• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:২৩ অপরাহ্ন

মহালছড়ি আম্রকানন বৌদ্ধ বিহারে ১৯তম শুভ কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান সম্পন্ন

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৮১ বার পঠিত

কলিন চাকমা, (খাগড়াছড়ি) মহালছড়ি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার বাবুপাড়া আম্রকানন বৌদ্ধ বিহারে ৮ নভেম্বর শুক্রবার ১৯তম শুভ মহান দানোত্তম কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

মহালছড়ি আম্রকানন বৌদ্ধ বিহারের দায়ক-দায়িকাদের আয়োজনে ও পানছড়ি নালকাটা ত্রিরত্ন ঐক্য পরিষদের সহযোগিতায় এই শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আজ সকাল ৯ টায় প্রবীন কুমার চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রথমে আকুতি চাকমা ও দীপ্তি খীসার উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর ভিক্ষুদের কাছ থেকে ত্রিশরণ সহ পঞ্চশীল গ্রহন করা হয়। পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন শান্তি জীবন চাকমা।

সারাদিন ব্যাপি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে পিন্ড দান, বুদ্ধ মূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, হাজার প্রদীপ দান, কঠিন চীবর দান, কল্পতুরু দান, আকাশ প্রদীপ দান সহ বিবিধ দান করা হয়।

এর আগে উপস্থিত ভিক্ষু সংঘকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরন করে নেয় আয়োজক কমিটি।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন বাবুপাড়া আম্রকানন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শাসনাপ্রিয় মহাস্থবীর, খাগড়াছড়ি কমলছড়ি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞালোক থের, পানছড়ি নালকাটা আম্রকানন জনকল্যানক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ, পানছড়ি সংঘ মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ তেজজ্যোতি থের, রাংগামাটি বেতবুনিয়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ মৌদগল্যায়ন থের ও বিভিন্ন বিহারের অধ্যক্ষসহ ভিক্ষু সংঘ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলার শত শত ধর্মপ্রান দায়ক-দায়িকা বৃন্দ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন অত্র বিহারের সভাপতি সুখময় দেওয়ান। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে দায়িক-দায়িকাদের উদ্দেশ্যে উপস্থিত ভিক্ষুসংঘ স্বধর্ম দেশনা প্রদান করেন।
স্বধর্ম দেশনায় ভিক্ষুরা সবাইকে বুদ্ধের পথ অনুসরণ করে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহবান জানান। এছাড়াও মহান কঠিন চীবর দানের ফল সম্পর্কে দেশনা প্রদান করেন ভিক্ষুরা।

উল্লেখ্য যে, কথিত আছে বুদ্ধের সময়ে বিশাখা কতৃক প্রবর্তিত হয় এই কঠিন চীবর দান। ভিক্ষুদের জন্য এক দিনের মধ্যে চীবর তৈরি করে ভিক্ষুসংঘকে দান করা হয় এই কঠিন চীবর । তখন থেকেই বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাস ব্যাপি বর্ষাবাসের পর প্রতিবছর একমাস ব্যাপি বৌদ্ধরা পালন করে আসছে এই কঠিন চীবর দানানুষ্টান।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..