• বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন

গল্প “ স্পর্শ ”

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ২৪৪

গল্প “ স্পর্শ ”

……………………………………………

হেদায়েতুল্লার ছেলে রাহুল। গ্রাম জুড়ে হেদায়েতুল্লার খুব নাম ডাক | সবাই তাকে ভালোবাসে । তার কথা শুনে। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা, সে সাথে মহল্লার একটি মসজিদের ইমাম, প্রতি শুক্রবার তিনি সেখানে নামাজ পড়ান। তবে প্রভাব প্রতিপত্তির জন্য নয়, বাস্তবিকই, সকলে তাকে মন থেকে পছন্দ করে, ভালোবাসে তার সুন্দর স্বভাব ও ব্যবহারের জন্য।

কিন্তু হঠাং সবাই তার বিরুদ্ধাচরণ শুরু করল | কেউ এখন আর তার পিছনে নামাজ পড়তে রাজি নয় | দোষ তার- তিনি কেন তার ছেলেকে নামাজ পড়তে নিয়ে আসেন না? আর তার ছেলে নামাজ পড়তে আসতে চাইলে কেন তাকে গৃহ বন্দী করে রাখা হয়?

কোনোভাবেই ছেলেকে কোনো ইবাদত পালন করতে দেয়না হেদায়েতুল্লাহ। এ বিষয় টি আজ মহল্লার কারোরই অজানা নয়। যার নিজের পরিবার বেনামাজী তাহলে কিভাবে আমরা এমন একজন জাহান্নামীর কথা শুনবো? বরং এতদিন যে নামাজ পড়েছি তার পিছনে, বিষয়টি ভাবা যায়! হায়! হায় কি করলাম এতদিন? মহল্লার সবার মুখে মুখে এ কথা।

মহল্লার কেউ আর এখন হেদায়েতুল্লাহর সাথে কথা বলে না। এভাবে দীর্ঘকাল কেটে গেল….. ।

রাহুলের বয়স এখন ১৮। এমন সময় তার বাবা মহল্লার গন্যমান্যসহ সবাইকে তার বাসায় দাওয়াত দিলেন | প্রথমে কেউ আসতে চাইলো না। এমন একজন জাহান্নামী মানুষের সাথে আর কি সম্পর্ক থাকতে পারে? তার আবার কি কথা? কেন শুনবো?

তবে বিশেষ অনুরোধে শুধুমাত্র একবার তার কথা শুনতে মহল্লার মানুষজন রাজি হলো।

সবাইকে সালাম ও অশেষ ধন্যবাদ দিয়ে হেদায়েতুল্লাহ তার কথা শুরু করলেন-‘আপনারা জানেন ঠিক আঠারো বছর আগে তিন মাসের জন্য আমি বাংলাদেশে গিয়েছিলাম |’

-জ্বি, বলে সবাই উত্তর দিল |

‘আপনারা জানেন তখন রাহুলের জন্ম হয়েছিল। আসলে আপনারা আমার প্রতিবেশী হয়েও জানেন না আমার স্ত্রী সন্ত্রাসীদের গুলিতে চিরদিনের জন্য বন্ধ্যা হয়ে গেছে বিয়ের আগেই, সে কোনোদিন মা হতে পারবে না। আমি রাহুলকে বাংলাদেশ থেকে কিনে এনেছিলাম | সনাতন ধর্মাবলম্বী পিতাহীন এ ছেলেটির শেষ সম্বল ছিলো ওর – ‘মা’। আমরা যখন বাংলাদেশে যাই, তখন ওর মা ও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।

এখন আপনারাই বলেন- যেখানে সূরা বাকারার ২৫৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে দ্বীনের(ইসলামে) ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই । সেখানে রাহুলের উপরে কেন বা কি করে চাপিয়ে দিব নামাজ পড়, রোজা রাখ! ইসলাম তো জোর করে চাপিয়ে দেয়ার কিছু নয়। এর শ্রেষ্ঠত্ব তো উপলব্ধি করতে হয় । এখন ও সাবালক হয়েছে, প্রাপ্ত বয়স হয়েছে তাই ওর যেটা ভালো লাগবে সেটিকে ও মেনে চলবে| পরিশেষে বলবো আমার দ্বারা যদি কোনো ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে, কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন কখনো আমাকে তবে ক্ষমা করে দিবেন। আবারও আপনাদের ধন্যবাদ শীঘ্রই আমি এ এলাকা ছেড়ে চলে যাবো আমার রাহুলকে নিয়ে। রাহুলও যদি কোনো ভুল করে থাকে বাবা হিসেবে বলছি ক্ষমা করবেন….’

হেদায়েতুল্লাহর কথা শেষ করার আগেই সবাই চিৎকার দিয়ে উঠলো,’ না হুজুর, আপনি কোনো ভুল করেননি, ভুল তো আমরা করেছি। আর যে ভুল করেছি তা ক্ষমারযোগ্য নয়। আপনি কোথাও যেতে পারবেন না। আপনি আগামী সপ্তাহ থেকে আবার মসজিদে নামাজ পড়ানো শুরু করবেন। আপনার মতো জ্ঞানী ব্যক্তিরা আমাদের ছেড়ে চলে গেলে আমাদের হাবিয়া জাহান্নামে যেতে হবে। আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য একটু প্রার্থনা করেন যাতে আমরা সঠিক পথে চলতে পারি।’

লেখক: মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন
শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..