• বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন

দ্বিতীয় স্ত্রীর মামলায় জেলে পুলিশ ইন্সপেক্টর সালাউদ্দিন

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ২০৩

সুমন আহম্মেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ

স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে পুলিশ পরিদর্শক মো: সালাউদ্দিনকে। রোববার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আনোয়ার সাদাত তাকে জেল হাজতে প্রেরনের এই আদেশ দেন। সালাউদ্দিন এর আগে কুমিল্লা কতোয়ালী থানার পরিদর্শক তদন্ত ছিলেন।

সালাউদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুব মহিলালীগ নেত্রী তাহমীনা আক্তার পান্না গত ১লা ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন ।এই মামলায় বিচারক সমন জারি করে সালাউদ্দিনকে ১৫ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। সমন অনুসারে রোববার সালাউদ্দিন আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন।

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের মেয়ে তাহমিনা আক্তার পান্নার সঙ্গে ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক চট্টগ্রামের হাটহাজারী উত্তরমাদ্রাসা এলাকার সামসুল আলমের ছেলে সালাউদ্দিনের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ১৫লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়। বিয়ের পর তাহমিনা একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। তার বয়স তিন বছর। গত তিন-চার মাস আগে তাহমিনার কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন স্বামী সালাউদ্দিন। গত ১৫ নভেম্বর সালাউদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসে শ্বশুড় বাড়ির লোকজনের সামনে পুলিশের চাকুরিতে পদোন্নতির কথা বলে আবার ২০লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের ২০লাখ টাকা না দিলে অন্যত্র বিয়ে করবে বলে তাহমিনাকে ভয় দেখান সালাউদ্দিন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাহমিনাকে নাকে মুখে চর-থাপ্পর, কিল, ঘুষিসহ এলোপাথারি মারধর করেন সালাউদ্দিন। পরে স্ত্রী ও সন্তানকে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

ঘটনার পরপর বিষয়টি কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে জানিয়েও কোনো বিচার পাননি তাহমিনা। এজন্য বিচার পাওয়ার আশায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন বলে এজহারে উল্লেখ করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবি তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত বলেন, যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন স্ত্রী তাহমিনা। রোববার আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়াও সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় আরো দুটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তার প্রথম স্ত্রীও মামলা করেছেন তার বিরুদ্ধে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..