• বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

কি মধু আছে দামুড়হুদায়?

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২০
  • ২১৫

মিরাজুল ইসলাম,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির দায়ে ষ্টান্ড রিলিজড চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা প প’র সাবেক কর্মকতা একেএম আসাদুজ্জামান আবারও দামুড়হুদায় ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এদিকে তার পুনরায় দামুড়হুদায় ফেরার পথে জোর আপত্তি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের দ্বয়ের সুপারিশকৃত গনপিটিশন দাখিল করেছে প প’র জেলা-উপজেলার মাঠ পর্যায়ের কর্মচারী সমিতি।

গণপিটিশন সুত্রে জানা যায়,দামুড়হুদায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে উপজেলা পপ’র সাবেক কর্মকতা একেএম আসাদুজ্জামান পেনশন ও পিআরএল রত পরিবার কল্যান সহকারি ফাতেমা খাতুনের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা, সাবিহা খাতুনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা সহ আরও ৫ জনের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে তার পরে তাদের আবেদন ফরমে স্বাক্ষর করেন, উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের প প পরিদর্শক হাসানুল আলম তার স্ত্রীর সিজার অপারেশনের জন্য এবং দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিবার কল্যান সহকারি নুরজাহান খাতুন জিপিএফ ফান্ড থেকে লোনের আবেদন করলে ১ মাস ঘুরিয়ে তাদের কাছ থেকে উৎকোচের বিনিময়ে তাদের করা আবেদন পত্রে স্বাক্ষর করেন, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের প প পরিদর্শক আতিকুর রহমানের বহিঃ বাংলাদেশ ছুটি অনুমোদনের জন্য তার কাছ থেকেও ঘুষ গ্রহন করেন। ১০জন কর্মচারির চিত্তবিনোদন ভাতা অনুমোদনের জন্য তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। স্থায়ী বন্ধাকরন করা মহিলাদের পাওনা টাকা তাৎক্ষনিক পরিশোধের সরকারী বিধান থাকলেও সময়মত পরিশোধ না করা এবং তাদের সাথে অশোভন আচরন করা সহ অধীনস্থ কর্মকর্তা কর্মচারিদের সাথে সবসময় দূর্ব্যবহার করা ছিলো তার নিয়মিত অভ্যাস। অফিসের কাজে বরাদ্ধকৃত ব্যাবহার্য ষ্টেশনারী সামগ্রী না কিনে সেই টাকা আত্মসাত করতেন অহরহ।

এছাড়া দাপ্তরিক আদেশে দামুড়হুদায় বদলী হয়ে আসা নিরাপত্তা প্রহরী রবিউল হককে চাহিদা মতো ৫ হাজার টাকা না দেয়ার কারনে তাকে যোগদান না করিয়ে হয়রানী করেন, পরে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাংসদের সুপারিশ সত্তেও নিরাপত্তা প্রহরী রবিউল হকের কাছ থেকে দাবীকৃত ৫ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে তার পরে যোগদান করান। তার বর্তমান কর্মস্থল বাগেরহাট জেলার শরনখোলা উপজেলায় তিনি অফিসটি খেয়াল খুশি মত চালাতে না পেরে আবারও যে কোন ভাবে দামুড়হুদায় ফিরে আসার জন্য উপরমহলে দেনদরবার শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। দাখিলকৃত গনপিটিশনে আরো জানা যায়, ১৯ শে জুন ২০১৯ তারিখে তিনি দামুড়হুদা থেকে ষ্টান্ড রিলিজড হন, অথচ মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে তিনি আবারও দামুড়হুদায় ফিরে আসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন কেন এটা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে দামুড়হুদা উপজেলা প প’র মাঠ পর্যায়ের কর্মচারী সমিতির সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যেই অসাধু কর্মকর্তা হিসাবে সে প্রমানিত,তাকে অনাকাঙ্খিত ভাবে আবারও দামুড়হুদায় পোষ্টিং দিলে এখানকার মানুষ সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হবে, উপজেলা প প .বিভাগের কর্মচারিগনকে আবারও মানবেতর জীবন যাপন করতে হবে। আমরা আমাদের সমিতির সকল সদস্য কে নিয়ে এ ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর প্রধান কার্যালয়ের উপ পরিচালক (পার্সোনাল) প্রশাসন ইফতেখার রহমান বলেন, যে কোন কর্মকর্তা তার অসুবিধার কথা জানিয়ে বদলীর আবেদন করতেই পারেন, কিন্তু এব্যাপারে সঠিকতা যাচায় বা যৌক্তিকতা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..