• শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

ডাকসু নেতা ও ইভিনিং কোর্সের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপতি

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১২৬

মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনঃ

ইভিনিং কোর্সের কারণে বিশ্বদ্যিালয়গুলো সন্ধ্যার পরে মেলায় পরিণত হয়। বাণিজ্যিক ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের কারণে দেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এখন দিনে ‘সরকারি’ আর রাতে ‘বেসরকারি’ চরিত্র ধারণ করেছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য মো. আবদুল হামিদ।

৯ ডিসেম্বর (সোমবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি শিক্ষকদের সমালোচনা করে বলেন, কিছু শিক্ষক নিয়মিত কোর্সের ব্যাপারে অনেকটা উদাসীন। কিন্তু ইভিনিং কোর্স, ডিপ্লোমা কোর্স, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়ার ব্যাপারে তারা খুবই সিরিয়াস। কারণ, এগুলোতে নগদ প্রাপ্তি থাকে।

সান্ধ্যকালীন কোর্সের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কি পরিমাণ টাকা আদায় করা হয় তার উদাহরণ তুলে ধরে আচার্য বলেন, “আমি শুনেছি, তাদের একটা বিষয় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস। এতে তাদের ২২টা কোর্স। প্রতি কোর্সে সাড়ে ১০ হাজার টাকা। এতে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকার ওপরে হয়। এর অর্ধেক শিক্ষকরা পায়, আর অর্ধেক বিভাগ পায়। বিভাগের টাকা কী হয় জানি না, কিন্তু শিক্ষকরা পাচ্ছে। আমি এটাও জানি, যাদের শুধু পিএইচডি আছে, শুধু তারাই ক্লাস নেয়।”
সান্ধ্যকালীন কোর্সের প্রতি নাখোশ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলন, “মনে রাখবেন, বিশ্ববিদ্যালয় চলে জনগণের টাকায়। সুতরাং, এর জবাবদিহিও জনগণের কাছে।

ডাকসু নেতাদের কর্মকাণ্ডে নাখোশ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “ডাকসু নেতাদের কর্মকাণ্ড আমার ভালো লাগে না। তাদের উচিত ছাত্রদেরকে কল্যাণের কাজে প্রাধান্য দেয়া। তাদের নিয়ে এখন নানান কথা শোনা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে নানা ভোগান্তি হচ্ছে। এ বিষয়ে তো ডাকসু নেতাদেরই কথা বলার ছিল, আমি বলব কেন?”
এ সসয় গত মার্চে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচন নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “ডাকসু নির্বাচনের নানান ত্রুটির কথা আমি শুনতে পেয়েছি। আশা করি , আগামীতে এ রকমের ভুল ত্রুটি হবে না।”

ভেজাল ওষুধ ও ওষুধ তৈরিতে নানা কারসাজির বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, মেডিসিন বিদেশের জন্য একভাবে তৈরি করা হয়, ঢাকার জন্য এক ভাবে তৈরি করা হয়, গ্রামাঞ্চলের মানুষের জন্য আরেক ভাবে তৈরি করা হয় ছাত্রসমাজকে বিষয়টি রুখে দাঁড়াতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া অনাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও শিক্ষার্থীদের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়া করে জ্ঞান অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, লাশ হয়ে বা বহিষ্কৃত হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য নয়। আমি আশা করব ভবিষ্যতে কর্তৃপক্ষ সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নেবে।’

স্নাতক ও গবেষকদের হাতে সনদপত্র তুলে দিয়ে আব্দুল হামিদ বলেন, ‘তোমাদের মা-বাবা অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। এমন অনেক পরিবার আছেন যারা সর্বস্ব দিয়ে তাদের ছেলেমেয়েদের মানুষ করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান। তোমাদের মূল দায়িত্ব হলো লেখাপড়া করা এবং দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলা। তোমরা এমন কোনো কাজ করবে না যাতে তোমাদের পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সম্মান ক্ষুন্ন হয়।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও গবেষণা সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো কোনো শিক্ষালয় নয়। বাঙালির ইতিহাসের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগ। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের ইতিহাসে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬ এর ছয় দফা, ’৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান, সর্বোপরি ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।’

এবারের ৫২তম সমাবর্তন বক্তা ছিলেন জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কসমিক রে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. তাকাকি কাজিতা। ২০১৫ সালের নোবেলজয়ী তাকাকি কাজিতাকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব সাইন্স’ ডিগ্রি প্রদান করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহিদুল্লাহ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিনেট সদস্য, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা।

সমাবর্তন শেষেও ঢাবি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্পট ঘুরে এখনও তারা ফটোসেশান করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..