• শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের পরিবেশ ঝুঁকি বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৬০

বাংলারজমিন/ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট অভিবাসী সমস্যা সমাধানের যুতসই কর্মকৌশল তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আলোচনার পথ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের সরকার প্রধান বাস্তুচূত্য হয়ে কক্সবাজারে উপকূলে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গা ও শরণার্থী-সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হওয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করতে হবে, কেননা এ স্থানান্তরও একটি কার্যকর অভিযোজন কৌশলের মধ্যে হতে পারে, যা আমাদেরই সমর্থন করতে হবে। সুতরাং, বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে তাদের স্থানান্তর এবং সুরক্ষা বিষয়টি বিশ্বব্যাপী যথাযথ মনোযোগ দেয়া উচিত। আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য একটি যুতসই কর্মকৌশল তৈরির বিষয়ে আলোচনা শুরু করা দরকার।

প্রধানমন্ত্রী স্পেনের রাজধানী ফেরিয়া দে মাদ্রিদে (আইএফইএমএ) ‘অ্যাকশন ফর সারভাইবাল ভালনারেবল নেশনস কপ ২৫ লিডারস’ শীর্ষক সম্মেলনে এ আহ্বান জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মানব অভিবাসনের ওপর পড়তে পারে এ বিষয়টি সর্বজনস্বীকৃত। চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো এর মধ্যে সহিংস দ্বন্দ্বের চেয়েও বেশি মানুষকে স্থানচ্যুত করছে। ধীরস্থিরভাবে সমুদ্র-স্তরের বৃদ্ধি এবং মরুকরণের মতো বিষয়গুলো বিশ্বব্যাপী অনেক কম নজর দেওয়া হচ্ছে। আমাদের অবশ্যই এই ভারসাম্যহীনতা সংশোধনের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত ফোরামের (সিভিএফ) নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন আমাদের এমন পরিস্থিতি হয়েছে যে, সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকারের দাবিদার সবচেয়ে দুর্বল দেশগুলো তাদের প্রাপ্য সহযোগিতা পেতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সিভিএফ ও ভি-২০ ট্রাস্ট ফান্ড এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর নতুন বিশেষ দূত পাওয়া একটি ভালো সফলতা হতে পারে।

সিভিএফ এবং ভি-২০ কে দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ত্রিমুখী সহযোগিতার একটি মহৎ উদাহরণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বর্তমান সাফল্যের আরো বিকাশ চাই। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছি, এখন আমরা আমাদের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হুমকির মুখোমুখি হতে চলেছি। জলবায়ু পরিবর্তন এখন প্রতিটি দেশের জন্য বিশেষত বাংলাদেশের মতো জলবায়ু প্রবণ দুর্বল দেশগুলোর জন্য একটি অস্তিত্বের হুমকিতে পরিণত হয়েছে, বলেন শেখ হাসিনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..