• মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০১:৫৮ অপরাহ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট রাজবাড়ি সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৩২

সিফাতুল্লাহ, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ– চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কানসাট রাজবাড়িকে ডাস্টবিন বানানোর প্রতিবাদে ও রাজবাড়িটি সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় ৩টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্বাস সেচ্ছাসেবী সংস্থা, শ্যামপুর বন্ধন সাহিত্য সংগঠন ও কানসাট নিউজ পাঠক ফোরামের আয়োজনে ও কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় কানসাট গোপালনগর মোড় (বলাকা মার্কেটের সামনে) এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কানসাট নিউজ পাঠক ফোরামের চেয়ারম্যান মোহা. ইমরান আলীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন, কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কানসাট নিউজ উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা মো. বেনাউল ইসলাম। পাঠক ফোরামের সহসভাপতি নাদিম হোসেনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন বিশ্বাস সেচ্ছাসেবী সংস্থার সভাপতি মো. রজব আলী, সাধারণ সম্পাদক শ্রী পার্থ সাহা, কানসাট ইউনিয়ন পরিষমের সভাপতি এ্যাড. শাহিনুর রহমান শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রব, শ্যামপুর বন্ধন সাহিত্য সংগঠনের সভাপতি মো. রায়হান আলী, প্রচার সম্পাদক এইচ.এস হায়দার আহমেদ, কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে আবুল কালাম, শাহাবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে আবুল কালাম আজাদ সহ অন্যরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিশ্বাস সেচ্ছাসেবী সংস্থা, শ্যামপুর বন্ধন সাহিত্য সংগঠন ও কানসাট নিউজ পাঠক ফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

কানসাটবাসীসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ী (রাজবাড়ী)টিতে বিভিন্ন হোটেল ও দোকানের ব্যবহারকৃত ময়লা-নর্দমা ফেলার প্রেক্ষিতে অঘোষিত ডাস্টবিনটি উচ্ছেদ ও সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।

প্রধান অতিথি কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেনাউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে কানসাটের এই ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ী (রাজবাড়ী)টি সঠিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রাজ বাড়িটি ধ্বংসস্তুপে পরিণিত হওয়ায় কানসাট বাজারের বিভিন্ন হোটেল ও দোকানের ব্যবহারকৃত ময়লা-নর্দমা ফেলার ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও বাড়ীটির ছাদ ও দেয়াল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়ায় যেকোন সময় ভবন ঘেষা রাস্তার উপর পড়ে প্রাণহানির আশংকা রয়েছে।
অন্যদিকে কানসাট নিউজের চেয়ারম্যান ইমরান আলী দ্রুত ভবনটি সংষ্কারের আবেদন জানিয়ে বলেন এর আগে ২০১০ সালের ১৪ জুলাই ১৮০০ শতাব্দীর ৯০ দশকে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী কানসাটের প্রাচীনতম রাজপ্রাসাদটির ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য্য রক্ষাকল্পে সংস্কার করার জন্য তৎকালিন খনিজ জ্বালানী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর এনামুল হক এমপির সংস্কারের জন্য আবেদন জানানোর প্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালিন সহকারি সচিব আব্দুল হান্নানের স্বাক্ষরিত (যার স্মারক নম্বর সবিম/শাঃ-৬/প্রত্ব-অধি-১০/২০১০/৫৮৬ ) কানসাট রাজবাড়িটির সংরক্ষণ বিজ্ঞপ্তি গ্যাজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে সংষ্কারের নির্দেশ দেয়া হলেও অধ্যবদি তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি পরবর্তীতে প্রদান করা হবে এবং এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, কানসাটের জমিদার বাড়ির বংশের আদি পুরুষরা পূর্বে বগুড়া জেলার কড়ইঝাকইর গ্রামে বসবাস করতেন। তখন সেখানে তাদের উপর দস্যু সর্দার পন্ডিত অত্যাচার শুরু করে দেয়। তার কারণে তারা সেখান থেকে বাধ্য হয়ে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছায় এসে বসতি স্থাপন করেন। পরে আবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কানসাটে এসে বসতি গড়ে তোলেন। তারপর এখানে তারা জমিদারি প্রথা চালু করেন। তবে কবে তারা জমিদারি চালু করেন তা জানা যায়নি। এই জমিদার বংশের মূল প্রতিষ্ঠাতা হলেন সূর্যকান্ত, শশীকান্ত ও শীতাংশুকান্ত। এই জমিদাররা ছিলেন মুসলিম বিদ্বেষী। জমিদারদের মধ্যে মুসলিম বিদ্বেষী হিসেবে তাদের পরিচিতিটা বেশি ছিল। তারা ১৯৪০ সালে মুসলিমদেরকে উচ্ছেদ করার কাজে লিপ্ত হয় পড়ে। যার পরিপেক্ষীতে পরবর্তীতে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হয়। পরে শ্যামপুর চৌধুরী বাড়ির নেতৃত্বে বাজিতপুর গ্রামের ১২টি ইউনিয়েনের মুসলমানরা একসাথে হয়ে এর তীব্র আন্দোলন প্রতিবাদ জানায় এবং জমিদার বাড়ির বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। তার ফল স্বরূপ কানসাটের জমিদার শিতাংশু বাবু তার দেড়শ বিঘার ঐতিহাসিক আমবাগান,জমিদার বাড়ি সহ বিভিন্ন সম্পদ ফেলে ভারতে চলে যান।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..