• শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

ড. রুশাদের বাধ্যতামূলক ছুটি অবৈধ ঘোষণার রায় হাতে পাওয়া যাবে আজ

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১০৫

মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড . রুশাদ ফরিদির বাধ্যতামূলক ছুটি অবৈধ ঘোষণার রায় আজ ৩ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) হাতে পাওয়া যাবে। বিষয়টি সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে বাংলারজমিন২৪.কমকে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রুশাদ ফরিদিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে মহামান্য আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছেন, যার রায় হাতে পেতে কিছুটা সময় লেগে গেল। আজ বিকেলের মধ্যে হাতে পাবো আশা করছি।

সূত্র বাংলাজমিন২৪.কমকে জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ১২ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের এই সহকারী অধ্যাপককে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছুটিতে পাঠানোর চিঠি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। এরপর গত ২৫ আগস্ট ২০১৯, (রোববার) ড. রুশাদ ফরিদি’র বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের জবরদস্তিমূলক দেওয়া ছুটির আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুশাদ ফরিদিকে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

তবে এরপরও তিনি ডিপার্টমেন্ট এর শিক্ষক ও চেয়ারম্যান এর অসহযোগিতার কারণে ক্লাস নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ তার। গত ২৬ নভেম্বর থেকে ডিপার্টমেন্ট এর সামনে ‘আমি শিক্ষক, আমাকে ক্লাসে ফিরতে দিন’ এই লেখা সম্বলিত একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছেন তিনি। এরপর ১ ডিসেম্বর প্রতিবাদস্বরূপ সিঁড়িতেই ক্লাস নেন তিনি।

তিনি গত শনিবার (৩০ নভেম্বর) রাতে ডিপার্টমেন্টে ফিরতে না পারার কারণ সম্পর্কে বাংলারজমিন২৪.কমকে বিস্তারিত জানান। বাংলারজমিন২৪.কমকে দেয়া তার বক্তব্য-

‘আজ (শনিবার, ৩০ নভেম্বর) দেখলাম আমার অর্থনীতি বিভাগের সহকর্মীবৃন্দের প্রেস রিলিজে বিভ্রান্ত হয়ে কেউ কেউ মন্তব্য করছেন এই বলে যে উনি আগে অন্যায় করেছেন, তখন শাস্তি পেয়েছেন, এখন আর কেন। উনারা আমার পক্ষেই বলার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সেই পক্ষে বলাটাও বেশ একটু অসত্য এবং অপমানকর তথ্যের উপর ভিত্তি করে। আগের বাধ্যতামূলক ছুটিও কোন শাস্তি ছিল না। বরং তদন্তের নামে একটি দীর্ঘ প্রহসন।’

প্রথমে প্রেস রিলিজ নিয়ে কিছু বলি।
প্রেস রিলিজে বলা হচ্ছে ‘বিভাগে যোগদান করার পর ২০১২ সালে ড. রুশাদ ফরিদীর বিরুদ্ধে বিভাগের তৎকালীন অধ্যয়নরত এক ছাত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ আসে।’ আসল ঘটনা হলো ঐ ছাত্রীটি ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে পাশ করে বেড়িয়ে যায়। ২০১১ সালের মাঝামাঝি সে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে চলে যায়। আর ২০১২ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারী বিভাগে বিদেশে অবস্থানরত এই ছাত্রীর সাথে সম্পর্ক নিয়ে একটি একাডেমিক কমিটির জরুরী মিটিং ডাকা হয়।

এই জরুরী মিটিং বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল বারাকাত নিজে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ডাকেন নাই। কিছু শিক্ষক শিক্ষিকা রীতিমতন ক্যাম্পেইন করে ২০টি স্বাক্ষর সংগ্রহ করে চেয়ারম্যানকে বাধ্য করেছিল এই মিটিং ডাকতে।

