• শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৪২ অপরাহ্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দূর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুতে অপমৃত্যু মামলা

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৫৯ বার পঠিত

সুমন আহম্মেদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রানহানির ঘটনায় আখাউড়া জিআরপি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এই মামলাটি করেন মন্দভাগ রেলষ্টেশন মাষ্টার মো: জাকের হোসেন চৌধুরী। এতে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা তূর্নানিশীথা হোম ও আউটার সিগন্যাল অমান্য করে চলায় দূর্ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলাটিতে আরো বলা হয় এতে মেইন লাইন ব্লক হয়ে যায় এবং লোকজনের ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং কিছু সংখ্যক মারা যায়।

আখাউড়া জিআরপি থানার ওসি শ্যামল কান্তি দাশ জানান- তারা এর তদন্ত শুরু করেছেন। এদিকে দূর্ঘটনায় গঠিত বিভিন্ন তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। গতকাল বিকেলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ৪ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির প্রধান রেলপথ মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব(আইন ও ভূমি) মো. রফিকুল ইসলাম। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন রেলওয়ের প্রধান সংকেত এবং টেলিযোগাযোগ কর্মকর্তা মুঃ আবুল কালাম, যুগ্ম মহাপরিচালক (অপারেশন) মোছাম্মৎ রশিদা সুলতানা গণি ও রেলপথ মন্ত্রনালয়ের উপসচিব আলমগীর হোসেন। তারা ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন এবং ষ্টেশন মাষ্টার মো: জাকের হোসেন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তার কক্ষে বিভিন্ন রেজিষ্টার দেখেন। কয়েকটি রেজিষ্টার সঙ্গে করে নিয়ে যান। এই কমিটি আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।

ওদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত কাজ শুরু করেছে। ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এই কমিটি তাদের কাজ শুরু করে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। প্রাথমিকভাবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী,আইনশৃঙ্খলবাহিনীর সদস্যদের সাথে কথা বলেছেন তারা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিতু মরিয়মকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি হয়েছে। এই কমিটির অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তবে এই তদন্ত কমিটির কোন মেয়াদ নির্ধারন করে দেয়া হয়নি।

মঙ্গলবার ভোররাতে সংগঠিত দূর্ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং রেলপথ মন্ত্রনালয় আরো ৪টি তদন্ত কমিটি গঠন করে। মন্দভাগে ট্রেন দূর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হচ্ছে রেলওয়ের পক্ষ থেকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি একজন আহতের কাছে বুধবার দুপুরে এই টাকা তুলে দেন রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বানিজ্যিক কর্মকর্তা শওকত হোসেন মহসীন। এসময় তিনি জানান- আহত সবাই ১০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরন পাবেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী বানিজ্য কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম সাজ্জাদ। মঙ্গলবারের ওই ট্রেন দূর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়। শতাধিক যাত্রী আহত হয়। আহতদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ৪৪জন,কুমিলা হাসপাতালে ১৩ জন এবং কসবা ও আখাউড়া হাসপাতালে ২ জন করে ভর্তি হন। এরবাইরে অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নেন আহতরা।

ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পিকআপ ভ্যানে করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। ট্রেন দূর্ঘটনায় নিহত ১৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের মৃতদেহ মঙ্গলবার রাত ৯ টা পর্যন্ত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতদের বেশীর ভাগই সিলেট এলাকার।

তারপরই নিহতের হিসেবে চাঁদপুর জেলার আধিক্য। নিহতরা হলেন হবিগঞ্জ জেলার ভোল্লা সদরের ইয়াছিন আরাফাত (১২), সৈয়দাবাদ সদরের রিপন (৪৫), চুনারুঘাট তীরেরগাঁওয়ের সুজন আহম্মেদ (২৪), হবিগঞ্জ শহরের আনোয়ারপুরের আলী মোহাম্মদ ইউসুফ (৩২), চুনারুঘাটের আহম্মেদাবাদের পিয়ারা, বানিয়াচং বড়বাজারের আদিবা (২),মদনমুরকের মো: আল আমিন(৩০) এবং সিলেটের শ্রীমঙ্গলের গাজীপুরের জাহেদা খাতুন (৩০),চাদঁপুর জেলার হাজীগঞ্জের পশ্চিম রাজাগাঁও গ্রামের মজিবুর রহমান (৫৫),তার স্ত্রী কুলসুম বেগম (৩০),হাইমচর দক্ষিন তিরাশির কাকলি আক্তার (৩২).মরিয়ম (০৪), চাঁদপুর সদরের উত্তর বালিয়ার ফরজানা (১৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের ছোয়া মনি (০৩), নোয়াখালী মাইজদির রবি হরিজন (২৩), শরিয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ থানার দক্ষিন তিরাশির আমাতুন বেগম (৪১)।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..