, তাতে এক বছর চাষের ক্ষতি হলেই তাঁরা বিপুল ক্ষতির শিকার হন। ফলে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন৷ সরকার যদি সরাসরি এই বেচাকেনার জায়গায় ঢুকতে পারে এবং চাষিদের মুনাফা বাড়াতে পারে, তাহলেই একমাত্র এই মর্মান্তিক বাস্তব থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।”

সূত্র- ডয়চে ভেলে

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..