আমি এই মিটিং এর পরে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হই। এই বিভাগে হাজারো গুরুতর অনিয়ম নিয়ে আমি জয়েন করার পর একাডেমিক কমিটির মিটিং এ কোন আলোচনা দেখি নাই, সেখানে ২০১০ সালে পাশ করে বেড়িয়ে যাওয়া বিদেশে অবস্থানরত এক ছাত্রীর সাথে আমার সম্পর্ক নিয়ে একটা জরুরী মিটিং আহবান করতে বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে বাধ্য করা, আমার কাছে খুবই বড় ধরনের ভন্ডামী মনে হয়েছিল। আমার এই প্রতিক্রিয়া আমি ব্যক্ত করেছিলাম এতে কোন সন্দেহ নেই। এটিকেই উনারা ‘অশোভন বাক্যবাণে আক্রমণ শুরু করেন’ বলে প্রেস রিলিজে অভিহিত করেছেন।

এর পর প্রেস রিলিজে উনারা বলছেন ২০১৫ সালে আমাকে শর্ত সাপেক্ষে বিভাগে যোগদান করার অনুমতি প্রদান করা হয়। এই শর্তটি হলো যে আমাকে তিন বছরের জন্য প্রমোশন স্থগিত থাকবে। আমি এই অন্যায্য শর্তের বিরুদ্ধেও একটি রীট মামলা দায়ের করি পরবর্তীতে। তাই আমি তাদের এই অন্যায় শর্ত মেনে নিয়েছিলাম তা কিন্তু সত্যি নয়।

শুধু তাই নয়, এর আগে সাড়ে তিন বছর ধরে (২০১২-২০১৫) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাঁড়ে দাঁড়ে আমি ঘুরেছি এই বলে যে আপনারা দয়া করে তদন্ত করে বিষয়টির সুরাহা করুন। আমি এই কথাও বলেছি যে আমাকে যদি দোষী প্রমাণ করতে পারেন তাহলে আমাকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করুন। তারপরেও বিষয়টির সমাধান করুন।
তৎকালীন ভিসি আআমস আরেফিন সিদ্দিকী বরাবর এই মর্মে একাধিক চিঠি দিয়েছি। উনার সাথে যতবার দেখা করেছি ততবার আমাকে উনি আশ্বাস দিয়েছেন এই বিষয়টির একটি দ্রুত সমাধান করবেন। আমিও বোকার মতন ভেবেছি উনি আন্তরিক ভাবেই সত্যি কথা বলছেন। হয়তো ভালো ভাবে তদন্ত সম্পন্ন করতে বেশ সময় লাগছে। কিন্তু বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে বুঝতে পারলাম যে আসলে পুরো ব্যাপারটাই তদন্তের নামে একটা প্রহসন চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করে তারপর ট্রাইবুনাল তৈরী করে বিচার কার্য সম্পাদন করতে হয়। আমার ক্ষেত্রে সেই রকম কোন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই যাওয়া হয় নাই। সাড়ে তিন বছর পার হওয়ার পর আমি যখন আসল বিষয়টি বুঝতে পারলাম তখন অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে। আসলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানতেন যে এখানে কোন অপরাধ সংঘটিত হয় নাই, তাই কোন তদন্ত করে লাভ হবে না, তাই অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাধ্যতামূলক ছুটিতে রেখে বিভাগের শিক্ষক শিক্ষিকাদের তুষ্ট রাখাটাই শ্রেয় মনে করেছেন।

আমি সেইসময় কোন আইনী প্রক্রিয়ায় যাই নাই, কারণ আমার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত নামক এরকম একটি জঘন্য প্রহসন করবে সেটি আমি বুঝতে পারি নাই শুরুতে। যখন বুঝলাম ততদিনে সাড়ে তিন বছর পার হয়ে গেছে। তাই আপোষ রফা করে বিভাগে ফিরে আসাটাই শ্রেয় মনে করেছিলাম।

এরপরে প্রেস রিলিজে যা রয়েছে তা হচ্ছে ধারাবাহিক অসত্য কথন। আমি প্রেস রিলিজ থেকে কোট করছিঃ
‘বিভাগে যোগদান করার পর রুশাদ ফরিদী তাঁর পূর্ববর্তী অশোভন আচরণের পুনরাবৃত্তি করেন। এসময় তিনি সকল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে অসত্য অভিযোগ করেন এবং অশোভন শব্দ প্রয়োগ করে পত্র ও সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালান। তখন তাঁকে তাঁর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ একাডেমিক কমিটিতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে বলা হয়। কিন্তু তিনি তা অগ্রাহ্য করে একই আচরণ অব্যাহত রাখেন।’

