• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ১২:০০ অপরাহ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯
  • ২৬ বার পঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:

আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত কোচিং বাণিজ্যে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। কোচিং বাণিজ্যের বিষয়ে পরিচালকদের সাথে কথা বলতে গেলে তাদের নেপথ্যে থাকা সরকারি দলীয় নেতাকর্মীদেরও সংবাদকর্মীদের কাছে হুমকিমুলক ফোন আসে।

অনেক কোচিং সেন্টারের মালিক আবার পুরানো কৌশল পরিবর্তন করে শিক্ষকদের নিয়ে নতুনভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের এই শিক্ষা বাণিজ্য।

বৃহষ্পতিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে শিবগঞ্জ সদরে অবস্থিত র‌্যাপিড কোচিং সেন্টারে গিয়ে দেখা যায় খোলামেলা ভাবেই কোচিং পরিচালিত হচ্ছে। যেখানে বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস করছে।

এছাড়াও শিবগঞ্জ বাজারে এ্যাডভান্স কোচিং সেন্টার, চ্যালেঞ্জার কোচিং সেন্টার, এক্সপাট কোচিং সেন্টারসহ কয়েকটি কোচিং সেন্টারে চলছে তাদের সকল কার্যক্রম।

এছাড়া উপজেলার সরকারি স্কুল কলেজ ও এমপিওভুক্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বাসা ভাড়া নিয়ে বেনামে চালাচ্ছেন এই কোচিং বাণিজ্য। কোন কোন শিক্ষক নিজের বাড়িতে ৩০/৩৫ জোড়া বেঞ্চ তৈরী করে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। একদিন পর পর এক একটি ব্যাচ পড়ানো হয়। এভাবে ৭/৮টি ব্যাচ পড়ানো হচ্ছে। ফলে ওই সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বিভিন্ন অজুহাতে অনুপস্থিত থেকেও দেদারসে চালাচ্ছে কোচিং প্রাইভেট বাণিজ্য।

কেউ কেউ ক্ষমতাসীন দলের নেতা সেজে কোচিং সেন্টার চালাচ্ছে এবং বীরদাপটে বলছেন সারাদেশে অভিযান চললেও আমাদের কোচিং সেন্টারে কেউ অভিযান চালাতে পারবেন না, সব ম্যানেজ করা আছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অবৈধ কার্যক্রম চলায় দরিদ্র শিক্ষার্থী, অভিাবক ও সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা হতাশা জানিয়েছেন। আর এসব কোচিং সেন্টারে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর ও বিকেলে এমন কি সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে শিক্ষকদের প্রাইভেট পাঠদান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদরেই রয়েছে প্রায় ৫ থেকে ৭টি কোচিং সেন্টার। এর মধ্যে উপজেলার শিবগঞ্জ পৌর এলাকার কাড়িপট্টি, শিবগঞ্জ মনাকষা মোড়ের আলুপট্টি,শিবগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকা, শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের আশেপাশের এলাকায়,মনাকষা ইউনিয়নের আদিনা কলেজের পাশে জিনিয়াস ও লেফটন কোচিং সেন্টার, কানসাট বাজার সংলগ্ন রেঁনেসা কোচিং সেন্টার, কানসাট রাজবাড়ি কোচিং সেন্টার, কানসাট কোচিং সেন্টার শ্যামপুর বাজারের আশেপাশের কোচিং সেন্টার সহ পাড়া মহল্লার বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকরা গড়ে তুলেছেন তাদের নিজস্ব প্রাইভেট কোচিং সেন্টার। সরকারী নিষেধাজ্ঞা ও আইন থাকলেও এর বাস্তব প্রয়োগ না থাকায় দিনে দিনে কোচিং, প্রাইভেট সেন্টার ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, ‘স্কুল কলেজ মাদরাসাগুলোতে যারা কোচিংবাজ শিক্ষক তারা ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে কোচিং বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, আমাদের এলাকায় এমন কোন প্রতিষ্ঠান নেই যার ২/৪ জন্য শিক্ষক প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্যের সাথে যুক্ত নেই। কিন্তু আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনা। কারণ তারা দলীয় ছত্রছায়ায় অনেক প্রভাবশালী। কিছু কিছু শিক্ষক তাদের বাসা বাড়িতে প্রকাশ্যে প্রাইভেট পড়িয়ে থাকেন।’

এ ব্যাপারে এ্যাডভান্স কোচিং সেন্টারের পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, আমি কয়েকজন বেকার শিক্ষিত যুবকদের নিয়ে এই বছর কোচিং শুরু করেছি। তবে অন্যান্য কোচিং সেন্টারের মত আমাদের কার্যক্রম অনেক কম। সরকারিভাবে কোচিং সেন্টার আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা থাকলেও আপনি কিভাবে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন এমন প্রশ্নোত্তরে তিনি বলেন, আমি আজ থেকে কোচিং চালাবো না।

এছাড়া অন্যান্য কোচিং সেন্টারের পরিচালকদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।

এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ্যাডভান্স কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. মাহবুবুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি গত বছর কোচিং সেন্টার বিক্রয় করে দিয়েছি। আমি কোচিং সেন্টারের সাথে জড়িত নয়।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বার্হী অফিসার চৌধুরী রওশন ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারী নীতিমালা অমান্য করে যারা কোচিং পরিচালনা করবে,অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।তিনি আরও জানান, ২/১ দিনের মধ্যেই প্রশাসন চালু কোচিং গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল লতিফের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

Facebook Comments

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..