• সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ১২:২২ অপরাহ্ন

যমজ ভাইবোনের বয়সের ব্যবধান ১১ সপ্তাহ!

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯
  • ১২৪
যমজ ভাইবোনের জন্মের ঘটনা পরিচিত একটি বিষয়। তাদের জন্মের ব্যবধান হয়তো কয়েক সেকেণ্ড, মিনিট, ঘণ্টা বা কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তাই বলে যমজ ভাইবোনের জন্মের ব্যবধান ১১ সপ্তাহ, এমন ঘটনা বিরল। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটেছে কাজিকিস্তানে।

২৯ বছর বয়সী লিলিয়া কোনোভালোভা নামের এক নারী ১১ সপ্তাহের ব্যবধানে যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। জানা গেছে, লিলিয়া তার প্রথম যজম অর্থাৎ মেয়ের জন্ম দেন গত ২৪ মে । আর যমজ ছেলেটি জন্ম নেয় ৯ আগষ্টে।

এমন ঘটনা কোটিতে একটা ঘটলেও কাজিকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় জানিয়েছে, তাদের দেশে এমন ঘটনা এটাই প্রথম।

লিলিয়া যখন ২৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তখন তিনি মেয়ে শিশুরটির জন্ম দেন। লিয়া নামের ওই শিশুটির ওজন তখন মাত্র ৮০০ গ্রাম হওয়ায় তাকে এক মাস ইনটেনসিভ কেয়ারে রাখা হয়।

আড়াই মাসেরও বেশি সময় পরে লিয়ার যমজ ভাই মেক্সিম জন্ম নেয় ২ দশমিক ৮০০ গ্রাম ওজন নিয়ে।

লিলিয়া বলেন, ‘ আমার মেয়ের তাড়া থাকলেও ছেলের পৃথিবী আসার তাড়া ছিল না।’

অস্বাভাবিক হলেও প্রাকৃতিকভাবেই লিলিয়ার দুইটি জরায়ু থাকায় দুই যমজের জন্মের ব্যবধান এত বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে বলা হয় ‘ডিডেলফিস’।তারা বলছেন, ওই নারীর এই সমস্যা থাকায় যমজ দুই ভাইবোন আলাদা আলাদা জরায়ুতে বেড়ে উঠেছে।

জানা গেছে, লিলিয়ার প্রথম সন্তানের বয়স সাত বছর। কোনো রকম সমস্যা ছাড়াই তার জন্ম হয়। তবে দ্বিতীয়বার সন্তান নিতে গিয়েও তার সমস্যাটা ধরা পড়ে।

যে হাসপাতালে লিলিয়ার যমজ সন্তানের জন্ম হয়েছে সেখানকার একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই নারীর প্রথম যমজ সন্তানটি জন্ম নেওয়ার পরই আমরা তার সমস্যাটা ধরতে পারি। এ কারণে দ্বিতীয় যমজ জন্মানোর আগ পর্যন্ত তার বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে’। তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম যমজ জন্ম নেয়ার পর থেকে লিলিয়া হাসপাতালেই ছিলেন এবং মেয়ের সেবা যত্ন করেছেন। সেই সঙ্গে অধীর আগ্রহে দ্বিতীয় যমজের জন্য অপেক্ষা করেছেন’।

লিলিয়া জানান, মেয়ের জন্মের সময় এমন সমস্যার কথা জানতে পেরে তিনি হতবম্ভ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘ আমার মেয়েটি অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়ায় তার জীবন নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। কিন্তু এখানকার চিকিৎসকদের দক্ষতা আর চেষ্টার কারণে আমার দুই সন্তানই এখন সুস্থ আছে’।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুইটি জরায়ুতে আলাদাভাবে শিশুর বেড়ে ওঠা যেমন বিস্ময়কর তার চেয়েও বিস্ময়কর এতটা ব্যবধানে দুই যমজের জন্মগ্রহণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..