• বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন

প্রশিক্ষণহীন ইজিবাইক চালকরা বেপরোয়া!

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৪১

মাসুদ রানা, খুলনা থেকে: সম্পুর্ণ প্রশিক্ষণহীন ইজিবাইক চালকদের কারণে প্রতিনিয়ত নগরীতৈ দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। ইজিবাইকের লাইসেন্স প্রদান করার প্রক্রিয়া এগিয়ে চললেও চালকদের জন্য নেই কোন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। এ অবস্থায় চালকদের নিবন্ধন ও তথ্য সংরক্ষণের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নগরবাসী।

এ যানটির কোনো নাম্বার প্লেট না থাকার কারণে প্রশাসনও কিছুই করতে পারছে না। পাশাপশি ভুক্তভোগীরাও সুনির্দিষ্ট যানটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও দিতে পারছেন না। ফলে কেসিসির অনুমোদনহীন ইজিবাইকগুলো দিনকে দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)র সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার ফারুক হোসেন তালুকদার বলেন, নির্ধারিত সময়ে প্রতিটি ফরম ৫শ টাকার বিনিময়ে মোট ৮ হাজার ২২২টি ফরম বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে জমা পড়ে ৭ হাজার ৮৮৮টি। যাচাই-বাছাই শেষে ৭ হাজার ৭৯২টি আবেদন সঠিক বলে সনাক্ত হয়েছে। বাকিগুলো বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে আবেদনকারী ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা পে-অর্ডার গ্রহণ করা হয়।

তিনি বলেন, অবৈধ ইজিবাইক বন্ধে ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটু সময় লাগবে। লাইসেন্স প্রদানের জন্য প্রতিটি ইজিবাইক সবুজ ও লাল রঙ করা এবং ডানপাশ দিয়ে যাত্রী ওঠানামা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে রড লাগানোর জন্য শর্ত দিয়েছে কেসিসির লাইসেন্স শাখা। যাদের কাছে মানি রিসিট রয়েছে ওই সব ইজিবাইকগুলো কেসিসির অনুমোদিত বাকিরা সবাই অবৈধ হিসেবে ধরা হচ্ছে। কেসিসির অনুমোদনহীন অবৈধ ইজিবাইকগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিববাড়ি মোড়, নগরীর গল্লামারী, সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, শান্তিধামের মোড়, পাওয়ার হাউজ মোড়, পিকচার প্যালেস, সাত রাস্তার মোড়, পিটিআই মোড়, রেলস্টেশন রোডে রাস্তার ওপর যেখানে সেখানে যানবাহন রাখা। এছাড়া যাত্রীবাহি ইজিবাইক থেকে যেখানে-সেখানে যাত্রী-ওঠানামা করছে করছে ট্রাফিক পুলিশের সামনেই। কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে নগরবাসী।

জানা গেছে, সময়ের ব্যবধানে নগরীতে ইজিবাইক সংখ্যা বেড়ে এখন ২০-২৫ হাজার দাঁড়িয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেক দায়িত্ব নেওয়ার পর শহর যানজট মুক্ত রাখতে কেসিসির আওতাধীন স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইজিবাইক চলাচলের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেন। সে হিসেবে বর্তমানে কেসিসির অনুমোদিত শহরে চলাচলে ইজিবাইক সংখ্যা ৭ হাজার ৭৯২টি। কিন্তু এর বাইরে বিভিন্ন উপজেল থেকে আসা ইজিবাইকের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার রয়েছে। এসব ইজিবাইক চালকদের নেই কোনো তথ্য। প্রতিদিন এসব অবৈধ যানবাহন কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বেপরোয়া গতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নগরজুড়ে। এসব যানবাহনের নেই বৈধ কাগজপত্র। চালকদেরও কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। নেই কোনো নাম ঠিকানাও। ফলে অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া চলাচলের কারণেই প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। অনেকে আবার আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন, কেউ বা মারাও যাচ্ছেন।

খুলনা কেএমপির (ট্রাফিক) বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন অনুমোদন ছাড়াই শহরের মধ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় ইজিবাইক চলাচল করছে।

তিনি বলেন, কোনো সাধারণ জনগণ যদি কোনো যানবাহন দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তারা যদি সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করেন তাহলে সেই ব্যক্তি আইনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাবেন। এছাড়া অবৈধভাবে চলাচলরত ইজিবাইক সিটি কর্পোরেশন নির্মূলের জন্য তাদের ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন সেক্ষেত্রে আমাদের পুলিশের ফোর্স সহযোগিতা করবে।

ইজিবাইক চালক ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০০৯ সাল থেকেই নগরীতে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচল শুরু হয়। ওই সময় একাধিক প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে এর আমদানি শুরু করে। বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা অল্প বয়সী বেকার যুবক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্ন আয়ের মানুষ ইজিবাইক কিনে বা ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছে। এদের ৯০ শতাংশের গাড়ি চালানোর ন্যূনতম ধারণা নেই। ফলে প্রায়ই কোনো না কোনো জায়গায় ঘটছে দুর্ঘটনা ও সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..