• রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন

ঢাবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সেই সনেট

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৬৭

ঢাবি প্রতিবেদকঃ

স্বপন রায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এএসএম আল সনেট। শনিবার(৩০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে তাকে মারধর ও বাইক ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনে তিনি এই মামলাটি করেন। বিষয়টি বাংলার জমিন২৪কে নিশ্চিত করেছেন সনেট।

এদিকে মারধরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর শিক্ষার্থী স্বপন রায়ের অভিযোগ সনেট দুবার তাকে সমকামিতার কুপ্রস্তাব দিলে তিনি চড় থাপ্পড় মারেন এবং সনেট বাইক ফেলে পালিয়ে যায়।

সোমবার(২ ডিসেম্বর) দুপুরে শাহবাগ থানায় করা ঐ মামলায় আসামী করা হয় স্বপন রায়কে। স্বপন রায় জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থী এবং যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগে ১ম বর্ষে পড়ছেন। তার বাড়ী নীলফামারীতে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে ‘‘স্বপন রায় আমাকে বলে আপনি কোন দিকে যাবেন, আমি তাকে বলি আপনাকে তােক চিনি না। তখন সে বলে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে থাকি, বাংলা বিভাগে পড়ি। আমাকে একটু হলের গেটে নামাই দিবেন। সে আমার মোটর সাইকেলে উঠে বসে। আমি তাকে মোটরসাইকেল যোগে টিএসসি মোড় হতে জগন্নাথ হল গেটে শনিবার (১ ডিসেম্বর) অনুমানিক রাত ৪টা ৩৫ মিনিটের সময় নামিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে সে আমার মোটর সাইকেলের চাবি থাবা মেরে নিয়ে নেয়।”

‘‘এসময় আমি তাকে বলি যে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সে আমাকে বলে তোর আইডি কার্ড দেখা। আমার আইডি কার্ড বের করলে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডাটিও নিয়ে যায়। আমাকে কোন কথা বলার সুযােগ না দিয়ে উপুর্যপরিভাবে চড়-থাপ্পর কিল-ঘুষি মেরে জখম করতে থাকে। পরে হলে থেকে আরাও ৩/৪ জন এসে আমার মোটরসাইকেল জোর করে নিয়ে যায়। পরে আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হতে চিকিৎসা নিই।”

এর আগে রোববার(১ ডিসেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম ‘ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ এ এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে সনেট এর বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ এনে স্বপন রায় লিখেন – “সত্য লুকিয়ে মিথ্যা প্রচারে আমার শিক্ষা জীবন এখন হুমকির মুখে।

গতরাতে(শনিবার), সাড়ে তিনটার সময়, টিএসসিতে একা চা খাচ্ছিলাম। তখন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ঢাবি শাখার সভাপতি আল সনেট ভাই এসে আমার পরিচয় জানতে চাইলেন, আমি পরিচয় দিলাম, আমি স্বপন রায়, জগন্নাথ হল, যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগ প্রথম বর্ষ।পরিচয় দেবার পর আমাকে বলে বাইকে উঠো, চা খেয়ে আসি,আমি তাকে আগে থেকেই চিনতাম তাই নির্দ্বিধায় তার বাইকে উঠলাম। তিনি আমাকে রমনা পার্কে নিয়ে গেলেন। নিয়ে যাওয়ার কিছু সময় কথা বলার পর তিনি আমাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়ে যান, এরপর অগ্নি শিখার এক কোণে নিয়ে আমাকে কুপ্রস্তাব দেন এবং জবরদস্তি করেন। তখন আমি বুঝতে পারি, তিনি সমকামী। তারপরে আমি বাঁচার উদ্দেশ্যে তাকে মিথ্যা বললাম, ভাই আমার কালকে এক্সাম আছে, আমাকে হলে গিয়ে ঘুমাতে হবে।

বাইকে উঠে জগন্নাথ হল গেটের সামনে এসে বাইক থামান এবং উনি আবার অশ্লীল কিছু ইংগিত করেন। তখন রাগের মাথায় কয়েকটা থাপ্পড় মারি। আর উনি মার খাওয়ার ভয়ে বাইক ফেলে বাইকের চাবি নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান।

এর ঠিক কয়েক মিনিট পরেই হল ক্যান্ডিডেট লিটন বাড়ৈ দাদাকে জানাই। সেই সময়ে হল সংসদের এজিএস অতুনু বর্মন দাদাকেও জানাই। তারা বিষয়টি জানার পরে, বাইকের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেজন্য বাইকটা হলের ভিতরে রাখতে বলেন। এরপরেই আমি, হল সংসদের ভিপি উৎপল বিশ্বাস দাদা,আমার গ্রুপের লিডার রঞ্জন রায় রাজেশ দাদা,সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাঞ্জিলাল রায় জীবন দাদা আর হল ক্যান্ডিডেট সত্যজিত দেবনাথ দাদা দের বিষয়টি জানাই।

পরে সনেট ভাই সম্পর্কে আরও জানতে পারি যে পূর্বে একই ঘটনার জন্য তাকে এফ আর হল থেকে বের করা হয়েছিল।”

এ বিষয়ে স্বপন রায় বাংলার জমিন২৪কে বলেন, আমার যা বলার তা ফেসবুকে বলে দিয়েছি। তাকে আমি চিনি, হয়তো তিনিও আমাকে চিনতেন।

সূত্র বাংলার জমিন২৪কে জানিয়েছে, এর আগে ২০১৫ সালের এপ্রিলে সমকামিতার অভিযোগে সনেটকে পিটিয়ে স্যার এ এফ রহমান হল থেকে নামিয়ে দেয়া হয়।

তবে এ অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে আল সনেট বাংলার জমিন২৪কে ২ ডিসেম্বর বলেন, তারা আমাকে মেরে দাঁত ভেঙে দিয়ে বাইক নিয়ে চলে গেছে। এখন তারা নাটক সাজিয়েছে।

বাইক পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো হাতে পাইনি। আমি এ ব্যাপারে আইনের দ্বারস্থ হবো।

সমকামিতার অভিযোগে হল থেকে বিতাড়িত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা অপবাদ ছিল। আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে এর পরে তিন বছর হলে ছিলাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..