উপরে চারটি বাক্য রয়েছে। প্রতিটি অসত্য। প্রথম বাক্যটি পড়ে মনে হতে পারে আমি বিভাগে যোগদান করেই ঝামেলা তৈরী করতে লেগে গিয়েছি। প্রকৃত পক্ষে যা ঘটেছে তা হলো, আমি বিভাগে যোগদান করার পর বিভাগীয় চেয়ারম্যান নাজমা বেগম আমাকে পুরো একটি বছর ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন কোর্স না দিয়ে বসিয়ে রাখেন। এর কারণ হলো আমি কোর্স পেলেই ছাত্র ছাত্রীদের সাথে আমার যোগাযোগ তৈরী হবে, বিভাগে জনপ্রিয়তা বাড়বে, প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়বে, এই বিষয়গুলো উনারা কেন যেন বেশ হুমকি হিসেবে দেখেন। চেয়ার পার্সনের এই ধরনের আচরণ আমার মনে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। শুধু তাই নয়, আমি দেখি যে তখনও বিভিন্ন ধরনের গুরুতর একাডেমিক অনিয়ম বিভাগের চেয়ার পার্সন নাজমা বেগম নিজে এবং অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকারা করে যাচ্ছেন।

তখন আমি বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে সাতটি চিঠি বিভাগীয় চেয়ার পার্সন বরাবর লিখি। শুধু তাই নয়, আমাকে দ্বিতীয়বারের মতন বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর আগ পর্যন্ত এই বিষয়ে একটি বাক্যও আমি সোশাল মিডিয়াতে লিখি নাই। আমি যা করেছি তা একেবারেই প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে।

প্রেস রিলিজে আরো রয়েছে যে ‘একাডেমিক কমিটি এই প্রেক্ষিতে রুশাদ ফরিদীকে সতর্ক করলে তিনি তার কর্মকান্ডের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।’ বিষয়টি আরেকটি বড় অসত্য। ওই চিঠিতে আমি পরিষ্কার জানাই যে আমি যেই অভিযোগগুলো করেছি সেগুলো গুরুতর এবং এর কোনটাই মিথ্যা না। তাই এইজন্য আমি ক্ষমা চাইতে রাজী নই। কিন্তু আমার শব্দ চয়নে কেউ যদি আহত হয় তাহলে আমি ক্ষমা চাইতে রাজী আছি।

শুধু তাই নয়, আমি বারং বার তৎকালীন চেয়ার পার্সন নাজমা বেগমকে মৌখিকভাবে এবং চিঠিতে অনুরোধ জানাই যে আমার আনীত অভিযোগগুলো একাডেমিক কমিটিতে আলোচনা করতে। উনি একটি মিটিং এও এই অভিযোগ গুলো নিয়ে আলোচনা করেন নাই। শুধু তাই নয়, আমার জানামতে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোন রকম আভ্যন্তরীন তদন্ত এই বিভাগে হয় নাই।

পক্ষান্তরে সেই সময় আমার বিভাগের কিছু সহকর্মীদের কাছে আমি একটি বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলাম। সেই হুমকি অপসারণের জন্য তাঁরা স্রেফ গায়ের জোর কোন কারণ ছাড়াই দ্বিতীয়বারের মতন বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে দিল। যার জের আমি এখনও টানছি।

আর আমি যা বলেছি তা গত হাইকোর্টে দুই বছর ধরে চলা মামলার রায়েও প্রমাণিত হয়েছে। এরপরেও আমার বিভাগের সহকর্মীদের এই ধরনের অসত্য প্রচার সত্যি দুঃখজনক। এটি করে উনারা এক ধরনের আদালত অবমাননা করছেন কিনা সেটিও একটি বিবেচ্য বিষয় হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..