• রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৬:১৮ অপরাহ্ন

সকল দাবি মেনে নেয়ায় অচলাবস্থা শেষ, ক্লাসে ফিরবে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৬০

মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনঃ

সকল দাবি মেনে নেওয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা আন্দোলন সমাপ্তির ঘোষণা দিয়ে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।

০৪ ডিসেম্বর (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা একথা জানান। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেন ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান সায়েম।

এদিকে গত সোমবার রাতে র্যাগিং ও ছাত্র রাজনীতির সর্বোচ্চ শাস্তি চিরতরে বহিষ্কার নির্ধারণ করে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সবগুলো দাবি আদায় হয়েছে।

গত ৬ অক্টোবর শেরেবাংলা হলে ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী। আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন। তিনি থাকতেন বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলায় ১০১১ নম্বর কক্ষে। রাত ৩টার দিকে হল থেকেই তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করাসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি মেনে নেয়।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। মামলার পর থেকে এ পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করেছেন ডিবি।

পাঁচ সপ্তাহের তদন্ত শেষে পুলিশ গত ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিলে ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার জন্য বুয়েট কর্তৃপক্ষকে আরও ৩টি শর্ত দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শর্ত তিনটি হলো- অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বুয়েট থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার; আহসানউল্লাহ, তিতুমীর ও সোহরাওয়ার্দী হলের আগের র্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্তদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া এবং সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি ও র্যাগিংয়ের জন্য সুস্পষ্টভাবে বিভিন্ন ধাপে ভাগ করে শাস্তির নীতিমালা করে বুয়েটের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট থেকে অনুমোদন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্সে তা অন্তর্ভুক্ত করা।
গত বুধবার বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেছিলেন, তিন দফা দাবি পূরণ হলে আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা দিতে তারা প্রস্তুত। অবশেষে দাবিগুলো মেনে নেয়ায় আজ আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিলো শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, ১৩ নভেম্বর আদালতে দেয়া চার্জশিটের ২৫ আসামীর মধ্যে এজাহারনামীয় ১৬ জন এবং এজাহারের বাইরে ৫ জন।

এজাহারনামীয়রা হলেন- মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রাসেল, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো. মেহেদী হাসান রবিন, মো. মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. আকাশ হোসেন, শামীম বিল্লাহ, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. মাজেদুল ইসলাম, মোয়াজ আবু হুরায়রা ও এ এস এম নাজমুস সাদাত।

এজাহার বহির্ভূত ৫ জন হলেন- ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত ও এস এম মাহমুদ সেতু।

বাকী চারজন পলাতক। পলাতক ৪ জনের মধ্যে তিনজন মামলার এজাহারভুক্ত। পলাতক এজহারভুক্ত হলেন- জিসান, তানিন ও মোর্শেদ এবং এজাহার বহির্ভূত একজন রাফি। পলাতকদের সম্পদ ক্রোক করতে ইতিমধ্যে আদালত থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..