• শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন

দাফনের প্রায় ৫ মাস পর তরুণীর লাশ উত্তোলন

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৯৬

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সড়ক দুর্ঘটনা নয়, মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, মায়ের অভিযোগে আদালতের নির্দেশে লাশ দাফনের প্রায় ৫ মাস পর ময়নাতদন্তের জন্য আদমপুরস্থ গুড নেইবারস বাংলাদেশ মৌলভীবাজার সিডিপির এসএস সার্পোটার স্বেচ্ছাসেবী কর্মী তরুণী লিজা আক্তার (২২) এর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরীন চৌধুরী, শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওসি (তদন্ত) অরুপ কুমার চৌধুরী, কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রের ডাক্তার নাহিমা আক্তার ও কমলগঞ্জ থানার এসআই ফরিদ মিয়ার উপস্থিতিতে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের পুর্ব আদকানী পারিবারিক কবরস্থান থেকে কিশোরীর লাশ উত্তোলন করা হয়। কবর থেকে লাশটি তোলার পর ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ২১ জুলাই বিকালে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর-কোনাগাঁও সড়কে দ্রুতগতির চলন্ত মোটরসাইকেলের পিছন থেকে ছিটকে পড়ে গুরুত্বর আহত হয়ে পরে হাসপাতাল নেওয়ার পর এনজিও কর্মী তরুণীর মৃত্যু হয়। সে সময় ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু সম্পতি ওই এনজিও কর্মী তরুণী লিজার মা আলেমা বেগম বাদী হয়ে গত ২৪ আগষ্ট সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩নং আমল আদালত, মৌলভীবাজার এ মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং ৩২৫/ ২৪/১০/১৯)। এ মামলার প্রেক্ষিতে আদালত লাশের ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন। মেয়ে লিজা আক্তার বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গুড নেইবারস এর মৌলভীবাজার সিডিপির এসএস সার্পোটার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে বিগত ২১ জুলাই প্রজেক্ট ম্যানেজার জন বৃগেন মল্লিক ও প্রোগ্রাম ইনচার্জ জীবন্ত হাগিদকসহ অন্যান্য সহকর্মীদের দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির কারণে নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করে। মামলা সূত্রে জানা যায়, সেদিন বিকাল ৩ টায় অফিসের কাজে লিজা পূর্ব কোনাগাঁও যায়। রিকশা বা সিএনজি যোগে যাওয়ার সূযোগ থাকলেও প্রজেক্ট ম্যানেজার জন বৃগেন মল্লিক (৪০) ও প্রোগ্রাম ইনচার্জ জীবন্ত হাগিদকে লিজা আপত্তি জানানোর পরও জোরপূর্বক ধমক দিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অনিচ্ছা স্বত্তেও ফখরুল ইসলাম শাকিল ড্রাইভিং ও লাইসেন্সবিহীন একজন অদক্ষ সহকর্মীর মোটরসাইকেলে যেতে বাধ্য করা হয়। যে বিভিন্ন সময়ে লিজার সাথে ঝগড়া বিবাদ ও অশোভন আচরণ করে থাকতো। লিজা বারবার বাঁধার দেয়ার পরও কোন ভ্রুক্ষেপ না করে দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালানো অবস্থায় পিছন দিকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে ফেলে দিলে লিজা মাটিতে ছিটকে পড়ে গুরুত্বর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যায়।

লিজার মা আলেমা বেগম অভিযোগে আরও জানান, আমার মেয়েকে (লিজার মৃত্যুতে) প্রায় পাগল থাকাকালীন সময় জন ব্রিগেন মল্লিক ও জীবন্ত হাগিদক আমার ছেলে ওবায়েদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে পরিকল্পিত হত্যার ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যু বলে ভুল বুঝিয়ে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া তড়িঘড়ি করে আমাকে দিয়ে কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে লাশ দাফন সম্পন্ন করে।

এ কারণে দোষীদের শাস্তির দাবিতে আদালতে মামলা করেছি। আমার মেয়ের দাফন শেষে কয়েক দিন পর অফিসে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা জানতে পারি। তখন ঢাকায় সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টর মাইনুদ্দিন মাইনুল হেড অফিসে খবর দিয়ে নেন এবং তিনি এ হত্যাকান্ড নিয়ে আমাদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে কোন প্রকারের অভিযোগ না করতে হুমকি দেন। তাই বাধ্য হয়ে গত ২৪ অক্টোবর আদালতে মামলা করি।

কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান বাংলারজমিন২৪কম কে জানান, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তার ও পুলিশের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়। ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে লাশ প্রেরণ করা হয়। পূণরায় ময়না তদন্তের পর পর্যায়ক্রমে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরীন চৌধুরী বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য আদালতের নির্দেশে ওই তরুণীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..