• সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ১০:২৩ অপরাহ্ন

খুলনা কারাগারে ইতিহাসের প্রথম ‘মানবতার দেওয়াল’

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৪১

মো: মাসুদ রানা, খুলনা:

‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’ এ স্লোগান চোখে পড়ে দেশের কারাগারগুলোর প্রধান ফটকে। কারাগার হচ্ছে অপরাধীদের সাজা ভোগের স্থান, এখন সংশোধনাগারও বলা হয়ে থাকে। যেখানে প্রকৃতপক্ষে মানবতা বা সহানুভূতির বড়ই অভাব। যদিও এ ধারণা পাল্টে দিতে কারাগারগুলোকে আধুনিকায়নের নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় খুলনা জেলা কারাগার একধাপ এগিয়ে রয়েছে। এ কারাভ্যন্তরে স্থাপন করা হয়েছে ‘মানবতার দেওয়াল’। এ দেওয়ালের মাধ্যমে বন্দীদের কারও অপ্রয়োজনীয় পোশাক বা কাপড় অন্য বন্দীর প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ তৈরি করেছে। যা শুধুমাত্র খুলনা বিভাগেই নয়, সারাদেশের কারাগারের মধ্যেও প্রথম উদ্যোগ। কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে এ উদ্যোগ বিভাগের অন্য কারাগারগুলোতেও ছড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন।

জেলা কারাগারের সূত্র জানান, বন্দীদের সংশোধন, তাদের মধ্যে মানবিক গুণাবলী এবং সর্বোপরি সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির লক্ষ্যেই খুলনা জেলা কারাভ্যন্তরে ‘মানবতার দেওয়াল’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নভেম্বরের শেষের দিকেই এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। সম্প্রতি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে যার যাত্রা শুরু হয়েছে। ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন খুলনার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। এ সময় জেলা কারাগারের সুপার (তত্ত্বাবধায়ক) মো. কামরুল ইসলাম ও জেলার মো. জান্নাতুল ফরহাদ উপস্থিত ছিলেন।

এই সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে এমন অনেক বন্দী আছেন- যারা খুবই দরিদ্র-অসহায়। একই পোশাক বা কাপড় পরেই তাদের দিনের পর দিন কাটাতে হয়। কিন্তু কারও কাছে হাত পাততে পারেন না। আবার অনেকেই আছেন- যারা ধনী, সচ্ছল। যাদের কাছে নিত্য নতুন পোশাকের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হয় না। মূলত এ দু’টি শ্রেণির মধ্যে এক ধরনের সমতা ও পরস্পরের মধ্যে সহানুভূতি তৈরি করতে ‘মানবতার দেওয়াল’ স্থাপন করা হয়েছে। সচ্ছল বন্দীরা তাদের অপ্রয়োজনীয় কাপড় কি করবেন, কাকে দিবেন- এ বিষয়ে চিন্তিত না হয়ে অনায়াসেই তারা সেগুলো ‘মানবতার দেওয়াল’- এ ঝুলিয়ে রাখছেন। আবার যাদের প্রয়োজন তারা সেখান থেকে নিয়ে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে কাউকে বলা বা কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়ারও দরকার হচ্ছে না। এতে অনেকেরই প্রয়োজন মিটছে।

খুলনা জেলা কারাগারের জেলার মো. জান্নাতুল ফরহাদ বলেন, কারাগারের ভেতরে একটি টিনের শেডের নিচে কিছু জায়গায় টাইলস লাগিয়ে ‘মানবতার দেওয়াল’ স্থাপন করা হয়েছে। যাতে এসএম’র রড ও স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। এ দেওয়ালের এক প্রান্তে ‘আপনার অপ্রয়োজনীয় কাপড় এখানে রাখুন’ এবং অপর প্রান্তে ‘আপনার প্রয়োজনীয় কাপড় এখান থেকে নিয়ে যান’ লিখে রাখা হয়েছে। বন্দীরাও এতে সাড়া দিয়ে কেউ কেউ কাপড় রেখে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ নিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ১৯১২ সালে ভৈরব নদের তীরে খুলনা জেলা কারাগার নির্মাণ করা হয়। এরই মধ্যে এটি ১০৫ বছর পার করেছে। ৬০৮ জন বন্দী ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কারাগারে প্রায়ই দুই থেকে তিনগুণ বেশি বন্দী থাকে। এর কয়েকটি ভবনও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে খুলনা বাইপাস সড়কের পাশে ৩০ একর জমিতে প্রায় দুই হাজার বন্দী ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ও আধুনিক কারাগারের নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় কারাগারের উপযোগী জনবলও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডিআইজি প্রিজনের দফতরও যশোর থেকে খুলনায় স্থানান্তর করা হবে বলেও সূত্র জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..