• শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষের পৃথক বক্তব্য, টুপি এখনো চলছে বিতর্ক

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৩৩

বাংলারজমিন/ ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায়ের পর আদালত চত্বরেই আসামির মাথায় কথিত আইএসের প্রতীক সংবলিত টুপি নিয়ে এখনো চলছে বিতর্ক। দায় এড়াতে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ।

‘কারাগার থেকেই আইএসের প্রতীক সম্বলিত টুপি আনা হয়েছিলো’ পুলিশের এমন বক্তব্যের বিপরীতে ‘আইএসের প্রতীক সম্বলিত টুপিতে নিজেদের কারো সংশ্লিষ্টতা পায়নি’ বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। পৃথক পৃথক তদন্ত কমিটি থেকে এমন দাবি করা হয়।
বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে গঠিত ডিএমপির তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, তদন্তে কারাগারের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আসামিরা আদালতে আসার সময় কারাগারে তাদের তল্লাশি করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছে দুইটি সাদা টুপি এবং একটি কালো টুপি ছিলো। তবে কারা কর্তৃপক্ষ সেই টুপিগুলো আনতে বাধা দেননি। পোশাকের অংশ হিসেবে টুপি বাধা দেওয়ার কথাও না। তবে সেসব টুপির ভাজে সিগনিফিকেন্ট কিছু লিখা রয়েছে কি না, সেটি ফুটেজে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

‘আইএসের টুপির সঙ্গে কারাগারের কেউ জড়িত না’ কারা কর্তৃপক্ষের এমন দাবির প্রেক্ষিতে ওই কর্মকর্তা বলেন, তারা আইএসের প্রতীক সম্বলিত টুপির বিষয়ে কেউ জড়িত না বলেছেন। কিন্তু কারাগার থেকে আনা টুপির বিষয়ে কিছু বলেননি। সেই টুপির মধ্যে সিগনিফিকেন্ট সেই প্রতীক ছিলো কি না, বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

পরবর্তীতে আদালতে অন্য একটি মামলার শুনানীতে জঙ্গি রিগ্যান দাবি করেছেন, রায়ের দিন আদালতে কেউ একজন ভিড়ের মধ্যে তাকে টুপিটি দেয়।

এ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির ওই কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গি রিগ্যান এ বিষয়ে আদালতে একরকম কথা বলেছেন, আমাদের কাছে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে।

আদালতে প্রশ্নবিদ্ধ সেই টুপি দেখার পরেও পুলিশ কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি পেশাদারিত্ব কিংবা সচেতনতার ঘাটতি। টুপির বিষয়টি হয়তো উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা বুঝতে পারেননি।

অন্যদিকে ৩০ নভেম্বর কারা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির সদস্য কারা অধিদপ্তরের ডেপুটি আইজি প্রিজন্স মো. টিপু সুলতান বলেন, ‘কারা বিধি অনুযায়ী, কোনো আসামিকে কারাগার থেকে বের করে আদালতে নেওয়ার সময় এবং আদালত থেকে আবার কারাগারে প্রবেশ করানোর সময় খুবই সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি করে দেখা হয়। আমরা তদন্ত করে দেখেছি, হলি আর্টিজান হামলার রায়ের দিনেও আসামিদের তল্লাশি করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তল্লাশি করে কারা অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ সময় জঙ্গিদের কাছে কোনো ধরনের টুপির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির তদন্ত কমিটির প্রধান ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত আমরা প্রায় শেষ করে এনেছি। আজ বা কালকের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

গত ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান মামলার ৮ আসামির মধ্যে ৭ জনকে ফাঁসির আদেশ এবং একজনকে খালাস দেন।

‌মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসা‌মিরা হ‌লেন- জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, আব্দুস সবুর খান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, হাদিসুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ ও মামুনুর রশিদ। খালাস পেয়েছেন মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের পাশে অবস্থিত হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিরা হামলা চালায়। তারা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। পরে রাতেই ওখানে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা রবিউল করিম ও সালাউদ্দিন খান নিহত হন। এছাড়াও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৩১ সদস্য ও র‌্যাব-১ এর তৎকালীন পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদসহ ৪১ জন আহত হন।

পরদিন ২ জুলাই ভোরে সেনা কমান্ডোদের পরিচালিত ‘থান্ডারবোল্ট’ নামের অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হয়। এরপর পুলিশ সেখান থেকে ১৮ বিদেশিসহ ২০ জনের লাশ উদ্ধার করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও একজন রেস্তোরাঁকর্মী। আর কমান্ডো অভিযানের আগে ও পরে ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..