• শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

বেরোবিতে বি ইউনিটে প্রথম, অন্য দুই ইউনিটে ফেল : সন্দেহ সৃষ্টি

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৯৯

বেরোবি প্রতিনিধি:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (২০১৯-২০) শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষের (স্নাতক) ভর্তি পরীক্ষায় ‘বি’ ইউনিটে (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ) মানবিক শাখা থেকে রেকর্ড পরিমাণ মার্কস নিয়ে প্রথম হলেও ‘এ’ ইউনিট এবং ‘এফ’ ইউনিটে ফেল করেছে এক শিক্ষার্থী। এক ইউনিটে প্রথম হলেও অন্য দুই ইউনিটে পরীক্ষা দিয়েও ফেল করেছে মিশকাতুল জান্নাত নামের এই ভর্তিচ্ছু। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে।

এমনকি ‘বি’ ইউনিটে তিনি যে পরিমাণ মার্কস পেয়েছেন অন্য কোন ইউনিটের কোন শিফটে কেউ সে পরিমাণ মার্কস তুলতে পারেনি। জানা গেছে মিশকাতুল জান্নাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ঘনিষ্ট এক শিক্ষকের বোন ।

জানা যায়, মিশকাতুল জান্নাত ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় এ, ‘বি’ এবং ‘এফ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। গত ১৯ শে নভেম্বর সকল ইউনিটের ফল প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। এতে ‘বি’ ইউনিটের (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ) মানবিক থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মিশকাতুল জান্নাত এমসিকিউয়ে ৮০ এর মধ্যে ৬৭.২৫০পেয়েছেন। যা অন্য কোন ইউনিটে আর কেউ পায়নি। তার ‘বি’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার রোল ২৪০২৭৮। অথচ ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় শিফটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে (রোল-১৪১৭৫২) অকৃতকার্য হন মিশকাতুল জান্নাত। একইভাবে ‘এফ’ ইউনিটেও চতুর্থ শিফটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে (রোল-৬৪১৭৫১) অকৃতকার্য হন এই ভর্তিচ্ছু। মিশকাতুল জান্নাত বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার গোসাইাবাড়ী ইউনিয়নের এনামুল বারীর মেয়ে। মিশকাতুল জান্নাতের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মিশকাতুল জান্নাত দ্বিতীয় মেয়াদে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘এ’ ইউনিটে প্রথম শিফটে প্রথম স্থান অধিকারী নিলয় ঘোষ ‘বি’ ইউনিটেও প্রথম শিফটে প্রথম স্থান অধিকার করেন। একইবাবে ‘ডি’ ইউেিনট প্রথম স্থান অধিকারকারী জিহাদ রহমান ‘ই’ ইউনিটেও ৫ম স্থান অধিকার করেন। আবার ‘এ’ ইউনিটে (সাইন্স) প্রথম স্থান অধিকারকারী শানজিদা আলম করবী ‘বি’ ৭৪ স্থান অধিকার করেছেন। এরকমভাবে প্রত্যেকটি ইউনিটের ১ম থেকে ৫ম স্থান অধিকারীগণ অপর যেকোন ইউেিনটে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছেন। কিন্তু মিশকাতুল জান্নাত ‘বি’ ইউনিটে প্রথম হলেও অপর দুইটি ইউনিটে ফেল করেন। তাঁর বড় বোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়রেজী বিভাগের প্রভাষক বলে জানা গেছে। নিজের ছোটবোন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক ইমরানা বারী ভর্তি পরীক্ষার যাবতীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক ইমরানা বারীর সাথে যোগাযোগের জন্য অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে ও এসএমএস দিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ‘বি’ ইউনিটের সমন্বয়ক সোহেলা মুশতারী বলেন, ‘ইমরানা বারীর ছোটবোন এখানে পরীক্ষা দিয়েছে সেটা আমাদেরকে তিনি লিখিতভাবে জানাননি। যখন ও এডমিশনের জন্য আসল, ওকে আমরা চিনতাম। ফেসবুকে ছবি দেখেছি। ওকে (মিশকাতুল জান্নাত) দেখে আমরা স্তব্ধ হয়ে গেছি যে, এই মেয়ে এখানে কেন? এবং মোটেও আমরা খুশি হইনি। আমরা ভয়——–এবং সত্যিকারার্থেই আমরা খুশি হইনি। খুশি না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দেশের বাইরে থাকায় তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..