• শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৪১ অপরাহ্ন

অসদুপায় অবলম্বন করায় হাবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষায় আটক ১, দুই কর্মচারীর অব্যাহতি

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৬২ বার পঠিত

মোঃ মিরাজুল আল মিশকাত
হাবিপ্রবি প্রতিনিধি

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের অনার্স (সম্মান) প্রথম বর্ষের ১ম দিনের ভর্তি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে একজনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) ডি ইউনিটের ৩য় শিফটের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ড. এম. এ ওয়াজেদ ভবনের ৪০৩নং রুম থেকে ওই পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

আটককৃত পরীক্ষার্থীর নাম মো. মাহমুদুল হাসান শাকিল। পিতা মো. হাবিবুর রহমান, মাতা. মুসলিমা ইয়াসমিন, বাসা. সরিষাবাড়ি, জামালপুর। ভর্তি পরীক্ষার রোল নম্বর ৪১৯৩৭৯।

আটককৃত শাকিলের কক্ষের একাধিক ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থী জানান, পরীক্ষার ১০-১৫ মিনিট আগে ফেরোজা কালারের একজন এসে ওই শিক্ষার্থীকে দাগ দেওয়া একটি প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে। প্রশ্নপত্রটি পেয়ে ওই শিক্ষার্থী নিজের প্রশ্নপত্রটি ভাঁজ করে পকেটে রেখে দেয় এবং দাগদেয়া প্রশ্নপত্রটি দেখে ওএমআর শিট (উত্তরপত্র) পূরণ করতে থাকে। এসময় ওই শিক্ষার্থীকে সিট পরিবর্তন করে অন্য একটি সিটে দেয়া হলে সেখানেও সে দেখে দেখে দাগ দিতে থাকে।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিবাদ করা হলেও কোন স্যার-ম্যামরা এগিয়ে না আসলে আমরা ওএমআর রেখে প্রশ্নপত্র জমা দিতে যাই। তখন স্যার-ম্যামরা সময় শেষ বলে প্রশ্ন ও ওএমআর দুটোই জমা নিয়ে নেয়। অভিযুক্ত ভর্তিচ্ছুর অন্য আরেকটি ভবনে সিট হলেও সে এ ভবনে নিয়ম ভঙ্গ করে বসছিল বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

অভিযুক্ত পরীক্ষার্থী শাকিল জবানবন্দীতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং অসদুপায়ে তাকে সহায়তায় আমিনুল ইসলামের নামের একজনের কথা জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. খালেদ হোসেন জানান, ‘আমরা অভিযোগ পেয়ে শাকিল নামের ওই পরীক্ষার্থীকে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় আটক করি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের বিষয়টি স্বীকার করেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার পরামর্শ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আপাতত ঐ ছাত্রকে পুলিশি হেফাজতে দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মচারীকে ভর্তি পরীক্ষার সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমিনুল ইসলাম নামের ঐ ব্যক্তির মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন দেয়া হলে তিনি তা কেটে দেন পরে মেসেজ করে কথা বলতে চাইলেও তাঁর কোন উত্তর তিনি দেননি।

এদিকে ভর্তি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে মাৎসবিজ্ঞান অনুষদের আখলিমা নামের এক অফিস সহকারী ( কর্মচারী ) ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পরীক্ষার রুম থেকে বাহিরে নিয়ে আসেন। কিন্তু এর সাথে প্রশ্ন ফাঁস কিংবা অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে না পাওয়ায় তাকে ভর্তি পরীক্ষার সকল কার্যক্রম থেকে অব্যহতি দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ডি ইউনিটের ৩য় শিফটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন ওয়াজেদ ভবনের ৪০৩ নং রুমে দায়িত্বরত ছিলেন প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দিন , মো. কামরুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক ফাতিয়া ফারহানা ও কর্মচারী আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..